সোশ্যাল ঝড়ে যখন তখন ভেঙে পড়ে নিউটাউনের এই ব্রিজ!

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ব্রিজ ভাঙুক, আর রাস্তা সারাইয়ের কাজ হোক, আঙুল ওঠে হোমটাউন ব্রিজের দিকে। বছর দুয়েক আগে ওই ব্রিজের একটি ভাঙা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। তারপর থেকে যখনই কিছু দুর্ঘটনা ঘটে তখনই নিউটাউনগামী ওই ব্রিজ ভেঙে গেল গেল রব ওঠে। বর্তমান অবস্থা না জেনে না দেখে এই কাণ্ড চলে আসছে গত দুই বছর ধরেই।

২০১৬-র ৩১ মার্চ পোস্তায় ব্রিজ ভাঙে। সেই প্রথম ভাইরাল হওয়া শুরু হোমটাউন ব্রিজের ছবি। তখন সত্যিই ব্রিজের ওই অংশটিতে ফাটল ছিল। তারপর থেকে ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’-এর মতো অবস্থা রাজারহাট অ্যাক্সিস মলের সামনের হোমটাউন ব্রিজের। শহরে জোড়ে বৃষ্টি হল, ভেঙে পড়ল বলে হোমটাউন ব্রিজ। কালবৈশাখী ঝড় এল। সোশ্যাল মিডিয়া উড়ালপুলের সেই পুরনো ছবি এমন ভাইরাল হল যেন ঝড়ে এই বুঝি উড়েই গেল ব্রিজ। হিন্দুকুশে ভূমিকম্প! সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও ভাইরাল ছবি। সবাই হোমটাউন ব্রিজে হ্যাশ ট্যাগ দিয়ে সেফ মার্ক করতে শুরু করল। অনেকটা এভাবেই বারে বারে কারনে অকারনে আঙুল উঠেছে হোমটাউন ব্রিজের দিকে।

মঙ্গলবার বিকাল চারটে কুড়ি নাগাদ ভেঙে পড়ে মাঝেরহাট ব্রিজ। আর দেখে কে! শহরের সমস্ত বেহাল ব্রিজের মাঝে আবারও ভাইরাল হওয়ার হিটলিস্টের তালিকায় সেই হোমটাউনের ব্রিজ। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে সমস্যায় দেবাশীস সেন। তিনি বলেন, “এই ছবিটা দুই বছরের আগের ছবি। অনেকদিন আগে সেটা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। পাশে হোটেল রয়েছে। ভয় পাওয়ার মতো কিচ্ছু নেই। অযথা ভয় পাওয়ার কোনও কারন নেই।”

এখন যেমন ব্রিজের ভাঙা অংশ।
- Advertisement -

সোশ্যাল মিডিয়াকে কন্ট্রোল করা মানে প্রায় অসাধ্য সাধন। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ভাইরাল হওয়া আটকানো আমার হাতে নেই। কিন্তু আমি মানুষকে অনুরোধ করতে পাড়ি বাজে খবর না ছড়ানোর।” একইসঙ্গে দেবাশীসবাবু বলেন, “শুধু কাল নয় মাস চারেক আগে কোথাও কিছু নেই ফেসবুকে সেই পুরনো ছবিটা দিয়ে ভয় দেখানো চালু হয়েছিল। এভাবে গুজব না ছড়ানোই ভালো। কিন্তু যেভাবে বারবার ভাইরাল হচ্ছে পুরনো ছবি সেটা সাধারণ মানুষের কাছে অকারন ভীতির সৃষ্টি করছে।” সোশ্যাল মিডিয়া ভালো। কিন্তু সেটা নিজেকে কিছুক্ষণ এন্টারটেন করার জন্য। শহরের মানুষকে ভুল বার্তা দিয়ে ভয় পাওয়ানোর মধ্যে একেবারেই ভালো কিছু হচ্ছে না বলে মনে করছেন দেবাশীষ সেন।

গত দুই বছরে দুই ব্রিজ ভেঙে পড়ায় এমনিতেই চাপে রয়েছে রাজ্য সরকার। কালকের ঘটনার পর মানুষ ব্রিজে চড়বে না তলা দিয়ে যাবে তা ভেবে উঠতে পারছে না। তার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য চাউর হয়ে যাওয়া। সরকার থেকে আম জনতা সোশ্যাল যুগে সবাই যেন ‘না ঘরকা, না ঘটকা’।

Advertisement ---
---
-----