হাতে টাকা না থাকলেও একটা বাড়ি করার ইচ্ছে তো থাকে অনেকের৷ আর সেক্ষেত্রে মুশিকল আসান করতে পারে গৃহঋণ৷ কিন্তু সেটা যাতে কোনও মতেই প্রত্যাখ্যান না হয় যায় সে ব্যাপারে আবেদনকারীর সতর্ক থাকাটা একান্ত জরুরী৷

প্রথমত ক্রেডিট কার্ডের টাকা ঠিক মতো না দেওয়া থাকলে গৃহঋণের অনুমোদন আটকে যায়৷ অনেক সময় ক্রেডিট কার্ডে ভুয়ো বিল দেওয়া নিয়ে মতবিরোধের জেরে সেই কার্ডের টাকা জমা দেওয়া হয় না কিংবা অন্যত্র নতুন চাকরি নিয়ে চলে যাওয়ার জেরে মেটানো হয়নি পুরনো কার্ডের টাকা৷ কিন্তু এমন ঘটনা ঘটলে গৃহঋণ পেতে অন্তরায়৷ সেক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের বিলের টাকা মিটিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা সংস্থার সঙ্গে বোঝাপড়া করে নেওয়া দরকার৷ নইলে গৃহঋণ প্রত্যাখ্যান আটকানো যাবে না৷

দ্বিতীয়ত, যদি ইতিমধ্যেই ঋণের দায় খুব বেশি হয় তখন আটকে যেতে পারে গৃহঋণের অনুমোদন৷ কারণ ঋণের অনুমোদন দেওয়ার আগে ব্যাংক বা আর্থিক সংস্থা দেখে নিতে চাইবে ওই ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমতা কতটা রয়েছে ৷ আবেদনকারীর আয়ের ভিত্তিতে তাঁর ঋণের পরিমাণ নির্ধারিত হয় ৷ এখন তিনি ইতিমধ্যে গাড়ি ফার্নিচার ইত্যাদি জন্য অনেক টাকা ঋণ করে ফেলেছেন তারজন্য একটা বড় অংকের টাকা ইএমআই দিতে হচ্ছে ৷ তখন তার পক্ষে ওই আয়ের ভিত্তিতে আরও ঋণ পাওয়া সম্ভব নয় ৷ অর্থাৎ তেমন পরিবেশে তাঁর গৃহঋণের আবেদন না মঞ্জুর হওয়া খুবই স্বাভাবিক৷

তৃতীয়ত আবেদনকারীর ঠিকানায় থাকা আগে কোনও ব্যক্তি ঋণখেলাপি হলে সমস্যায় পড়তে পারেন৷ কিংবা বিশেষ কোনও এলাকায় বেশ কয়েকজন ঋণখেলাপি থাকলে তখন গৃহঋণদাতা সংস্থা ওই এলাকা অথবা ওই ঠিকানার কোনও আবেদনকারীর ঋণ না মঞ্জুর করার প্রবণতা থাকে৷

চতুর্থত, আগের ঋণদাতা সংস্থার কাছ থেকে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) নেওয়া জরুরী৷ কারণ অনেক সময় কোনও ঋণগ্রহীতা ইএমআই দিয়ে কর্তব্য শেষ বলে মনে করেন ৷ কিন্তু শেষ কিস্তি মেটানোর পর ব্যাংক বা আর্থিক সংস্থার কাছ থেকে একটি এনওসি নিয়ে আসা উচিত ৷ কারণ নতুন করে যখন আবার গৃহঋণের আবেদন করা হয় তখন আগের ঋণদাতার সংস্থাকে যে ঋণের টাকা পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে তা বলে রাখা জরুরী৷ নইলে আগের ঋণ পরিশোধ হয়নি এই কারণে আটকে যেতে পারে গৃহঋণের অনুমোদন৷

পঞ্চমত, অন্য কারও ঋণের গ্যারান্টার হলে এবং সেই ঋণের টাকা বকেয়া থাকলে আটকে যেতে পারে আবেদনকারীর ঋণ৷ মনে রাখা দরকার অন্য কারও নেওয়ার ঋণের গ্যারান্টার হওয়া মানে সেই ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ না করলে তার দায় এসে পড়বে গ্যারান্টারের ঘাড়ে ৷ ফলে কারও ঋণের গ্যারান্টার হলে এবং সেই ঋণ অদেয় থাকলে আবেদনকারী গৃহঋণের আবেদন মঞ্জুর হবে না৷

----
--