নয়াদিল্লি: তাজের সামনে থেকে সরাতে হবে হিন্দুদের প্রাচীন শ্মশান৷ নয়তো ক্ষতি হচ্ছে তাজ মহলের পরিবেশের৷ সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে রীতিমতো ক্ষুব্ধ স্থানীয় হিন্দুরা৷ এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আগ্রার স্থানীয় প্রশাসনকে৷ ৪০০ বছরের পুরোন এই স্থাপত্যকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মধ্যে এটি অন্যতম বলে মত সুপ্রিম কোর্টের৷

সুপ্রিম কোর্টে এই ইস্যুতে দুটি নির্দেশ দেয়৷ একটি ২০১১ সালে, অপরটি ২০১৫ সালে৷ সম্প্রতি ৫০০ বছরের পুরোন এই শ্মশানটিকে সরাতে হবে বলে ফের নির্দেশিকা জারি করেছে শীর্ষ আদালত৷

তাজ মহল থেকে শ্মশানটি মাত্র ৫০ মিটার দূরে৷ প্রতিদিন সেখানে শবদাহের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে৷ এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন আদালত দ্রুত এই শ্মশান স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দিয়েছে৷ সুপ্রিম কোর্টের গোচরে বিষয়টি নিয়ে আসেন এলাকার কিছু পরিবেশবিদ৷ তারপরেই মামলা দায়ের হয়৷

মঙ্গলবার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও পরিবেশবিদদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন স্থানীয় প্রশাসন৷ সেখানে এই শ্মশান স্থানান্তরিত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলে৷ তাজ গঞ্জ শ্মশান নামে পরিচিত এই এলাকায় কোথায় ও কীভাবে শ্মশান স্থানান্তরিত করা যাবে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা চলে৷ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক এন জি রবি কুমার৷ তিনি বলেনম দয়ালবাগের পইয়া ঘাটে এই শ্মশান স্থানান্তরিত করা যায়, যা তাজ মহল থেকে পাঁচ কিমি দূরে৷

উপস্থিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা অবশ্য এই পরামর্শের সঙ্গে একমত নন৷ তাদের মতে এই শ্মশানের সঙ্গেই রয়েছে কালভৈরবে মন্দির, যা হিন্দু বিশ্বাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে৷ শ্মশান স্থানান্তরিত করতে গেলে মন্দিরকেও সরাতে হবে৷ যা কোনওভাবেই সম্ভব নয়৷ তাঁদের আরও বক্তব্য তাজগঞ্জ শ্মশান হিন্দুদের দর্শনীয় পবিত্র স্থান৷ এতে হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে৷

এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে জেলাশাসক ওই শ্মশানেই একাধিক ইলেকট্রিক চুল্লি বসানোর পরিকল্পনা করেন৷ এতে পরিবেশের ক্ষতি হবে না এবং শ্মশানের স্থান পরিবর্তনেরও প্রয়োজন নেই বলে জানান জেলাশাসক৷

এছাড়াও তাজ মহল থেকে ৫০০ মিটার দূরে আরও দুটি ইলেকট্রিক চুল্লি বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ এতে ৫০০ বছরের পুরোনো শ্মশানে শবদাহের চাপ কিছুটা কমবে বলে মত জেলাশাসকের৷
এছাড়াও গোটা বিষয়টির তত্ত্বাবধানে একটি কমিটি তৈরি করেছেন জেলাশাসক৷ যে কমিটি ইলেকট্রিক চুল্লি বসানোর কাজ খতিয়ে দেখবে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে৷

----
--