প্রশিক্ষণ নিয়েই ধ্বংস করা হয়েছিল বাবরি মসজিদ

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের আগে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়েছিল৷ যা ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন প্রবীণ জৈন নামে এক চিত্র সাংবাদিক৷ যিনি পরবর্তীকালে বাবরি ধ্বংস মামলা প্রধান সাক্ষীও হয়েছিলেন৷ প্রবীণ জানাচ্ছেন, কীভাবে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের আগে প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়৷ হিন্দু কর সেবকের বিশাল বাহিনী ’৯২-এর ৫ ডিসেম্বর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন৷ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিশেষ অনুমতি নিয়ে সেই প্রশিক্ষণ ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন প্রবীণ৷

প্রবীণ জৈন

এক সাক্ষাৎকারে আলোকচিত্রী প্রবীণ জানান, অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের ঠিক পাশেই খালি জমিতে বড় পাথরের চাঁই ছিল৷ সেই পাথরকে ভাঙার মাধ্যমেই বাবরি ধ্বংসের প্রশিক্ষণ নেওয়া হচ্ছিল৷ প্রবীণের বয়ান অনুসারে, পাথরের উপর ছিল কয়েকশো করসেবক বাহিনী৷ নীচেও বাহিনীর জমায়েত ছিল৷

পাথরের ঢিবিকে লোহার মোটা গ্রিল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছিল৷ গ্রিলের সঙ্গে থাকা লোহার চেন ধরেছিল এক এক জন ‘কর সেবক সেনা’৷ সেই চেন ধরেই পাথর ভাঙার কাজ শুরু হয়৷ পাথরের বড় ঢিবিকেই বাবরি মসজিদ ভেবে চলছিল প্রশিক্ষণ৷ পাথরের উপর দাঁড়িয়েই ছবি তুলছিলেন প্রবীণ জৈন৷ তিনি জানাচ্ছেন, প্রশিক্ষণরত বিভিন্ন সেনা লোহার চেন ধরে মানব গেট তৈরি করেছিল৷ সেই একই মানব গেট বাবরি ধ্বংসের সময় তৈরি হয়৷

- Advertisement -

কর সেবক সেনাদের মধ্যে একজন মুখ ঢেকে নির্দেশ দিচ্ছিলেন৷ তিনিই বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মূল পরিকল্পনায় ছিলেন৷ ৫ ডিসেম্বর গোটা রাত ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়েই চলছিলে প্রশিক্ষণ৷ পুরোপুরি পরিকল্পনা নিয়েই বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়, বলেই দাবি এই চিত্র সাংবাদিকের৷

সেই মহড়া

শুধু তাই নয়, ৪ ডিসেম্বর ওই এলাকার হোটেলে ওঠেন বিজেপির হেভিওয়েট নের্তৃত্ব৷ প্রশিক্ষণের কথা জানতেন তাঁরা৷ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আই কার্ড গলায় ঝুলিয়ে ছবি তুলেছিলেন জৈন৷ শুধুই লোহার গেট নয়, বড় বড় হাতুড়ি দিয়ে সেনাদের পাথরও ভাঙতে দেখেন প্রবীণ৷

এরপর আসে ৬ ডিসেম্বরের সেই সকাল, যা দেশের রাজনৈতিক পটভূমিকে বদলে দিয়েছিল৷ একই উৎসাহ নিয়ে বাবরি মসজিদে হাজার হাজার কর সেবক সেনা জমায়েত হয়৷ ধ্বংসলীলা দেখতে বিশেষ ভিভিআইপি আসন করা হয়৷

যেখানে উপস্থিত ছিলেন লালকৃষ্ণ আদবানি,উমা ভারতী সহ অনেকেই৷ যার ছবিও তোলেন প্রবীণ জৈন৷ তবে, ধ্বংস প্রক্রিয়া শুরু হতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়,জৈন জানাচ্ছেন, মসজিদ চত্বরে সাংবাদিক বা চিত্র সাংবাদিকদের উপর হামলা চলে৷ প্রবীন জৈন নিজে ভিভিআইপি জোনে ঢুকে সাহায্য চান, কিন্তু প্রত্যেকেই নির্বিকার ছিলেন বলে দাবি৷

বাবরি মসজি ধ্বংস হয়৷ রাজনৈতিক মগজেই ঐতিহাসিক স্থাপত্য রেহাই পায় না৷ ২৬ বছর কেটে গেছে, এখনও অধরা বাবরির মামলার রায় দান৷ জৈন জানাচ্ছেন, বাবরি মামলার বেশিরভাগ সাক্ষীই আর জীবিত নেই৷ তাঁকেও মূল সাক্ষী করে মামলার গতি বাড়েনি৷ ২০১৯ সালের মধ্যে বাবরি মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ জৈন জানাচ্ছেন, রাজনীতির খেলায় সেই রায়ও গা বাঁচানোরই হবে৷

Advertisement
---