চন্ডিগড়: ১২ বাই ১২ ফুটের একটি রুম৷ সেখানেই পাঁচজন লোকের একসঙ্গে বসবাস৷ কিন্তু দরিদ্র অবস্থা যে প্রতিভার প্রতিবন্ধক হতে পারে না তা প্রমাণ করেছেন পাতিয়ালার বক্সার হিমাংশু শর্মা৷

এই ১২ বাই ১২ ফুটের ঘর থেকেই যাত্রা শুরু করে বেলগ্রেড আন্তর্জাতিক বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেছেন হিমাংশু৷ মহম্মদ আলি থেকে মাইক টাইসন, বক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বিশ্বের বড় নামগুলির শৈশব যথেষ্ট কষ্টে কেটেছে৷ শৈশবের সেই স্ট্রাগলই হয়ত বক্সারসুলভ শক্ত মানসিকতা গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে৷ পাতিয়ালার হিমাংশুর শৈশবের গল্পটাও অনেকটা একই রকম৷

Advertisement

বাবা ট্রাক ড্রাইভার, মা বাড়ি বাড়ি কাজ করেন৷ বাড়িতে অসুস্থ দাদু৷ কিন্তু তাতে কী! বেলগ্রেডে রিংয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর চোয়াল লক্ষ্য করে চালানো বজ্রমুষ্ঠিগুলো একটাও বৃথা যায়নি৷ ৫-০ তে আলজেরিয়ার মহম্মদ তৌরাগকে হারিয়ে সোনার পদক গলায় ঝুলিয়েছেন হিমাংশু৷

পাতিয়ালার বক্সারের কথায়, ‘আমি যখন রিংয়ে ঢুকি আমার একমাত্র চিন্তা থাকে প্রতিদ্বন্দ্বীকে কোনরকম সুযোগ না দিয়ে চিৎ করে ফেলা৷ বেলগ্রেডে আমার একমাত্র টার্গেট ছিল সোনা জেতা৷ তাই প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখ লক্ষ্য করে পাঞ্চগুলো ছুঁড়ছিলাম৷’

ভারতের প্রতিভাবান বক্সারদের জন্য বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া এক দারুণ মঞ্চ৷ হিমাংশুর মত অনেকেই এখান থেকে উঠে এসেছেন৷ এ ব্যাপারে হিমাংশু বলেন, ‘অর্থ না থাকা এক বড় সমস্যা৷ টাকা পয়সা না থাকার কারণে আমি বক্সিংয়ের জন্য প্রয়োজনীর ডায়েটও নিতে পারতাম না৷ বক্সিং ফেডারশন অফ ইন্ডিয়া আমার কেরিয়ারকে নতুন জীবন দেয়৷ ওরাই বক্সিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে আমাকে৷’

বেলগ্রেডের পর এবার তাহলে কী? এ প্রশ্নের উত্তরে পাতিয়ালার বক্সার সোজাসুজি বলে দিচ্ছেন, ‘পরের টার্গেট জাকার্তা এশিয়ান গেমেস দেশের হয়ে পদক জেতা৷’

----
--