হায়দরাবাদ: সেলফি নেশায় বুঁদ আট থেকে আশি৷ সে নেশা এতটাই মারাত্মক হয়ে উঠেছে যে কখন কোথায় সেলফি তোলা উচিত সেই বোধবুদ্ধিটুকুও লোপ পেতে বসেছে৷ বুধবার গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর জামাই নন্দমুরি হরিকৃষ্ণ৷ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়৷ সেখানে তাঁর মৃতদেহের সামনে সেলফি তুলতে দেখা গেল চার হাসপাতাল কর্মীকে৷ পরে অবশ্য সেলফি তোলার খেসারতও দিতে হয় তাদের৷ বিষয়টি সামনে আসার পরই তেলেঙ্গানার কামিনেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই চার কর্মীকে বরখাস্ত করে৷

আরও পড়ুন: মোদীর মাস্টারস্ট্রোক! পয়লাতেই আপনার দরজায় পৌঁছবে ব্যাংক

ছবিতে দেখা গিয়েছে এক ওয়ার্ড বয় মোবাইল ফোনে সেলফিটি তুলছেন৷ পিছনে বেডে প্রায় উলঙ্গ ও মৃত অবস্থায় পড়ে নন্দমুরি৷ দুই নার্স ও এক মহিলা কর্মী ক্যামেরার দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে৷ জানা গিয়েছে, নন্দমুরির মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পরই সেলফিটি তোলা৷ শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি ভাইরাল হতেই ওঠে সমালোচনার ঝড়৷ হাসপাতাল কর্মীদের কাণ্ডকারখানায় হতবাক নেটিজেনরা৷ শুরু হয় প্রতিবাদ৷ এরপরই ওই চার কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷

আরও পড়ুন: বিমানে করে আকাশ থেকে ছাড়া হচ্ছে মাছ, দেখুন সেই ভিডিও

দক্ষিণী রাজনীতির জগতে অতি পরিচিত ও প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব নন্দমুরি হরিকৃষ্ণ(৬১)৷ তিনি প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ ও অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রী ছিলেন৷ শুধু তাই নয় তাঁর বাবা অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও তেলেগু দেশম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত এন টি রামা রাওয়ের ছেলে৷ বর্তমানে দলের সভাপতি ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর জামাই৷ বুধবার নালগোন্ডা জেলায় গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন তিনি৷ পরে কামিনেনি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে৷ বৃহস্পতিবার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়৷

----
--