অর্থমন্ত্রীর কিডনি প্রতিস্থাপন কতদিনে? জানতে আরটিআই’য়ের ভাবনা

কলকাতা: তিনদিন আগে ফেসবুক পেজে ক্ষোভের সঙ্গে সুনন্দা ব্রহ্ম লিখেছিলেন, অরুণ জেটলি, সুষমা স্বরাজের মতো ব্যক্তিদের কিডনি প্রতিস্থাপন করতে সাত দিন সময় লাগে৷ অথচ সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে বহুদিন অপেক্ষা করতে হয়৷ তারা কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ সহজে পান না৷

গতকাল আরও একটি লেখা নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন সুনন্দা ব্রহ্ম৷ তাতে তিনি লেখেন, আরটিআই করে জানতে হবে অরুণ জেটলির ঠিক কতদিন সময় লেগেছে অনাত্মীয়ের কাছ থেকে ডোনারের ছাড়পত্র পেতে৷

- Advertisement -

দেশের সংবিধান সবাইকে সমানাধিকার দিয়েছে৷ কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটাই হয়৷ ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের কাছে সংবিধানের মানে হয় একরকম আর সাধারণ মানুষের কাছে হয় আরেক রকম৷ অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির কিডনি প্রতিস্থাপনের পর দেশের সংবিধান ব্যবস্থা নিয়ে মুখ খুলে প্রথম ফেসবুকে একটি লেখা পোস্ট করেন মহানগরের বাসিন্দা সুনন্দা ব্রহ্ম৷ পোস্টটি ৩৬৭ বার শেয়ার হয়েছে৷ ১৫৪ জন তাতে কমেন্ট করেছেন

ওই পোস্টে অরুণ জেটলির দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন সুনন্দা দেবী৷ পরে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘‘আজ বুঝতে পারলাম দেশে বেঁচে থাকার জন্য সমানাধিকার আমার নেই৷ কয়েক মাস আগে আমার কিডনি খারাপ হয়ে যায়৷ আমার থেকে কম আর্থিক সার্মথ্যের মহিলা আমায় কিডনি দান করতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু ডাক্তাররা ওই মহিলার কিডনি আমার শরীরে প্রতিস্থাপনের অনুরোধ বাতিল করে দেন৷ এখন ডায়ালিসিস করেই বেঁচে থাকতে হচ্ছে আমায়৷ তার জন্য আমার শরীরে এখন কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে৷’’

এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন সুষমা স্বরাজ বা অরুণ জেটলির মতো মানুষেরা কি করে এক সপ্তাহের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করাতে পারেন? আর ডাক্তারাও তাঁদের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে রাখেন৷ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রাতারাতি ছাড়পত্র পেতেও কোনও অসুবিধা হয় না তাঁদের৷ প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের জীবন কি সাধারণ মানুষের জীবনের থেকে দামি? সাধরণ মানুষ কেন ভুক্তভোগী হবেন? সুনন্দা ব্রহ্মের এই পোস্ট ফেসবুকে ছোটখাটো ঝড় তুলে দেয়৷

Advertisement
---