স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অনশনের প্রায় ২৬২ ঘন্টা৷ একের পর এক অনশনকারীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে৷ প্রথমে অনিকেত চট্টোপাধ্যায়, সুমিত ধাড়া ও তারপরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের পড়ুয়া দেবাশিস বর্মণের। স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে মেডিকেল কলেজের ফোর্থ ইয়ারের ছাত্র তমলুকের অর্ণব সাহারও৷ তারপরও মেডিক্যাল কলেজে অব্যাহত অনশন কর্মসূচি৷

১০ জুলাই থেকে স্বচ্ছ হস্টেল কাউন্সেলিং-এর দাবিতে অনশনে বসেছেন মোট ৬ জন মেডিক্যাল কলেজ পড়ুয়া৷ আজ শনিবার ১২ দিনে পা দিল এই অনশন কর্মসূচি৷ একের পর এক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে অনশনকারীদের৷ তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না৷

এমনকী অনিকেত চট্টোপাধ্যায়, যাঁর শারীরিক অবস্থা অনশনকারীদের মধ্যে সবথেকে খারাপ তিনি শুধু খাদ্য নয়, চিকিৎসাও গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন৷ অনিকেত জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কিছু খাবেন না তিনি৷ এই কথা স্পষ্টভাবে মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডাঃ রামানুজ সিনহাকে জানিয়ে দিয়েছেন অনিকেত৷ শুধু তাই নয়৷ শুক্রবার দুপুরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনশন তুলে নেওয়ার আবেদন জানাতে অনশনকারীদের সঙ্গে দেখা করেন৷ সেই সময় অধ্যক্ষকে তিনি বলেন, ‘‘আমার কিছু হয়ে গেলে, তার দায় নিতে হবে আপনাকে৷” চিকিৎসা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন অর্ণব সাহাও৷

শুক্রবারই দেবাশিস বর্মনের মা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রামানুজ সিনহার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। যে কোনও মুহূর্তে ছেলের কোনও বিপদ ঘটে যেতে পারে৷ অধ্যক্ষের কাছে এই আশংকার কথাও ব্যক্ত করেন তিনি৷ কিন্তু, তার চোখের জলের কোনও দাম মেলেনি৷ উল্টে সন্ধে হতেই বদলে দেওয়া হয় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে৷ রামানুজ সিনহাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ করা হয় রেডিয়োলজি বিভাগের চিকিৎসক অশোক ভদ্রকে। ওইদিন রাতেই অনশনকারীদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অভিযোগ শোনেন অশোক ভদ্র৷ কিন্তু, অভিযোগ শুনলেও তার কোনও সমাধান দিতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ৷ তিনি জানান, শনিবার স্বাস্থ্যভবনে যাবেন তিনি৷

একের পর এক বৈঠক, ছাত্রদের অনশন, অভিভাবকদের অনুরোধ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমর্থণ৷ বুধবার রাত থেকে এই অনশন কর্মসূচিতে শামিল হয়েছেন আরও ১৫ জন৷ কোনও কিছুতেই মেলেনি সুরাহা৷ শুক্রবার অনশনকারীদের দাবিদাওয়া নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয় স্বাস্থ্যভবনে ও মেডিক্যাল কলেজে৷ কিন্তু, দাবি মানার পরিবর্তে মিলেছে পুলিশী হুঁশিয়ারি৷ সূত্রের খবর, বুধবার রাতে শতাধিক পুলিশ সহ ২৮টি পুলিশ ভ্যান মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে ঢোকে৷ অভিযোগ, হাসপাতালে ছ’টি শয্যার বুক করা আছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় পুলিশের তরফে৷

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য স্পষ্ট৷ দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না৷ তাঁদের দাবি, প্রথমত, গত তিন বছর ধরে মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সহ যে সকল ছাত্ররা হস্টেল পাননি তিনবছর এবং যাঁরা পুরোনো জরাজীর্ণ হস্টেলে থাকছেন, তাদের স্বচ্ছ ও অরাজনৈতিক হস্টেল কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন হস্টেল সহ অন্যান্য হস্টেলে জায়গা দিতে হবে৷ দ্বিতীয়ত, নতুন হস্টেলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট পদে কোনও তৃণমূলের এমবিবিএস পাস ছাত্রনেতাকে নিয়োগ করা যাবে না। এমসিআই রেগুলেশন অনুযায়ী কোনও অ্যাসোসিয়েট, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর বা হেড অফ দ্য ডিপার্টমেন্টকে ওই হস্টেলের সুপারের পদ দিতে হবে।

এ ছাড়া, ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের উপর আক্রমণের জবাব চাওয়া হয়েছে অধ্যক্ষের কাছ থেকে৷ দাবি তোলা হয়েছে অধ্যক্ষের পদত্যাগেরও৷ পাশাপাশি, অবিলম্বে কলেজ কাউন্সিলের বৈঠক ডেকে ছাত্র প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সমস্ত দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনায় বসার দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারী ছাত্ররা৷
এ ছাড়া, ১১ তলার নতুন হস্টেলে থাকছেন কারা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নতুন হস্টেলে যায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম৷ দেখা যায়, নতুন হস্টেলে প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের পাশাপাশি হস্টেলে ছাত্রদের ঘর অধিকার করে থাকছেন মেডিক্যাল কলেজ ও হস্টেলের কর্মচারিরা৷ মাস গেলে বেতন পাচ্ছেন আবার, ছাত্রদের ঘরও দখল করে থাকছেন কর্মচারিরা৷ এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল নিয়ে তৈরি হয়েছে আরও বিতর্ক৷

----
--