‘গ্রেটার’ ইস্যু নিয়ে দু’বছর ধরে বিদ্যুতের বিল বয়কট জিসিপিএ’র

কোচবিহার: এ এক অভিনব প্রতিবাদ৷ বিদ্যুতের বিল বয়কট৷ কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে৷ মিটার বক্সের পাশে লাগানো রয়েছে সংগঠনের ঝাণ্ডা৷ গত দু’বছর ধরে গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন বা জিসিপিএ’র সদস্যরা বিদ্যুতের বিল বয়কট করেছেন৷ তার জেরে শুধুমাত্র মাথাভাঙা মহকুমাতেই বকেয়া প্রায় ৫ কোটি টাকা৷

জিসিপিএ’র সমর্থকরা তাঁদের মিটার বক্সে সংগঠনের পতাকা লাগিয়ে রেখেছেন৷ বিদ্যুতের বিল দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ৷ জিসিপিএ’র সদস্যদের দাবি, ভারতভূক্তি চুক্তি অনুযায়ী কোচবিহার একটি ‘গ’ শ্রেণির রাজ্য ছিল৷ তা কীভাবে একটি জেলায় পরিনত হল তা সরকারকে জানাতে হবে৷ তারপরই বিদ্যুতের বিল দেবেন তাঁরা৷

আরও পড়ুন: সিরিজে ফিরতে বিরাটদের কী ড্রিঙ্কস দেবেন শাস্ত্রী

- Advertisement DFP -

এক্ষেত্রে সবথেকে বড় বিতর্ক উঠেছে যেই নামকে ঘিরে, তিনি বংশীবদন বর্মন৷ কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা তিনি৷ তাঁর ডাকেই এই বয়কট কর্মসূচি শুরু হয়েছিল৷ কিন্তু এখন তিনি সরকারি পদে আসীন৷

রাজ্য সরকার তাঁকে রাজবংশী উন্নয়ন ও সংস্কৃতি বোর্ডের চেয়ারম্যান করেছে৷ সরকারি পদে থেকে কীভাবে তিনি বিদ্যুতের বিল বয়কটের সমর্থনে থাকতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ এই নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপির জেলা সভানেত্রী মালতী রায় রাভা৷

আরও পড়ুন: সংসদে প্রবেশ ও প্রস্থানে ‘নির্দল’ ছিলেন সোমনাথ

মালতী রায় রাভা বলেন, “একদিকে জিসিপিএ নেতা বংশীবদন বর্মন সরকারি পদে বসে আছেন৷ অন্যদিকে তাঁর দল বিদ্যুতের বিল দিচ্ছে না৷ এটা তো দ্বিচারিতা৷ তাই সরকারি পদ থেকে তাঁর পদত্যাগ করা উচিৎ৷’’ তিনি আরও বলেন কিছুদিন বিল না দিলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়৷ এক্ষেত্রে দুই বছর হয়ে গেলেও কেন জিসিপিএ সমর্থকরা ছাড় পাচ্ছেন তা খতিয়ে দেখা উচিৎ৷

যদিও বংশীবদন বর্মনের দাবি, সরকারি পদ নয়৷ তাঁদের যে দাবিতে আন্দোলন সেই ভারতভূক্তি চুক্তি প্রকাশ করে কোচবিহার জেলা নাকি রাজ্য তা জানাক৷ তবেই বিদ্যুতের বিল দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, সরকারি পদে থেকেই সরকারকে বোঝাতে হয়৷ তিনি বলেন, কোচবিহার কীভাবে একটা জেলা হল তা প্রকাশ্যে জানালেই তাঁরা বিদ্যুতের বিল দেবেন৷

আরও পড়ুন: মৃত্যু পরেও ‘কমরেড’ সোমনাথকে দলের নেতা বলে মানল না সিপিএম

Advertisement
----
-----