‘আমি থাকতে জঙ্গি হামলা হবে না মুম্বইয়ে’

মুম্বই:গর্ব করে বলতেন আমি থাকতে কোনও জঙ্গির ক্ষমতা নেই ফের হামলা করার৷ ভয়াবহ ২৬/১১ ঘটনার পর তাঁর মন্তব্যে সাড়া পড়ে গিয়েছিল৷ যদিও সেই হামলায় মৃত্যু হয় এটিএস প্রধান হেমন্ত কারকারেরে৷ জাঁদরেল হেমন্তের মৃত্যু অনেক রহস্যের জন্ম দিয়েছে৷ তুলেছে বিতর্ক৷ শুক্রবার মহারাষ্ট্র জঙ্গি দমন শাখার (এটিএস) প্রাক্তন প্রধান হিমাংশু রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু জন্ম দিচ্ছে একাধিক প্রশ্নের৷

১)অবসাদের জেরেই কি তিনি আত্মঘাতী?
(২)নাকি কোনও চাপের মুখে ছিলেন ?

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর, জাঁদরেল আইপিএস অফিসার হিমাংশু রায় সার্ভিস রিভলভারের গুলি নিজের উপরেই চালিয়ে দেন৷ তাঁর গুলিবিদ্ধ দেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানেই তাঁকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ প্রাথমিকভাবে যা খবর আসছে, তাতে আত্মহত্যার তত্ত্ব নিয়ে চলছে জোর চর্চা৷ জানা গিয়েছে, হিমাংশু রায় ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন৷ সেই কারণে তাঁকে অবসাদ গ্রাস করেছিল৷ তারই জেরে আত্মহত্যা করেছেন এই পুলিশ অফিসার৷

- Advertisement -

এখানেই পাল্টা প্রশ্ন, ক্যানসারে আক্রান্ত হলেও হিমাংশু রায়ের মতো রাশভারী অফিসার কি এত তাড়াতাড়ি অবসাদে পড়তে পারেন ? নিয়মিত শরীরচর্চা করার অভ্যাস ছিল৷ দেহ-মনে শক্তিশালী এই ব্যক্তিত্ব ছিলেন জঙ্গি দমন শাখার গৌরব৷ গর্ব করে বলতেন আমি থাকলে কোনও জঙ্গির নিস্তার নেই৷ মুম্বইয়ের অপরাধ জগতের ত্রাস হিসেবেও সুপরিচিত তিনি৷ তাঁকে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন ফিল্ম স্টারের সঙ্গে৷

১৯৮৮ সালের আইপিএস ব্যাচের অফিসার হিমাংশু রায়৷ ২০১৩ সালের আইপিএল স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির অন্যতম তদন্তকারী অফিসার ছিলেন৷ সেই মামলায় গ্রেফতার করা হয় অভিনেতা বিন্দু দারা সিংকে৷ এছাড়া মাফিয়া ডন দাউদের ভাই ইকবাল কায়সরের গাড়ির চালক আরিফের উপর গুলি চালানো , সাংবাদিক জে দে খুন মামলার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে যুক্ত ছিলেন তিনি৷ লায়লা খান খুনের তদন্ত করেছেন৷ দুষ্কৃতিকে সামনে থেকে চ্যালেঞ্জ করা হিমাংশু রায় ছিলেন একজন শার্প শুটার৷

আইপিএস হওয়ার পর নাসিক ছিল তাঁর প্রথম কর্মক্ষেত্র৷ পরবর্তী সময়ে আহমদনগরের এসপি, পরে ডিএসপি (অর্থনীতি বিষয়ক), ডিসিপি (ট্রাফিক) হয়েছিলেন৷ ২০০৯ সালে হন মুম্বইয়ের এসিপি৷ পরে মহারাষ্ট্র জঙ্গি দমন শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন৷ তাঁর নেতৃত্বে একের পর এক জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান হয় ৷ কয়েকটি ক্ষেত্রে জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছিলেন হিমাংশু রায়৷ তার নাম শুনেই ভয় পেত জঙ্গিরা৷ আর যারা ধরা পড়ত তাদের অবস্থা দেখে খোদ পুলিশ কর্তারাই চমকে যেতেন৷ বর্ণময় জীবন৷ এর কারণেই ছিলেন চর্চিত মুখ৷

জানা গিয়েছে, অবসরের মুখে চলে এসেছিলেন হিমাংশু রায়৷ এমন সময় ক্যানসার ধরা পড়ে৷ তাই অবসাদ তাঁকে গ্রাস করেছিল৷ এরপরেও প্রশ্ন থাকছে, কেন তিনি চিকিৎসার পূর্ণ সুযোগ নিলেন না৷ এখানেই রহস্য৷ পুলিশ ও জঙ্গি দমন বিভাগের শীর্ষ পদ সামাল দেওয়া হিমাংশু রায় কি এমন কোনও গোপনীয় বিষয় জানতে পেরেছিলেন, যা কারোর কারোর পক্ষে বিপজ্জনক৷ সেই কারণেই তাঁর উপর তৈরি হয়েছিল প্রবল চাপ৷ আর তারই জেরে দুনিয়া থেকে সরে গেলেন৷

প্রশ্ন উঠছে৷ আলোড়িত হচ্ছে মুম্বই৷

Advertisement ---
-----