ইসলামাবাদ: বিপুল পরিমাণে অমুসলিম ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল পাকিস্তানে। পরিসংখ্যান অনুসারে গত পাঁচ বছরের নিরিখে সেই সংখ্যাটা প্রায় শতকরা ৩০ ভাগ। এমনই তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাক দৈনিক ডন।

সেই প্রতিবেদন অনুসারে, এই মুহূর্তে পাকিস্তানে মোট অমুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৩.৬৩ মিলিয়ন। ২০১৩ সালের নির্বাচনের আগে সেই সংখ্যাটা ছিল ২.৭৭ মিলিয়ন। অর্থাৎ এই পাঁচ বছরে ওই দেশে ০.৮৬০ মিলিয়ন ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

Advertisement

মুসলিম ছাড়াও ওই দেশে হিন্দু, খ্রিষ্টান, আহমদি, বাহাই, শিখ, বৌদ্ধ এবং পারসি রয়েছে। যাদের মধ্যে হিন্দুদের সংখ্যা সব থেকে বেশি। পাকিস্তানের মোট অমুসলিমদের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি। গত পাঁচ বছরেও বেশ অনেকটাই বেড়েছে সেই সংখ্যা। মূলত পাক পঞ্জাব এবং সিন্ধ প্রদেশে হিন্দুদের আধিক্য দেখা যায়। অন্যান্য জায়গায় হিন্দু নেই বললেই চলে।

হিন্দুর পরেই পাকিস্তানে সংখ্যালঘু তালিকায় রয়েছে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা। হিন্দুদের মতো এরাও পঞ্জাব এবং সিন্ধ প্রদেশেই সীমাবদ্ধ। ২০১৩ সালের হিসেব অনুসারে পাকিস্তানে মোট ১.৬৪ মিলিয়ন খ্রিষ্টানের বাস। যাদের মধ্যে পাক পঞ্জাবেই থাকে এক মিলিয়ন মানুষ। বাকিরা সিন্ধ প্রদেশের বাসিন্দা।

সংখ্যালঘু তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে আহমেদি সম্প্রদায়। অমুসলিম বলে পরিচিত হলেও এই সম্প্রদায় ইসলামেরই একটি অংশ। ২০১৩ সালে পাকিস্তানে এক লক্ষ ১৫ হাজার ৯৬৬ জন আহমেদি ভোটার ছিল। পাঁচ বছরে সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লক্ষ ৬৭ হাজার ৫০৫। সিন্ধ এবং ইসলামাবাদে এই সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন।

শেষ পরিসংখ্যান অনুসারে পাকিস্তানে শিখ ভোটারের সংখ্যা আট হাজার ৮৫২ জন। খাইবার পাখতুনখাওয়া, সিন্ধ, পঞ্জাব, বালোচিস্তান এবং ইসলামাবাদের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষেরা। ২০১৩ সালে পাকিস্তানে পাঁচ হাজার ৯৩৪ জন শিখ ভোটার ছিল।

শেষ পাঁচ বছরে পাকিস্তানে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে বৌদ্ধ এবং পারসি ভোটারের সংখ্যা। ২০১৩ সালে ওই দেশে যথাক্রমে তিন হাজার ৬৫০ জন এবং এক হাজার ৪৫২ জন বৌদ্ধ এবং পারসি ভোটার ছিল। ২০১৮ সালে সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ২৩৫ এবং এক হাজার ৮৮৫ জন। সিন্ধ, পঞ্জাব এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া এলাকায় এদের আধিক্য দেখা যায়।

পাকিস্তানের সমস্ত জেলা ভিত্তিক অমুসলিম ভোটারদের পরিসংখ্যান এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। আগামি জুলাই মাসের ২৫ তারিখ ওই দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

----
--