রাজপথে অচৈতন্য বৃদ্ধা: মানবিক পুলিশ বনাম অমানবিক নাগরিকের সাক্ষী কলকাতা

সুপ্রিয় রায়, কলকাতা: মানবিক পুলিশ বনাম অমানবিক নাগরিকদের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা কলকাতা৷
কলকাতার রাজপথে অচৈতন্য হয়ে পড়ে রয়েছে অশীতিপর বৃদ্ধা৷ সারা শরীরে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট৷ অভিযোগ, পথচলতি মানুষজন দেখছেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে এসে বৃদ্ধাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেননি৷

ঘটনাস্থল, কসবা থানা এলাকার ইএম বাইপাসের আর্সেনাল এলাকা৷ ওই পথ ধরেই মোটর বাইকে পেট্রোলিংয়ে বেড়িয়েছিলেন কসবা থানার সাব ইন্সপেক্টর আর মাঝি৷ গাড়ি থামিয়ে বৃদ্ধার চোখে মুখে জল দিয়ে জ্ঞান ফেরান তিনি৷ টেলিফোনে যোগাযোগ করেন থানার মহিলা পুলিশের সঙ্গে৷ এরপর মহিলা পুলিশ এসে থানার গাড়িতে করেই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থ বৃদ্ধার নাম লক্ষ্মী মণ্ডল৷ বাড়ি, দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সোনারপুরের উচ্ছপটা কালীখাল এলাকায়৷ বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, বাড়িতে তাঁর উপর লাগাতার অত্যাচার করা হত৷ প্রতিবাদ জানানোয় শুক্রবার সকালে নাতি তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়৷ এরপর উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটতে হাঁটতে তিনি বাইপাসে চলে আসেন৷ রাত থেকে অভুক্ত থাকার জেরে তিনি জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান৷

- Advertisement -

বর্তমানে এম আর বাঙুর হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে বৃদ্ধার৷ ওই বৃদ্ধার কথায়, ‘‘ওই পুলিশবাবু যদি আমাকে উদ্ধার না করতো তা হলে হয়তো রাস্তাতেই মরে যেতাম৷ সব পুলিশ যে খারাপ নয়, ওনার এই পদক্ষেপ থেকেই তা প্রমাণিত৷’’ ডিউটি অফিসার আর মাঝি অবশ্য কোনও কৃতিত্ব নিতে নারাজ৷ তিনি বলছেন, ‘‘পুলিশ অফিসারের আগেও আমার পরিচয় আমি দেশের একজন নাগরিক৷ একজন নাগরিক হিসাবেই অন্যের পাশে দাঁড়িয়ে স্রেফ কর্তব্যটুকু পালন করেছি মাত্র৷’’

কসবা থানার পুলিশের তরফে ইতিমধ্যে সোনারপুর থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে৷ সোনারপুর থানার পুলিশ ওই বৃদ্ধার বাড়িতে খবর পাঠিয়েছে৷ বৃদ্ধাকে ভবিষ্যতে ফের যাতে অত্যাচারের মুখোমুখি না হতে হয়, তাই তাঁর নাতিকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে৷ এদিকে দিনদুপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় এক বৃদ্ধার অচৈতন্য হয়ে পড়ে থাকা সত্ত্বেও কোনও নাগরিক এগিয়ে না আসায় সাধারণ মানুষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ পুলিশ কর্তারা৷

যদিও সাধারণ মানুষের বক্তব্য, সাহায্য করতে তো অসুবিধে নেই৷ কিন্তু উদ্ধারের পর হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পথে যদি কোনও অঘটন হত, সেক্ষেত্রে আইনি ঝামেলায় নাম জড়িয়ে যেত৷ পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হত৷ তাই ইচ্ছে থাকলেও সাহস করে কেউ এগোয়নি৷ এমনই দাবি স্থানীয়দের৷

Advertisement
---