জানুন কেমন করে সরকার প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে টাকা দিতে পারে

শান্তিনিকেতন: প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিঃশর্ত ভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা হতেই পারে। কারণ ‘ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম’ বা সকলের জন্য ন্যূনতম বেতন তত্ত্বের কথা প্রসঙ্গে সেটাই ব্যাখ্যা করেছেন অর্থনীতিবিদ প্রণব বর্ধন৷

রবিবার বিশ্বভারতীর বাংলাদেশ ভবনে অশোক রুদ্র স্মারক বক্তৃতার উদ্বোধনের সময় এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়৷ যা শুনলে তা কল্পরাজ্য (ইউটোপিয়া) মনে হলেও অর্থনীতির দিক থেকে এর ব্যাখ্যা করেছেন এই অর্থনীতিবিদ৷ ওই আলোচনা সভায় হাজির ছিলেন নোবলেজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনও৷

‘ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম’ সাধারণ ভাবে ‘সর্বজনীন অনুদান’ বলা হয়ে থাকে। এই সর্বজনীন অনুদানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুরক্ষার অধিকারটাও টানা হয়েছে৷ ফলে প্রণব বর্ধনের দৃষ্টিকোণে এটি নিছক দারিদ্রদূরীকরণ প্রকল্প নয় বরং এটি ঘিরে রয়েছে অধিকারের প্রশ্নও। তখন এই অর্থনীতিবিদ মনে করিয়ে দেন এমন আইডিয়াটি নতুন নয়। কারণ তা রয়েছে টমাস মোর ভাবনায়, যা ১৫১৬ সালে তাঁর ‘ইউটোপিয়া’ গ্রন্থে রয়েছে।

এই ‘ইউটোপিয়া’ বা কল্পরাজ্য আর এই ‘ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম’ বা ‘সর্বজনীন অনুদান’ যে নামেয় ডাকা হোক না কেন বাস্তবে এই টাকা কেমন করে আসবে তা নিয়েই রয়েছে প্রশ্ন ৷ সেক্ষেত্রে প্রণব বর্ধনের পরামর্শ হল – ধনীদের জন্য ভর্তুকি বাতিল, মোট কর ছাড়ের পরিমাণ হ্রাস এবং উত্তরাধিকার কর বা সম্পত্তি করের মতো নতুন কর বসিয়ে সেই অর্থ জোগাড় করা যেতে পারে।

তাঁর হিসেব অনুযায়ী ওই ভাবে তোলা অর্থের এক চতুর্থাংশও যদি সর্বজনীন অনুদান বাবদ খরচ করা যায়, তাহলে এদেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে বছরে ১৬০০০ টাকা পৌঁছে যেতে পারে৷ তবে এই পদ্ধতি গ্রহণ করলে জনশিক্ষা স্বাস্থ্য ব্যাহত হবে কিনা প্রশ্ন তোলেন অমর্ত্য সেন৷

প্রতীকী ছবি

যেহেতু বিষয়টার পিছনে অধিকারের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে ফলে সকল নাগরিক বলতে ধনীরাও এর আওতায় পড়বেন কি না৷ যেহেতু নিজেদের সুরক্ষা তারা করতে পারলেও ধনীরাও পুলিশি সুরক্ষার অধিকার পেয়ে থাকে ঠিক তেমনই এ ধরনের অনুদান ধনী-দরিদ্র উভয়েই পেতে পারেন৷ কারণ যদি এক্ষেত্রে ধনী দরিদ্রের বাছবিচার করা হয় তাহলে আখেরে বঞ্চিত হতে পারে বহু দরিদ্র বলেই মনে করা হচ্ছে৷

---- -----