সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তাঁরা এখনও পরে রয়েছে প্রাচীন প্রস্তর যুগে। আড়াই লক্ষ বছর আগে মানুষ আগুনের ব্যবহার শিখেছিল। কিন্তু ওরা সেটাও জানে না। জানতেও চায় না। শেষ হয়ে যাব। তবু ‘অসভ্যই’ থাকব। সভ্যরা এলে কেটে খাব। এমনই নর্থ সেন্টিলিয়রা। কিন্তু সেন্টিলিয়দের সঙ্গে ‘আমরা-ওরা’র সম্পর্ক শুরু হল কিভাবে?

ওরা বন্য এবং বনেই থাকতে চায়। তবু সভ্য জগতের সেন্টিলিয়দের নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। তথাকথিত সভ্য জগত বুঝতেই চায় না, ‘জানার কোনও শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই’। আরও জানার ইচ্ছা, কৌতূহল। বৃথা চেষ্টায় মৃত্যু। এটাই বারবার হয়েছে নর্থ সেন্টিলিয় দ্বীপে।

পড়ুন: বাড়ছে একা থাকার ‘নেশা’, শিবরাম- ব্যোমকেশের নস্ট্যালজিয়ায় বেঁচে মেস কালচার

যারা এখন আড়াই লক্ষ বছর আগে পরে রয়েছে , যাদের সংযোগ রক্ষা করার জন্য কি ভাষার প্রয়োজন তা জানে না ওদের সবথেকে কাছের উপজাতিরাও। তবু সভ্যরা জনসংযোগ গড়তে চায়। অতঃপর যা হওয়ার সেটাই হয়। সভ্য অসভ্যের লড়াই ১৮৮০ সালে। ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ এমভি পোর্টম্যানের নেতৃত্বে একটি দল ওই দ্বীপে গিয়ে উপজাতিদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন।

উপজাতিদের এক প্রৌঢ় দম্পতি এবং চার শিশুকে তুলে নিয়ে আসেন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। তাদের নতুন পোশাক ও খাবার দেওয়া হয়। কথা বলানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আধুনিক সমাজে মানাতে না পেরে রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েক মাসের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাদের। নৃতত্ববিদরা মনে করেন সম্ভবত এই ঘটনার পর থেকেই সভ্য মানুষদের প্রতি সেন্টিনেলিজদের আক্রোশ বেড়ে যায়।

এরপর প্রায় ১০০ বছরের একটা বড় সময় গিয়েছে। ভিতরে পুষে থাকা রাগের আস্ফালন হয় ১৯৭৫ সালে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একজন চিত্রগ্রাহক তথ্যচিত্র বানানোর জন্য গিয়েছিলেন সেন্টিনেল দ্বীপে। উপজাতিদের বিষ তীরের ঘায়ে তিনি মারাত্মক ভাবে জখম হন। ১৯৯১ সালে ভারত সরকার ফের সেন্টিনেলিজদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে।

পড়ুন: OMG!! উল্টে গেল জলপ্রপাত!

১৯৯১ সালের ৪ জানুয়ারি আন্দামান-নিকোবরের এই দ্বীপে গিয়ে সেন্টিনেলিজদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন ভারতীয় নৃতত্ত্ববিদ ত্রিলোকনাথ পণ্ডিত। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। ১৯৯৬ সালে তাদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে তারা কোনও যোগাযোগই রাখতে চায় না।

২০০৪ সালে সুনামির পর হেলিকপ্টারে নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ডে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিল ভারত সরকার। সে ত্রাণ নেওয়ার বদলে তারা পাল্টা আক্রমণ চালায়। ২০০৬ সালে দ্বীপে প্রবেশকারী দুই মৎস্যজীবীকে তীর ছুড়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে সেন্টিনেলিজরা।

প্রাচীন এই উপজাতিদের পেশা শিকার। সভ্য মানুষের সংসর্গ এদের একেবারেই পছন্দ নয়। নিজেদের গণ্ডির মধ্যেই থাকতে এরা বেশি ভালবাসে।প্রায় ৬০ হাজার বছর ধরে সেন্টিনেলিজরা এই দ্বীপের বাসিন্দা। এরা শেখেনি চাষাবাদও। ৭২ বর্গকিলোমিটার (১৮,০০০ একর) এই দ্বীপটি বরাবরই রহস্যের মোড়কে ঘেরা। এখানকার জনজাতির সংখ্যা সম্পর্কেও সুস্পষ্ট ধারণা নেই।

পড়ুন: লঙ্গরখানার লাইন থেকে ‘বিজনেসম্যান অফ দ্য ইয়ার’

একসময় জানা গিয়েছিল, দ্বীপটিতে পুরুষ, মহিলা ও শিশু মিলিয়ে মোট ৪০০ জন বাস করে। কিন্তু, ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী বর্তমানে ওই দ্বীপের জনসংখ্যা ৪০। ২০০৪ সালের সুনামির পর থেকে দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ হয়ে উঠেছে অনেক রুক্ষ। খাবারেও টান পড়েছে। তা ছাড়া দুরারোগ্য ব্যধির প্রকোপ তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে সেন্টিনেলিজরা। কিন্তু তাও বহির্বিশ্ব থেকে তারা নিজেদের বিচ্ছিন্নই রেখেছে।

1 COMMENT

  1. লেখাটি তে কোন নতুনত্ব নেই । এই ধরনের লেখা ১০০% কপি করা মনে হচ্ছে যা নানান ওয়েব সাইটে বর্তমান ।

Comments are closed.