গর্ভের ভ্রূণ টেনে বের করল স্বামী, মৃত্যু স্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার, আলিপুরদুয়ার: স্বামীর হাতে নারকীয় অত্যাচারের শিকার হয়ে প্রাণ খোয়াতে হল এক তরুণীকে৷

গর্ভপাতে নারাজ স্ত্রীর গর্ভ থেকে ভ্রূণ টেনে বের করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে৷ তার পর কয়েকদিন বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে ফেলেও রাখায় তাপসী দাস নামে ওই তরুণীকে৷ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় ওই তরুণীর৷

আরও পড়ুন: বিজেপি প্রার্থীদের বাড়িতে হামলা চালানোয় অভিযুক্ত তৃণমূল

- Advertisement -

ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম থানার পুকুরগ্রাম বরুয়াপাড়ায়৷ সেখানেই বাড়ি বছর ২৪-এর ওই তরুণীর৷ মঙ্গলবার গভীর রাতে সেখানেই ওই তরুণীর মৃত্যু হয়৷ কিন্তু মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ, গত ২০ এপ্রিল এ নিয়ে কুমারগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল৷ অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তাপসীর বাবা ধনেশ দাস৷ কিন্তু তার পরও পুলিশ তাপসীকে উদ্ধারের কোনও ব্যবস্থা করেনি৷ তখন উদ্ধার করলে হয়তো তিনি প্রাণে বেঁচে যেতে বলেই মনে করছেন তাপসীর পরিবার৷

আরও পড়ুন: দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘর্ষে তীব্র উত্তেজনা

যদিও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে৷ ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত স্বামী রঞ্জিত দাস ও শ্বশুর খিচা দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ তবে পুলিশি গাফিলতির কথা সরাসরি ভাবে অস্বীকার করতে পারেননি জেলার এসপি আভারু রবীন্দ্রনাথ। তিনি বলেন, ‘‘ঘৃণ্য ঘটনা।’’ তবে কুমারগ্রাম থানার পুলিশকে ভর্ৎসনাও করেছেন বলে খবর৷ তার পর পুলিশ মেয়েটির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে৷

যদিও তাপসীর পরিবার সূত্রে যা জানা গিয়েছে, তাতে এই ‘ঘৃণ্য ঘটনা’র সূত্র আরও দশ বছর আগে৷ তখন ওই কিশোরীর বয়স মাত্র ১৪ বছর। গরিব পরিবারের নাবালিকা সন্তান হওয়ার দরুন রঞ্জিত দাসের বাবা খিচা দাস তাপসীকে নিজের বাড়ির পরিচারিকার কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। ওই সময়ই রঞ্জিতের আদিম লালসার শিকার হতে হয়েছিল তাপসীকে। দিনের পর দিন ধর্ষিতা হওয়ার দরুন এক সময় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বসে গ্রাম্য সালিশি। মোটা টাকার বিনিময়ে রঞ্জিতের পরিবার ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাতে চিড়ে ভেজেনি। গ্রামের মোড়লদের রায়ে নাবালিকা তাপসীকে বিয়ে করতে বাধ্য হয় রঞ্জিত।

আরও পড়ুন: তৃণমূলের কর্মিসভায় হামলা চালানোয় অভিযুক্ত বিজেপি

মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের অত্যাচারের মাত্রা বাড়ে৷ বারবার টাকার জন্য দাবি করা হয়৷ দাবি মেটাতে না পারলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হত৷ ইতিমধ্যে রঞ্জিত ও তাপসীর এক পুত্র সন্তানও জন্মায়৷ যার বয়স এখন ছয়৷ তাপসীর বাবা ধনেশবাবুর দাবি, তাঁর মেয়ে এই দশ বছরে আরও ছ’বার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে৷ ছ’বারই গ্রামের হাতুড়েদের দিয়ে তাপসীর গর্ভপাত করানো হয়েছে৷ এবার মেয়ে হাতুড়ের কাছে যেতে রাজি না হওয়ায় রঞ্জিত নিজেই গর্ভ থেকে ভ্রূণ টেনে বের করে৷ তার জেরেই তাপসীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়৷

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে আলিপুরদুয়ার জেলা জুড়ে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে বিষয়টি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য মহিলা কমিশনের কাছে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী রাতুল বিশ্বাস বলেন, ‘‘এই ধরনের পুলিশি গাফিলতিকে কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। এ কোন দেশে বসবাস করছি আমরা? এতবড় নারকীয় ঘটনা জানার পরেও পুলিশ কেন চুপচাপ বসেছিল? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি জেলার পুলিশ সুপার। আমরা বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছি। দরকারে আইনের আশ্রয় নেব।’’

আরও পড়ুন: জমির মিউটেশনের ‘ভুয়ো’ চালান সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার এক

তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মোহন শর্মা। তিনি বলেন, ‘‘এ এক জঘন্য নজির। নিন্দার কোন ভাষা নেই। আমি বাকরহিত হয়ে পড়ছি। কে দলের কে দলের নয় সে সব বুঝি না। কেন পুলিশ গাফিলতি করল? কী কারণে এই অবহেলা তা জানতেই হবে। এতটুকু বলতে পারি ওই নির্যাতিতা যাতে সুবিচার পান, তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব। আমরা ওই পরিবারের পাশে রয়েছি।’’

এই পরিস্থিতিতে মেয়ের জন্য সুবিচার আদায় করে নিতে বদ্ধ পরিকর তাপসীর বাবা ধনেশ দাস৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে ওরা তিলে তিলে তিলে আমার মেয়েটিকে মেরে ফেললো।আমি এর শেষ দেখতে চাই।দেশে কি আইন আদালত বলে কিছু নেই?’’

আরও পড়ুন: জালনোট কাণ্ডে আসামীকে কারাদণ্ডের নির্দেশ আদালতের

Advertisement
-----