কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় বধূকে খুনের অভিযোগ

শংকর দাস, বালুরঘাট: কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর থেকেই স্ত্রীর উপর শুরু হয় অত্যাচার। এরই মাঝে প্রকাশ পায়, জনৈক মহিলার সঙ্গে স্বামীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। প্রতিবাদ করার অপরাধেই নৃশংস ভাবে খুন হতে হয়েছে বালুরঘাট পতিরামের নিচাবন্দর এলাকার গৃহবধূ অনন্যা ঘোষকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে পতিরামের নিচাবন্দর এলাকার বাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় অনন্যা ঘোষকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা৷ তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে৷ হাসপাতালে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর।

আরও পড়ুন: অসামাজিক কাজকর্মের প্রতিবাদে হামলার অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনন্যাকে প্রথমে মাথায় আঘাত ও পড়ে গাড়ির চাকার নিচে ফেলে খুনের চেষ্টা করে তাঁর স্বামী দিবাকর৷ খুনের ঘটনাটিকে আড়াল করতে অসাবধানতা বসত গাড়ি চাকার তলায় পড়ে গিয়েই অনন্যা দেবী জখম বলে প্রতিবেশীদের কাছে চালানোর চেষ্টাও করেছিলেন তিনি৷ প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় অনন্যা ঘোষকে হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ তারপর থেকেই আড়াই বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে স্বামী ও শাশুড়ি গা-ঢাকা দিয়েছে।

মৃত অনন্যা ঘোষের বাবা অমলেন্দু দত্ত বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে রেজিস্ট্রি করে দিবাকরের সঙ্গে মেয়ে অন্যন্যার বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের একটি কন্যা সন্তান হয়৷ তারপর থেকেই স্বামী ও শাশুড়ি তাঁর উপর অত্যাচার শুরু করে।

আরও পড়ুন: বাজপেয়ীকে দেখতে এইমসে গেলেন মোদী

শুধু তাই নয় বিয়ের আগে থেকেই অন্য আরেক মহিলার সঙ্গে দিবাকরের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর যা প্রকাশ্যে এলে অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সাত মাস আগে আড়াই বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল৷ তারপর গৌড়বঙ্গ বিশ্ব বিদ্যালয়ের এমএ পার্ট-টু পরীক্ষায় বসার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন তিনি।

গত ১০ জুন গৌড় লিংক ট্রেনে কলকাতা থেকে পরিচারিকার সঙ্গে সে বালুরঘাটে ফিরছিল। বালুরঘাটের ঠিক আগের স্টেশন মল্লিকপুরে ট্রেন থেকে শিশু সমেত তাঁকে জোর করে দিবাকর নামিয়ে নেয়। সেখান থেকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে স্বামী ও শাশুড়ি দুইজনে অত্যাচার শুরু করে৷ সেদিন রাতে মারধরের সঙ্গে মাথায় আঘাত করে তাঁকে খুন করে বলে মৃতের বাবার অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুন: ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে উধাও লক্ষাধিক টাকা

এদিকে সোমবারই বালুরঘাট হাসপাতালে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতে অনন্যা ঘোষের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মৃতের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বধূ নির্যাতন ও খুনের মামলা শুরু করেছে পুলিশ। কি কারণে এই খুন তা জানতে ঘটনার তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ।

এই বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্বামী ও শাশুড়ি বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলা শুরু করা হয়েছে। মৃত মহিলার বাবা অমলেন্দু দত্তর করা অভিযোগ অনুসারে জানা গিয়েছে যে আড়াই বছর আগে ওই দম্পতির একটি কন্যা সন্তান হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় অনন্যা দেবীর উপর অত্যাচার।

আরও পড়ুন: আইএসের আত্মঘাতী হামলায় প্রাণ হারাল ১২

অন্য আরেক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কের কথাও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। খুনের পেছনে কি কারণ রয়েছে সেই বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কীভাবে খুন করা হয়েছে তা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। শিশুটিকে উদ্ধার করে ও দিবাকর ঘোষ সহ তার মা অর্চনা ঘোষকে খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে বলেও পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

----
-----