প্রকাশ্যে নামাজ বন্ধের দাবিতে চিঠি মুখ্যমন্ত্রীকে

গুরুগ্রাম: হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় বন্ধ করতে হবে প্রকাশ্যে নামাজ। এই দাবি নিয়ে পথে নামল গেরুয়া সংগঠন সংযুক্ত হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি। এই একই আবেদন করে চিঠি দেওয়া হল মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও।

ঘটনাটি উত্তর ভারতের রাজ্য হরিয়ানার গুরুগ্রাম এলাকার। সোমবার সকালে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় প্রকাশ্যে নামাজ বন্ধ করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে উক্ত সংস্থাটি। মিছিল শেষে সচিবালয়ে ডেপুটি কমিশনার বিনয় প্রতাপ সিং-এর কাছে স্মারকলিপি দেয় বিক্ষোভকারীরা। যদিও স্মারকলিপি মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টারকে উদ্দেশ্য করে লেখা।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ এপ্রিল থেকে। গুরুগ্রামের ওয়াজিরাবাদ এলাকার একটি মাঠে নামাজ পড়ছিলেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা। সেই সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। সেই সকল লোকেরা ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘রাধে রাধে’ স্লোগান দেয়। সেই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সক্রিয় হয় প্রশাসন।

সেই ভিডিও-র উপর ভিত্তি করে ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়। গত রবিবার তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছে। এরপরেই সোমবার বিক্ষোভ মিছিল করে সংযুক্ত হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি। তাদের দাবি, মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল উক্ত ছয় জনকে। যাবতীয় মামলা থেকে তাদের মুক্তি দিতে হবে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য ধৃতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ নেই বলেও আদালতে জানিয়েছে পুলিশ।

শুধু অভিযুক্তদের মামলা থেকে অব্যাহতি নয়। আরও একগুচ্ছ অভিযোগ করা হয়েছে সংযুক্ত হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি-র পক্ষ থেকে। তাদের বক্তব্য হচ্ছে যে ওয়াজিরাবাদের মাঠটিকে দখল করতে চাইছে কিছু লোক। তারাই ধর্মের নামে নোংরা খেলা শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, নামাজের সময় ‘হিন্দুস্তান মুর্দাবাদ’ এবং ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। তার প্রতিবাদের স্থানীয়রা। সেই কারণেই ওই মাঠে এবং আশেপাশের এলাকায় প্রকাশ্যে নামাজ বন্ধের দাবি করেছে সংযুক্ত হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি।

অন্যদিকে, সংযুক্ত হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি-র যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দা ওয়াজিদ খান। তাঁর কথায়, “নামাজের সময় আমরা কোনও কথা বলি না। স্লোগান কিকরে দেবো?”

----
-----