দিওয়ালির রাত ক্রমশ ‘অভিশাপ’ হয়ে উঠছে শহর কলকাতায়

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: দিওয়ালি আলোর উৎসব। কিন্তু এখন সেটা বায়ু দূষণের ‘উৎসব’-ও বলা যেতে পারে। দেশের রাজধানী দিল্লিতে যেমন ডুবে যায় বায়ু দূষণের অন্ধকারে তেমনই দূষণের কবলে পড়ে যায় ইংরেজ শাসনাধীন ভারতের একদা রাজধানী কলকাতাও। গত পাঁচ বছরে শহরের বায়ু দূষণের তথ্য তেমন আভাস দিচ্ছে।

একেই দিনের পর দিন গাছ কাটার ফলে বিশ্বজুড়েই বৃদ্ধি পাচ্ছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং। স্বাভাবিকভাবে মহানগর কলকাতাও এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে না। সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে কলকারখানার ধোঁয়া। দিওয়ালির দিনে কলকাতার বাতাসে দূষণের পরিমাণ আরও প্রকট হয়। কারন অবশ্যই আতস বাজির ধোঁয়া। তথ্য অনুযায়ী সবথেকে খারাপ অবস্থার শ্যামবাজার এলাকার। ২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত দেওয়ালির দিন বায়ু দূষণ চরমে পৌঁছেছে। এক রাজ্য পরিবেশ ভবনের এলাকা বাদে কোনও এলাকাই দেওয়ালির দিনগুলোতে বায়ুতে দূষণের পরিমাণ সামান্যতম সুস্থ থাকে না। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রন পর্ষদের তথ্যই এর প্রমাণ।

শ্যামবাজার এলাকার দিকে নজর রাখলে দেখা যাবে ৩ নভেম্বর ২০১৩-তে দূষণের পরিমাণ ছিল ২০৭। সরকারি গ্রাফ অনুযায়ী যা খারাপ। ২৪ অক্টোবর ২০১৪ সালে দূষণ মাত্রা আরও বেড়ে ২৫৭-তে গিয়ে ঠেকে। গ্রাফ অনুযায়ী তা আরও খারাপ। ১১ নভেম্বর ২০১৫ দেওয়ালির দিন বাতাসে দূষণ মারাত্মক খারাপ অবস্থায় পৌঁছয়। দূষণ মাত্রা ছিল ৩৮২। লাল সতর্কতার গ্রাফে ছুঁয়েছিল দূষণের পরিমাপ। ২০১৬তে ৩২২ ছিল দূষণ মাত্রা। সেটিও লাল সতর্কতার মধ্যেই পড়ে। ২০১৭ সালে দূষণের পরিমাণ শুধু ঠিকঠাক ছিল। বাকি বৈষ্ণবঘাটা থেকে তোপসিয়া, উল্টোডাঙা প্রত্যেকটি এলাকার বায়ু দূষণের পরিমাপই ছিল ২০০ থেকে ৩০০-র মধ্যে। গ্রাফ অনুযায়ী যা হলুদ সতর্কতা দিচ্ছে। মান বাঁচিয়েছে শুধু পরিবেশ ভবন এলাকা।

সামনেই দিওয়ালী। এই বছর যাতে দূষণের মাত্রা এই জায়গায় না পৌছায় তার জন্য দূষণ পর্ষদ কি ব্যবস্থা নিচ্ছে? এই প্রসঙ্গে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রন পর্ষদের চেয়ারপার্সন কল্যান রুদ্র বলেন, “তিনি সুপ্রিম কোর্টের রায় এখনও শোনেননি। পুরো রায় না শুনে কিছু বলব না।” পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে যোগাযোগ করা হয়। তিনি এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে অনিচ্ছুক বলে জানিয়ে দেন।

----
-----