কলকাতা: পাঁঠার মাংসও খাওয়া উচিত নয় হিন্দুদের। কারণ ছাগল দুধ দেয় এবং সেই দুধ খাওয়া হয়। ছাগলের দুধ নিয়মিত খেতেন ‘হিন্দুদের রক্ষাকর্তা’ মহাত্মা গান্ধী। এমনই মন্তব্য করলেন বঙ্গ বিজেপির সহ-সভাপতি চন্দ্র কুমার বোস।

আরও পড়ুন- মমতায় নরম রাহুল, পুর ভোটে বাম-কংগ্রেস জোটের ভবিষ্যত অনিশ্চিত

Advertisement

গোমাংস এবং গোমাতা নিয়ে বিতর্ক চলছে সমগ্র দেশ জুড়ে। এরই সঙ্গে দোসর হিসেবে যুক্ত হয়েছে গণপিটুনি। এই সব ঘটনার বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন চন্দ্র কুমার বোস। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটনাগুলি ঘটেছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে।

আরও পড়ুন- সাধ থাকলেও সোনিয়া-রাহুলকে ডাকার সাধ্য নেই প্রদেশ কংগ্রেসের

এই সকল বিষয় নিয়েই গেরুয়া শিবিরের অভিযুক্তদের আক্রমণ করেছেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের নাতি চন্দ্রবাবু। নিজেদের পরিবারের ইতিহাস উদ্ধৃত করে সরব হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

আরও পড়ুন- ‘মোদীর পাশে দাঁড়াতে পারবে না হতাশাগ্রস্তদের জোট’

নিজের ভেরিফায়েড ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, “গান্ধীজি প্রায়ই কলকাতায় আমার ঠাকুরদা শরৎ চন্দ্র বোসের এক নম্বর উডবার্ন পার্কের বাড়িতে আসতেন। তিনি ছাগলের দুধ খেতে অভ্যস্ত ছিলেন। সেই কারণেই আমাদের বাড়িতে দু’টি ছাগল পোষা হয়েছিল। দুধ খাওয়ার জন্য ছাগলকে মায়ের আসনে বসিয়েছিলেন হিন্দুদের রক্ষাকর্তা গান্ধীজি। হিন্দুদের সেই ছাগলে(পাঁঠা)র মাংস খাওয়া উচিত নয়।”

বঙ্গ বিজেপি-র সহ সভাপতি চন্দ্র কুমার বোসের এই ট্যুইটের জবাব দিয়েছেন তথাগত রায়। রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি তথা ত্রিপুরার রাজ্যপাল চন্দ্র বাবুর ট্যুইট রি-ট্যুইট করে লিখেছেন, “আপনার কথা অনুসারে ছাগল মাতা। এমন কথা কখনও গান্ধীজি বা আপনার ঠাকুরদা কেউই কখনও বলেননি। গান্ধীজি বা অন্য কেউ কখনও নিজেকে হিন্দুদের রক্ষাকর্তা হিসেবে দাবি করেননি। আমরা হিন্দুরা গরুকে আমাদের মা বলে মনে করি, ছাগলকে নয়। অনুগ্রহ করে এই ধরনের নোংরা মত ছড়াবেন না।”

তথাগত রায়ের আক্রমণের পরে ট্যূইট নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন চন্দ্র কুমার বোস। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তিনি বলেছেন, “গোমাংস খাওয়ার অপরাধে মানুষের উপরে আক্রমণ করা হচ্ছে। তাহলে ছাগল তথা পাঁঠার মাংস খাওয়াও বন্ধ হোক এবং গরুর মতো ছাগলকেও মা রূপে গণ্য করা শুরু হোক। কারণ আমরা ছাগলের দুধও পান করি।” রাজনীতির সঙ্গে ধর্মকে কখনোই এক করা উচিত নয় বলে দাবি করেছেন চন্দ্রবাবু।

----
--