অর্ধশতক ধরে সম্প্রীতির গল্প বুনছে ‘বোস বাড়ির মসজিদ’

বারাসত: একমাস ধরে রোজা রাখে বসু পরিবার। তারপর ইদ। মসজিদ পরিস্কার করে সাজানো থেকে সব কাজই করেন তাঁরা। বছরের পর বছর এভাবেই নিঃশব্দে সম্প্রীতির গল্প বলে যাচ্ছে বারাসতের এই পরিবার। হৃদয়পুর আর বারাসতের মাঝে তারা যেন সব বিদ্বেষ মুছে দিতেই সাজিয়ে চলেছেন ওই মসজিদ।

নবপল্লীর ওই মসজিদের বাইরে স্পষ্ট বাংলায় লেখা, ‘প্রভুকে প্রণাম কর’। সাধারণর ‘প্রভু’ শব্দের ব্যবহার সেখা যায় ক্রিশ্চানদের মধ্যে আর প্রণাম হিন্দুদের। তবে বসু পরিবারের মসজিদের এই লেখা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেনি কোনোদিন। আশেপাশের বেশ কয়েকজন মুসলিম এখানে নমাজ পড়তে আসেন। এটি মূলত ‘বোস বাড়ির মসজিদ’ হিসেবেই পরিচিত।

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বসু পরিবার পালিয়ে আশ্রয় নেয় ভারতে। যেখানে তারা আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই জমিতে জীর্ণ অবস্থায় ছিল একটি মসজিদ। আর সেই মসজিদকেই রক্ষা করে চলেছে এই হিন্দু পরিবারের সদস্যরা। সেই থেকে গত অর্ধশতক ধরে বসু পরিবারই মসজিদটি দেখাশোনা করছে। শুধু তাই নয়, পবিত্র রমজান মাসে নিয়মিত রোজাও থাকেন এই বসু পরিবার। রোজ সন্ধেয় মসজিদে আসেন বহু হিন্দু।

বর্তমানে পার্থ সারথি বসু মসজিদটির দেখাশোনা করছেন। মসজিদটির প্রতি তার এতো টান যে তার বন্ধুবান্ধব মজা করে তাকে ডেকে থাকেন মহম্মদ পার্থসারথি বসু নামে। কিন্তু এসব মজা গায়ে মাখেন না পার্থ। তাঁদের ঠাকুরদা বলেছিলেন, কখনও কোনও ধর্মীয় স্থান ধ্বংস করবে না, বরং সেটির উন্নতির চেষ্টা করবে। আর সেটাই আজও মেনে চলে পরিবারের সদস্যরা।

তিনি রমজান মাসে সব মুসলমানদের সঙ্গে বসে ইফতার করেন। আর শুধু বসু পরিবারই নয়, এই মসজদটির জন্য অন্যান্য হিন্দু পরিবারগুলোও নানারকম সহায়তায় এগিয়ে আসেন। মসজিদের ইমাম আখতার আলি বলেন, ‘প্রত্যেকদিন সন্ধেয় স্থানীয় মানুষ, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই হিন্দু- তাঁরা আসেন মসজিদে প্রার্থনার জন্য।

বারাসতে পশ্চিম ইছাপুরের নবপল্লীতে ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমি জুড়ে বসু বাড়ি। বাড়ির প্রধান দীপক বসুর বয়স ৬৭ বছর। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় খুলনার এই বসু পরিবার নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে বারাসতে চলে আসেন।

Advertisement
---
-----