গৌতমী সেনগুপ্ত: ঘরটাই যেন বেকারি৷ গৃহস্থের আগোছালো ঘরে ঘুরে বেড়ায় নানা রকম ক্রিমের গন্ধ৷ ক্যানভাসের উপর তুলির এক একটা রঙিন টান যেমন, পিয়ালির হাত যেন সেই তুলি৷ যা তৈরি করে ফেলে নানা স্বাদের কেক,চকোলেট থেকে কত কী৷ একসময়ের হোমমেকার গত ২ মাসে পরিণত হয়েছেন কেকমেকারে৷ বারাকপুরের রায়বাগানের বাসিন্দা পিয়ালি সরকারের নাম এখন এলাকার গন্ডি পেরিয়ে বেশ পরিচিত৷ কেক থেকে চকোলেট নিমেষে তৈরি করে ফেলেন পিয়ালি৷

পাম থেকে প্লেন, ফ্রুট থেকে বাটার, আবার রেড ভেলভেট, ট্রাফল, ব্ল্যাক ফরেস্ট, পিয়ালির ঘরোয়া বেকারি তৈরি করে ফেলে একটার পর একটা নানা স্বাদের কেক৷ বাড়ির তৈরি ক্রিম, চকোলেট দিয়েই কেক বানান পিয়ালি৷ বিশেষত্ব ঠিক এইখানেই৷ পিয়ালির টাটকা কেক পেতে রোজই অর্ডারের ঝড় বয়ে যায়৷ বারাকপুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে এক ঝারক অর্ডার আসে রোজ ৷ সবটাই একা সামাল দেন পিয়ালি৷ কেকের প্যাকেটিং থেকে ডেলিভারি একাই করেন৷ পিয়ালির কথায়, ‘‘পরিচিতি বাড়াতে হকার তো হতেই হবে, পরিশ্রম করতে ভয় পাই না, তাই কেকের ডেলিভারি একাই করি৷’

Advertisement

পিয়ালির জীবনটা হঠাৎ জলপ্রপাতের মত তীব্র হয়ে উঠেছে৷ যৌথ পরিবারের সমস্তটা একা সামলে আসছেন৷ বিয়ের পর চাকরি করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়৷ হেঁসেলের ধোঁয়াকেই ভালোবেসে ফেলেন পিয়ালি৷ বরাবরই রান্নার প্রতি অগাধ ভালোবাসা৷ বিরক্তি নয় বরং খুন্তির শব্দটাই তাঁর বেশ প্রিয়৷ ঘরের সব কাজ সেরেই টুকটাক কেক তৈরি শুরু৷ সেই কেকই এখন বারাকপুরের বেশিরভাগ বাড়িতেই অর্ডারে পৌঁছয়৷ শুধু কেক নয়, ডার্ক চকোলেট, প্যাটিস, কুকিস সবই তৈরি হয় পিয়ালির বেকারিতে, যেখানে পিয়ালি একাই শ্রমিক৷ কোনওরকম সাহায্য ছাড়াই দিনে ৪-৫টি কেক, ১০ টি কাপ কেক তৈরি করে ডেলিভারি করতে দৌড়ন পিয়ালি৷ অবশ্য স্বামী অভিজিৎ সরকারকে সবসময় পাশে পেয়েছন তিনি৷ স্ত্রীয়ের তৈরি কেকের ডেলিভারি দেন অভিজিতও৷ ব্যবসার সমস্ত খুটিনাটি তিনিই সামলান৷

প্রতিযোগিতার ময়দানে পিয়ালি নেমেছেন নিজের দক্ষতায়৷ কোথাও কি ব্র্যান্ডেড কেক বা চকোলেট বাধা হয়ে দাঁড়ায়? প্রশ্নের উত্তরে পিয়ালির অকপট বক্তব্য,‘‘সবে শুরু করেছি৷ তবে, আমার বিশ্বাস আমি প্রতিযোগিতা ভালো দিতে পারব৷’’ পিয়ালির দাবি, বাইরের কেকের ক্রিমের মান বেশিরভাগ সময়ই খারাপ হয়৷ তাই বাড়িতে নিজেই ক্রিম সহ কেকের অন্যান্য উপাদান তৈরি করেন পিয়ালি৷ আপাতত ফেসবুকে নিজের পেজ খুলেই চলছে বিকিকিনি৷ মেয়ে অর্ণার নামে পেজটি খুলেছেন, ফেসবুকে‘অর্ণা কেক’খুঁজলেই পাওয়া যাবে সমস্ত বিবরণ সহ কেকের ছবি, পিয়ালিকে যোগাযোগের নম্বরও৷

স্বপ্ন কী? পিয়ালির উত্তর, সব মহিলা যেন তাঁর মতই নিজের স্টার্ট আপ শুরু করেন৷ তাই, মহিলাদেরই কেক তৈরির প্রশিক্ষণ দিতে চান পিয়ালি৷৷ স্বপ্নও আছে ঈশাণ কোণে৷ পিয়ালির স্বপ্ন- একদিন বেকারির অন্যতম ব্র্যান্ড হয়ে উঠবে ‘অর্ণা কেক৷’হয়ত বা নাহুমসের মতোই লাইন সামলাবে পিয়ালির কনফেকসনারি৷

----
--