স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ঐতিহাসিক রায়ে সমকামিতাকে বৈধতা দেওয়ার কয়েক ঘন্টাও পার হয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই বাংলার আরএসএসের শীর্ষনেতার বক্তব্য, “সুপ্রিম কোর্ট যাই রায় দিক না কেন সমকামিতা কখনও সমাজের অংশ হতে পারে না।”

এদিকে রায় বের হওয়ার পরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংঘের শাখা সংগঠনগুলি প্রতিবাদ জানিয়েছে৷ এএনআই সংবাদ সংস্থার খবর, সমকামিতা অপরাধ নয়, তবে একে মেনে নেওয়া যায় না বলেই জানিয়েছেন সংঘের সারা ভারত প্রচার প্রধান অরুন কুমার৷

Advertisement

২০১৩ সালে সমকামিতা অপরাধ বলে রায় দিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট৷ ২০১৮ সালে নিজেদের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনা করার কথা ঘোষণা করে শীর্ষ আদালত৷ বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ ঐতিহাসিক রায়ে ঘোষণা করে, ‘সমকামিতা অপরাধ নয়’৷

পড়ুন: আরও একবার ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্তি পেল দেশ: মানবী

এরপর পশ্চিমবঙ্গের আরএসএসের এক শীর্ষ প্রচারকের কাছে কলকাতা২৪x৭ এর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় সমকামিতা নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের এই রায়কে কোন চোখে দেখবেন ? নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এই আরএসএসের কর্মকর্তা বলেন, ‘‘দেখুন যারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন তাদের সঙ্গেও আইন থাকে৷ কিন্তু সামাজিক স্বীকৃতি তাতে কখনোই থাকে না৷ সে রকমই সমকামিতা সমাজের মূল স্রোতের অংশ হতে পারে না৷’’

তাঁর সঙ্গে সহমত হলেও সমকামিতাকে অপরাধ বলতে নারাজ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির সর্বভারতীয় এক কর্মকর্তার কথায়, ‘‘দেখুন সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আমরা সহমত৷ সমকামিতা কখনোই অপরাধ নয়৷ তবে এটি স্বাভাবিকও নয়৷’’

বিভিন্ন দেশে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে একটা সময় পর্যন্ত৷ ১৮৬১ সাল থেকে ব্রিটিশদের তৈরি ভারতীয় দণ্ডবিধি (আইপিসি) অনুসারে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়ে এসেছে৷ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুসারে সমকাম একটি দন্ডনীয় অপরাধ বলেই চিহ্নিত হয়েছিল৷ ২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট একটি রায়ে সমকামিতাকে বৈধতা দিয়েছিল৷ আর ২০১৩ সালে দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট৷ এরপর ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে দীপক মিশ্র সহ তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায়কে পুনর্বিবেচনা করার কথা জানান৷ এরপরই বৃহস্পতিবার সমকামীতা অপরাধ নয় বলে ঘোষণা করেছে শীর্ষ আদালত৷

----
--