সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ওঁরা পৌরাণিক গল্পে ছিলেন। বাস্তবেও ছিলেন বলেই তাদের নিয়ে শিল্পকলা ফুটে উঠেছে ভারতের বিভিন্ন মন্দিরের গায়ে কখনওবা গুহাচিত্রে। ব্রিটিশ জমানায় অস্তিত্ব হারিয়েছিলেন ভারতের সমকামীরা। ব্রিটিশ জমানা শেষে এতদিন পড়ে প্রকৃত মুক্তি মিলেছে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে। কলকাতার সমকামী সংস্থা মনে করছে আদালতের বিধান কলিযুগেই ফিরিয়ে এনেছে ত্রেতা যুগের ‘সোনালি দিন’।

মঙ্গলবারেও সিল্টুদের দিকে কুনজরে দেখেছে আম জনতা। অস্তিত্ব ফিরেছে আদালতের রায়ে। আজকের পর কেউ বাঁকা কথা বললে ওঁরা প্রতিবাদ করতে পারবেন। মহাভারতের শিখণ্ডীর কথা সবাই জানেন। তিনি লড়াই করেছেন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে। খাজুরাহো , কোনারকের মন্দিরের গায়ের শিল্পকলায় মেলে সমাকামিদের সেই সময়ে অস্তিত্বের কথা। অজন্তা, ইলোরার গুহাচিত্রেও এমন বহু ছবির নিদর্শন রয়েছে যা সমকামের কথা বলছে। বলছে সমকামীদের বৈবাহিক সম্পর্কের কথাও।

পড়ুন: সমকাম এখন অধিকার, এক নজরে কি এই ৩৭৭ ধারা

কিন্তু উদারমনস্কতার যুগে কেন সমকামিতাকে ঘৃণ্য চোখে দেখা হবে? সেই নিয়েই বারবার আন্দোলন করেছেন দেশের সমকামীরা। এমনই একটি সংস্থা কলকাতার ‘আনন্দম’। ২০০৭ সাল থেকেই তারা সমকামীদের অধিকার নিয়ে লড়াই করে এসেছেন। বৃহস্পতিবার মুক্তির হাওয়া, তা যেন ফিরিয়ে এনেছে পৌরাণিক বাস্তবকে।

সিল্টু বাবুই, সংস্থার অন্যতম সদস্য। তিনি বলেন, “আমরা কালকেও ছিলাম, আজও আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। অনেকটা বছর খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। সামনে শুধুই ভালো দিন দেখতে পাচ্ছি। আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।” নিতু সংস্থার সম্পাদক। তিনি বলেন, “২০০ জনকে নিয়ে আমরা গত ১১ বছর ধরে কাজ করছি। মহাভারতে আমরা ছিলাম। আজকের ভারত যদি সত্যি মহান হয় তাহলে আজকে কেনই বা আমরা আম নাগরিকের তকমা পাব না?।”

আনন্দমের সদস্য ডঃ সোমা রায় বলেন, “পুরাণে সমকামীদের অস্তিত্ব ছিল। সে যুগে যদি আমরা মান্যতা পেয়ে থাকি। আজ কেন নয়? সুদিন ফিরে এসেছে।”

পড়ুন: ‘স্বাধীন দেশে স্বাধীন আমরা’: অশোক রাও কবি

কিন্তু সুদিন কি সত্যিই ফিরে এসেছে? আনন্দমের সমকামীরা বলছেন, এতদিনের একটা চিন্তাধারা একদিনেই বদলে যাবে না। আইনের কলমের আঁচড়ে সবকিছু বদলে যাওয়া সম্ভব নয়। সুদিনের সবে শুরু হয়েছে।

তারা বলছেন, ২০১৪ সালে রুপান্তরকামীদের সামাজিক অস্তিত্ব দিয়েছে আদালত। কিন্তু চার বছর পেরিয়েও এখনও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই আন্দোলন এখনই থামছে না।

তবে সংরক্ষণের দাবি ‘আনন্দম’ করছে না। তাদের চোখে সংরক্ষণ মানেই সমাজে থেকেও কিছুটা আলাদা হয়ে থাকা। চাহিদা শুধু প্রত্যেক সাধারণ মানুষের মতোই হোক তাদের আগামী।

----
--