মহিলাদের চওড়া কোমর দক্ষিণে আর উত্তরে মোটা পেট

প্রতীকী ছবি৷

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বেশি চওড়া কোমরের নিরিখে দেশের মধ্যে প্রথমে রয়েছেন চেন্নাইয়ের মহিলারা৷ আর, মোটা পেট অর্থাৎ, অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়া পেটের নিরিখে, যুগ্মভাবে প্রথমে রয়েছেন পুণে এবং দিল্লির মহিলারা৷ এমনই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়৷

ওই সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোটা পেটের নিরিখে পুণের মহিলারা যুগ্মভাবে প্রথম স্থানে থাকলেও, পশ্চিম ভারতের ওই শহরের মহিলারা অবশ্য বেশি চওড়া কোমরের নিরিখে রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে৷ তেমনই, বেশি চওড়া কোমরের নিরিখে চেন্নাইয়ের মহিলারা প্রথম স্থানে থাকলেও, দক্ষিণ ভারতের ওই শহরের মহিলারা, মোটা পেটের নিরিখে রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে৷

- Advertisement -

এবং, এমন তথ্য মোটেও এ দেশের ওই সব মহিলার সৌন্দর্যের কোনও মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না৷ বরং, এই ধরনের তথ্যের জেরে, বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে যারপরনায় উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত৷ কারণ, যেভাবে এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মহিলাদের মধ্যে, তাঁদের কোমর ক্রমে আরও চওড়া এবং পেটে ক্রমে আরও মেদ জমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে সৌন্দর্য নয়, তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিয়েই উদ্বেগ-আতঙ্কে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা৷

মেট্রো এবং নন-মেট্রো মিলিয়ে এ দেশের মোট ১০টি শহরে সম্প্রতি এক সমীক্ষা চালানো হয়েছে৷ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের শহরাঞ্চলের মহিলাদের মধ্যে কোন অবস্থায় রয়েছে তাঁদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়টি, তার উপর-ই চালানো হয়েছে ওই সমীক্ষা৷ সাফোলালাইফ স্টাডি ২০১৫ শীর্ষক ওই সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায়, বেশি চওড়া কোমরের মহিলাদের সংখ্যা বেশি রয়েছে চেন্নাইয়ে৷ কেননা, চেন্নাইয়ের মহিলাদের মধ্যে ৭১ শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পুণের মহিলারা৷ কেননা, ওই শহরের মহিলাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷

ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃতীয় স্থানে রয়েছেন হায়দরাবাদের মহিলারা৷ ওই শহরের মহিলাদের মধ্যে ৬৪ শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷ এর পরের স্থানগুলিতে রয়েছেন যথাক্রমে বেঙ্গালুরু, মুম্বই, দিল্লি এবং কলকাতার মহিলারা৷ ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুর মহিলাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ, মুম্বইয়ের মহিলাদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ, দিল্লির মহিলাদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ এবং কলকাতার মহিলাদের মধ্যে ২১  শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷ সাম্প্রতিক ওই সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গোটা দেশের নিরিখে, বেশি চওড়া কোমরের মহিলাদের সংখ্যা সব থেকে বেশি রয়েছে দক্ষিণ ভারতে৷

কেননা, ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রথম চারটি স্থানের মধ্যে তিনটি শহর-ই দক্ষিণ ভারতের৷ এবং, ওই সমীক্ষা অনুযায়ী-ই, দক্ষিণ ভারতের ৫৮ শতাংশ মহিলার রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷ অন্যদিকে, পশ্চিম ভারতের মহিলারা রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে৷ ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিম ভারতের মহিলাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷ তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের উত্তরাঞ্চল৷ ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, উত্তর ভারতের মহিলাদের মধ্যে ৪০ শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷ এ ক্ষেত্রে পূর্ব ভারত তথা কলকাতার মহিলাদের মধ্যে বেশি চওড়া কোমরের হার, এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শহরগুলির নিরিখে তুলনামূলক ভাবে অনেক কম৷ কারণ, ওই সমীক্ষায় প্রকাশ, কলকাতার মহিলাদের মধ্যে ২১ শতাংশের রয়েছে বেশি চওড়া কোমর৷

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ-আতঙ্ক হিসেবে মহিলাদের বেশি চওড়া কোমরের সঙ্গে রয়েছে তাঁদের মোটা পেট অর্থাৎ, পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার বিষয়টিও৷ ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে কোন অবস্থায় রয়েছে তাঁদের পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার বিষয়টি? সাম্প্রতিক ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, মোটা পেট অর্থাৎ, পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার নিরিখে এ দেশের মধ্যে যুগ্মভাবে পুণে এবং দিল্লির মহিলারা প্রথম স্থানে থাকলেও, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চেন্নাইয়ের মহিলারা৷ ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, যুগ্মভাবে পুণে এবং দিল্লির মহিলাদের মধ্যে ৮৩ শতাংশের রয়েছে মোটা পেট৷ এবং, চেন্নাইয়ের মহিলাদের মধ্যে মোটা পেট রয়েছে ৮২ শতাংশের৷

ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, মোটা পেটের নিরিখে যুগ্মভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বেঙ্গালুরু এবং মুম্বইয়ের মহিলারা৷ ওই দুই শহরের মহিলাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশের রয়েছে মোটা পেট৷ চতুর্থ স্থানে রয়েছেন হায়দরাবাদের মহিলারা৷ ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, বেশি চওড়া কোমরের নিরিখে চারমিনার-শহরের মহিলারা এ দেশের অন্যান্য শহরগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে থাকলেও, মোটা পেটের কারণে দক্ষিণ ভারতের ওই শহরের মহিলারা রয়েছেন চতুর্থ স্থানে৷ কারণ, ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, হায়দরাবাদের মহিলাদের মধ্যে ৭৭ শতাংশের রয়েছে মোটা পেট৷ এ দেশের অন্যান্য শহরের মতো কলকাতার মহিলাদের মধ্যেও ক্রমে বাড়ছে পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার প্রবণতা৷

তবে, ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, মোটা পেটের নিরিখে এ দেশের বিভিন্ন শহরের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন কলকাতার মহিলারা৷ কারণ, ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, কলকাতার ৩৩ শতাংশ মহিলার পেটে রয়েছে অতিরিক্ত মেদ৷ অন্যদিকে, সাম্প্রতিক ওই সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গোটা দেশের মধ্যে মোটা পেট অর্থাৎ, পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার কারণে প্রথমে রয়েছেন উত্তর ভারতের মহিলারা৷ কারণ, ভারতের উত্তরাঞ্চলের মহিলাদের মধ্যে ৮৫ শতাংশের রয়েছে মোটা পেট৷ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ভারত৷ ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, দক্ষিণ ভারতের মহিলাদের মধ্যে ৭৯ শতাংশের পেটে জমে রয়েছে অতিরিক্ত মেদ৷ অন্যদিকে, পশ্চিম ভারতের মহিলাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশের রয়েছে মোটা পেট৷ চতুর্থ স্থানে রয়েছেন পূর্ব ভারতের মহিলারা৷

ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, পূর্ব ভারতের মহিলাদের মধ্যে ৩৩ শতাংশের রয়েছে মোটা পেট৷ তবে, ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আরও বেশি সংখ্যক মহিলাকে নিয়ে সমীক্ষা চালানো হলে, তাঁদের বেশি চওড়া কোমর এবং মোটা পেট অর্থাৎ, পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার তথ্যে বদলও ঘটতে পারে৷ তবে, সেই বদলের তথ্য মোটেও স্বস্তির হবে না বলেই উদ্বেগ-আশঙ্কায় রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল৷ কিন্তু, এ দেশের বিভিন্ন শহরের মহিলাদের মধ্যে কেন এ ভাবে ক্রমে আরও বেশি চওড়া কোমর এবং পেটে অতিরিক্ত মেদ জমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে?  ওই সমীক্ষায় প্রাপ্ত এমন তথ্যের ভিত্তিতে, কেন-ই-বা উদ্বেগ এবং আতঙ্কে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা?

কলকাতার মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং বেসরকারি ওই হাসপাতালের-ই সিনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিয়াক সার্জন, চিকিৎসক কুণাল সরকারের কথায়, ‘‘খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং তার সঙ্গে দেরি করে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য, ওই সব মহিলার পেটে আরও বেড়ে যাচ্ছে চর্বি৷ যে কারণে, ওই সব মহিলার কোমর এবং তাঁদের নিতম্বের আকৃতির অনুপাতে বজায় থাকছে না ভারসাম্য৷ এই বিষয়টিও ওই সব মহিলার ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে৷’’ এখানেও শেষ নয়৷ ওই সমীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও রয়েছে উদ্বেগ-আশঙ্কার কারণ৷ কেননা, ওই সব মহিলার রয়েছে প্রাণসংশয়ের বিষয়টিও৷

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কুণাল সরকার বলেন, ‘‘উচ্চ মাত্রায় লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (LDL) এবং উচ্চতার সঙ্গে ওজনের অনুপাত অর্থাৎ, বডি মাস ইনডেক্স (BMI) স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মাত্রায় থাকার কারণে, মহিলাদের মধ্যে কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজেসের হার ধীরে ধীরে মহামারির পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘শারীরিক গঠন বদলে যাওয়ার সঙ্গে রয়েছে ধূমপান এবং বিভিন্ন ধরনের কাজে কায়িক শ্রম কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও৷ যে সব মহিলা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় আক্রান্ত, তাঁদের ক্ষেত্রেও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে চলেছে৷’’

Advertisement ---
---
-----