পিআরটি স্কেল চালুর দাবিতে রাজপথে নামলেন কাতারে কাতারে শিক্ষক

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অবিলম্বে প্রাথমিক শিক্ষকদের সংশোধিত বেতন কাঠামো (পিআরটি স্কেল) চালুর দাবিতে মঙ্গলবার কলকাতার রাজপথে নামলেন কাতারে কাতারে শিক্ষক-শিক্ষিকা৷ অরাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠন উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এদিন সকালে প্রথমে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে মহামিছিল করে রাণি রাসমনি রোড পর্যন্ত যান প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষক৷ সেখানেই দুপুর ১২টা থেকে ৩টে পর্যন্ত সমাবেশ করেন তাঁরা৷

এদিনের মহামিছিল ও সমাবেশের একটি মাত্র দাবি ছিল৷ ২০১২ সালের ২৩ মার্চ ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ টিচার্স এডুকেশন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে৷ বিজ্ঞপ্তিতে অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষক হতে গেলে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ এবং দু’বছরের ট্রেনিং থাকতে হবে৷ এই শর্তাবলীর ভিত্তিতে অনেক প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করা হয় এই রাজ্যে৷ আর যাঁদের এই যোগ্যতা ছিল না তাঁরা এনসিটিই-র নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জন করেন৷

অভিযোগ, এনসিটিই নিয়ম মেনে যোগ্যতা অর্জন করলেও পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো মাধ্যমিক বা অষ্টম শ্রেণি পাশ যোগ্যতারই রয়েছে৷ মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের দাবি, যেখানে যোগ্যতা বাড়ানো হল, সেখানে যোগ্যতা অনুযায়ী বেতনও বাড়ানো হোক৷

- Advertisement -

দেশের প্রতিটি রাজ্যেই এনসিটিই-র নিয়ম মেনে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করা হয়৷ বেশিরভাগ রাজ্যেই তাঁদের বেতন দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় সরকারের পিআরটি স্কেল অনুযায়ী৷ কেন্দ্রীয় সরকারের ষষ্ঠ কমিশনের বেতন কাঠামো অনুযায়ী পিআরটি স্কেলে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন হল ৪২০০ টাকা গ্রেড পে সহ ৯৩০০ থেকে ৩৪৮০০ টাকা৷ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হল শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ৷ কারণ, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয় মাধ্যমিক যোগ্যতার৷ এখানকার প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ২৬০০ টাকা গ্রেড পে সহ ৫৪০০ থেকে ২৫২০০ টাকা৷ আর গত বছর নভেম্বর মাসের সপ্তম পে কমিশন অনুযায়ী, এই বেতনের পার্থক্য আরও বেশি৷

তাই অবিলম্বে সংশোধিত বেতন কাঠামো চালুর দাবিতে উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের (উপ্টা) পক্ষ থেকে ডাক দেওয়া হয়েছিল এই বিশাল মহামিছিলের৷ সেই ডাকে কোনও শাসক দলের শিক্ষক সংগঠনের সাড়া মিললেও, উপস্থিত হয়েছিলেন বহু বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন৷ মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরাও৷ তাঁদের মধ্যে ছিলেন আনন্দদেব মুখোপাধ্যায়, অশোকনাথ বসু, সিদ্ধার্থ দত্ত সহ আরও অনেকে৷ উপ্টার সম্পাদিকা পৃথা বিশ্বাস এই মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দেন৷ মিছিলে অংশগ্রহণ করতে রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত হয়েছিলেন৷

এদিনের মিছিলটিকে ঐতিহাসিক বলে দাবি করছে বহু শিক্ষক৷ শিক্ষক-নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘আজকের মিছিলটি ঐতিহাসিক ছিল৷ কারণ, স্বাধীনতার আগে বা পরে কখনও এত শিক্ষকে একসঙ্গে রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি৷ অনেক শিক্ষক আন্দোলন হয়েছে৷ কিন্তু, একটি মাত্র দাবি নিয়ে এত শিক্ষকদের রাজপথে নামার ইতিহাস আমাদের রাজ্যে নেই৷ তাই প্রকৃতপক্ষেই এটি একটি ঐতিহাসিক মিছিল ছিল৷’’

এদিন আন্দোলনকারীদের নবান্নে ডেকে পাঠিয়েছিলেন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি৷ সেখানে গিয়ে একটি স্মারকলিপী তুলে দেওয়া হয় প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির হাতে৷ সূত্রের খবর, নবান্ন থেকে প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, তাঁদের জন্য সুখবর অপেক্ষা করছে৷ খুব তাড়াতাড়িই তা পাবেন প্রাথমিক শিক্ষকরা৷ এ ছাড়া, বিধানসভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, বাম পরিষদীয় নেতা সৃজন চক্রবর্তী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাতে নিজেদের দাবি সম্বলিত স্মারকলীপি তুলে দেওয়া হয় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে৷

Advertisement ---
---
-----