শ্রীনগর: নিয়মিত সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন, জঙ্গি হামলা আর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত কাশ্মীর। গত সাতদিনে পুঞ্চ, রাজৌরি সেক্টর জুড়ে পাক সেনা সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করেছে। সমস্যা আজকের নয়, বহুদিন ধরেই চলছে এই সমস্যা। কিন্তু তাও পরিস্থিতিকে আয়ত্তে আনা যায়নি।

মোদী সরকারের পাল্টা জবাব, সার্জিকাল স্ট্রাইকও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়নি। যদিও বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক আদালতে কুলভূষণ ইস্যুতে ভারতেরই জয় হয়েছে। তবে এই রায়ে পাকিস্তান কতটা মেনে নেবে তা এখনও দেখার অপেক্ষা। আর আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্তানের এই ধাক্কায় যে ভারতের প্রতি ইসলামাবাদের আরও রোষ বাড়বে তাই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

আরও পড়ুন: চিন সীমান্তে থাকা আইটিবিপির প্যারাট্রুপারদের ট্রেনিং সত্যিই বুকে ভয় ধরানোর মতো!

একদিন যাবৎ যদিও পাক সরকার দুই দেশের চাপান উতরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। বরং পরোক্ষভাবে জঙ্গিদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। সম্প্রতি সীমান্ত পেরিয়ে এসে দুই ভারতীয় সেনাকে নিহত করে তাঁদের দেহ ছিন্নভিন্ন করেছিল পাকিস্তানের ব্যাট। কিন্তু পাক সরকার এই অভিযোগ মানেনি। এছাড়া দিনের পর দিন ভারতীয় সেনাদের মুণ্ডচ্ছেদ করেছে পাক জঙ্গিরা। কিন্তু প্রত্যাঘাত করতে এখনও সক্ষম হয়নি ভারত। কেন এখনও ভারত উপযুক্ত জবাব দিতে পারেনি? কেন শুধুই সীমান্ত জুড়ে সেনা মোতায়েন করা রয়েছে?

আরও পড়ুন: ২১ লাখের মার্কিনি চাকরি ছেড়ে ভারতীয় সেনায় মেঘনা

শুধু ভারত পাক সমস্যাই নয়। কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আস্কারা দিয়ে গিয়েছে পাকিস্তান। গত ৯ মে ভারতীয় সেনা উমর ফয়াজকে কাশ্মীরে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে। তারপর থেকে স্পেশ্যাল অপ্রেশন শুরু করেছিল ভারত। কিন্তু উল্টোদিক থেকে ভারতীয় সেনার নজর ঘোরাতে পাকিস্তান অনবরত গুলি মর্টার ছুঁড়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙেছে। অর্থাৎ দুই দেশের পরিস্থিতি আরও উষ্ণ করতে এবং ভারতকে আরও চাপে রাখতে পাকিস্তান এগিয়ে যাচ্ছে। ভারত শুধু প্রতিঘাতের অপেক্ষায় রয়ে গিয়েছে। যদিও সার্জিকাল স্ট্রাইকের মত প্রতিঘাতও এই অবস্থাকে স্থায়ীভাবে সামাল দিতে পারেনি।

আরও পড়ুন: মিসাইল-রকেট নিয়ে এবার চিন সীমান্তে উড়বে ১০টি ‘ধ্রুব’

কাশ্মীরে দিনের পর দিন চলা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিক্ষোভ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চলছে। এমনই মন্তব্য করেছিলেন এক হুরিয়ত নেতা। সেই হুরিয়ত নেতাকে ভণ্ড বলে মুণ্ডচ্ছেদ করার হুমকিও দিয়েছে হিজবুল মুজাহিদিনের নেতা জাকির মুসা। তার দাবি ইসলামকে রক্ষা করতে এবং আজাদির উদ্দেশ্যে চলছে এই বিক্ষোভ। এছাড়াও কাশ্মীরে আইএস জঙ্গি সংগঠনের পতাকা উড়িয়েও বিক্ষোভ চালিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। অতএব বোঝাই যাচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কীভাবে ইন্ধন জুগিয়ে চলেছে পাক জঙ্গি সংগঠন। যদিও ২০১৪-র নির্বাচনে অধিকাংশ কাশ্মীরি বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু পরে পাক অধ্যুষিত জঙ্গি ওয়ানি, মুসা ধর্মের উসকানি দিয়ে উপত্যকায় অশান্তি তৈরি করে চলেছে।

কিন্তু এসবের পরেও ভারত শুধু মাত্র উত্তরদাতার ভূমিকাই পালন করে যাচ্ছে। পাকিস্তান একটি পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারত তার পালটা জবাব দিচ্ছে মাত্র। কিন্তু এইভাবে চলতে থাকলে ভূস্বর্গ থেকে অশান্তি তাড়ানো যাবে না। থামবে না সেনামৃত্যুও।

আরও পড়ুন: তিন বছরের মধ্যে ১ লক্ষ কোটি মিসাইল তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিল ভারত

----
--