আড়াল করা গেল না হাসপাতালের ক্ষতচিহ্নগুলি

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ঘনঘন হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি পরিবর্তন করে এবং নিত্যনতুন বিভাগ খুলেও আড়াল করা গেল না বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্ষতচিহ্নগুলির।
শুক্রবার দিল্লি থেকে আচমকাই পরিদর্শনে আসা মেডিকেল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার সদস্যরা দেখে গেলেন সেই ক্ষতচিহ্নগুলি। তাঁরা ছবিও তুলে নেন এই অবব্যস্থাগুলির। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল প্রায় আটটা নাগাদ আচমকাই এমসিআই–এর তিন সদস্যের একটি টিম হাসপাতালে এসে পৌঁছান। দিল্লি থেকে আসা ওই টিমে ছিলেন সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক আশীষ রাজ এবং মেডিসিন বিভাগের প্রধান জিবেশ্বর ঠাকুর। সঙ্গে দু’জন ক্যামেরাম্যান। সেই সময় হাসপাতালের সুপার বা কোনও আধিকারিককেই দেখতে পাননি ওই টিমের সদস্যরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তিনটি তলা প্রথমেই ওই টিম ঘুড়ে দেখা শুরু করেন। এই বিভাগের মেঝেতে পরে থাকা রুগী এবং এক বেডে একাধিক রোগী থাকা নিয়ে প্রশ্ন করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকদের।
বিভাগের ভিতরে এবং বাইরে আবর্জনার স্তূপ দেখে ক্ষোভ প্রকাশও করেন ওই দলের সদস্যরা। সমস্ত বিষয়গুলি ক্যামেরাবন্দিও করে নেন দলের সঙ্গে আসা চিত্রগ্রাহকেরা। এরপরই তাঁরা জরুরি বিভাগের নিচের তলায় অবজারভেশন ওয়ার্ডে যান। সেখানে ঢুকে তাঁরা দেখেন ওখানকার ৩৫ টি বেডই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। বেডের অভাবে কোথাও একই বেডে একাধিক রোগী, কোথাও আবার মেঝেতেই শুয়ে থাকা রোগী এই অবস্থা দেখার পর অবজারভেশন ওয়ার্ডে এতগুলি ফাঁকা বেড দেখতে পেয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছে ব্যাখ্যা চান। কিন্তু সন্তোষজনক কোনও ব্যাখ্যা পাননি বলে সূত্রের খবর।
এর পরই টিমটি চলে যায় মেডিকেল কলেজে। সেখানে কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুশ্রী রায়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ আলোচনা করেন। ইতিমধ্যে কলেজে পৌঁছান হাসপাতালের সুপার, ডেপুটি সুপার সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা। এর পর দলটি দুটি ভাগে ভাগ হয়ে ফের হাসপাতালে চলে আসে। এমসিআই–এর একটি টিমে কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুশ্রী রায় এবং অন্য টিমে থাকেন হাসপাতাল সুপার উৎপল দাঁ। তাঁরা এরপর হাসপাতালে পৌঁছে সার্জারি, অর্থোপেডিক, মেডিসিন, শিশু ও মানষিক বিভাগ ঘুরে দেখেন। রাধারানী ওয়ার্ড এবং ব্ল্যাড ব্যাঙ্কও ঘুরে দেখেন তাঁরা। হাসপাতালের আউটডোর বিভাগের প্রতিদিনের টিকিট বিক্রির হিসাব দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা দেখাতে পারেননি বলে সূত্রের খবর। এদিন এমসিআই–এর প্রতিনিধিরা এই সফর নিয়ে বলেন, তাঁরা সমস্ত কিছু দেখে গেলেন। প্রয়োজনীয় বেশ কিছু ছবিও তুলেছেন। রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে এম সি আই-এর কাছে। এর থেকে বেশি কিছু বলা যাবে না বলে জানান ওই দলের সদস্যরা।
সুপার উৎপল দাঁ এদিনের পরিদর্শন নিয়ে জানান, সম্প্রতি তাঁরা এমসি আইএর কাছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের এম বি বি এসের ১৫০ টি আসন বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেন। সেই কারণেই আসন বাড়ানোর মতো পরিকাঠামো আছে কি না তা দেখতে এসেছেন এই টিমটি।

Advertisement
----
-----