নয়াদিল্লি: নগ্নতার সম্মান৷ শুনতে কানে লাগে৷ অথচ নগ্নতার নান্দনিকতা যুগ যুগ ধরে পূজিত হয়ে এসেছে৷ নগ্নতা সমাজের কাছে দৃষ্টিকটু৷ কিন্তু শিল্পীদের কাছে শিল্প, প্রেরণা৷ সেই নগ্নতা এবার যখন সসম্মানে উচ্চপদ লাভ করছে, স্থির থাকতে পারেননি ন্যুড আর্টিস্টি লক্ষ্মী৷ দৃঢ়তার সঙ্গে বলে ফেললেন, “নগ্নতা শেষমেশ সম্মান পাচ্ছে৷ আমি খুব খুশি৷”

আসছে রবি যাদব পরিচালিত ছবি ন্যুড৷ একটি ন্যুড আর্টিস্টকে নিয়ে ছবির গল্প৷ এবছর এপ্রিলে ছবিটির মুক্তি পাওয়ার কথা৷ এই ছবিরই প্রধান প্রোটাগনিস্ট লক্ষ্মী৷ তাঁর জীবনই স্টোরি লাইন৷ কথা প্রসঙ্গে লক্ষ্মী জানিয়েছেন, যখন ছেলের মাত্র ৩ বছর বয়স, তাঁর স্বামী মারা যান৷ দুচোখে অন্ধকার দেখেন লক্ষ্মী৷ কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি৷ হন্যে হয়ে কাজ খুঁজেছিলেন সেই সময়৷ ছেলেকে তো বাঁচাতে হবে৷ সেই কারমেই প্রতিদিন নিজের এক কাকিমাকে কাজের কথা বলতেন তিনি৷ কিন্তু সেই কাকিমা কোনও উচ্চবাচ্য করতেন না৷ এরপর লক্ষ্মী নিজে মুম্বইয়ের জেজে স্কুলে যান৷ সেখানেই তাঁর কাকিমা কাজ করতেন৷ একদিন বিকেলে দুজনের দেখা হয়৷ লক্ষ্মী জানতে পারেন তাঁর কাকিমা সেখানে ন্যুড আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন৷ বলছিলেন লক্ষ্নী৷

ওই কাকিমাই তাঁকে এই জগতের সন্ধান দেন৷ বলেন, লক্ষ্মী তো কাজ খুঁজছে৷ কাজ রয়েছে৷ কিন্তু ন্যুড আর্টিস্টের কাজ৷ লক্ষ্মী কি পারবে?

কথা শুনে একটু দ্বিধান্বিত হয়েছিলেন লক্ষ্মী৷ কিন্তু মাথায় তখন ছেলেদের দায়িত্ব৷ তাই সাতপাঁচ ভেবে কাজটি নিয়েই নেন তিনি৷ প্রথমদিনের কাজের অভিজ্ঞতা স্বভাবতই ছিল অস্বস্তিকর৷ হাজার হাজার পুরুষ চোখের মাঝে তাঁকে দেহ থেকে কাপড় সরাতে হয়েছিল৷ হতে হয়েছিল সম্পূর্ণ নগ্ন৷ এমন নির্মম বাস্তব মানতে পারেননি তিনি৷ কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রফেসররা তাঁর পাশে দাড়িয়েছিলেন সেদিন৷ বুঝিয়েছিলেন, নগ্নতা একটা আর্ট৷ এর মধ্যে নান্দনিকতার ছড়াছড়ি৷ আর আজ সেই ভীরু লক্ষ্মীই বুক চিতিয়ে বলেন, “আমার কাজ পৃথিবীর সেরা কাজ৷”

তাঁর কাজকে অনেকেই ভালো চোখে দেখত না৷ এখন, যখন এই পেশা স্বীকৃতি পাচ্ছে, খুব খুশি লক্ষ্মী৷ তিনি এও বলেছেন, যখন তিনি এই পেশায় এসেছিলেন, খুব একটা ভালো পারিশ্রমিক পেতেন না৷ সম্মানজনক পেশাও ছিল না৷ কিন্তু তবু তিনি এই পেশায় আসেন, কারণ তাঁকে তাঁর সন্তানদের পেট চালাতে হত৷ তাদের পড়াশোনা শেখাতে হত৷ তারা যেন দারিদ্রতাকে প্রত্যক্ষ না করে, তার জন্য সব কিছু করতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি৷

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় বসে থাকার জন্য আগে একজন ন্যুড মডেল পেতেন মাত্র ৫০ টাকা৷ তবু এখন তা বেড়েছে৷ দাঁড়িয়েছে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা৷ কোনও কোনও দিন কাজ থাকত না৷ তখন টাকাও জুটতো না৷ কিন্তু সৌভাগ্যের বিষয়, বেশিরভাগ দিনই মডেল হওয়ার জন্য তাদের ডাক পড়ত৷ লক্ষ্মী বলেছেন, সিটিংয়ের মাঝে খুব কমবার ব্রেক পেতেন তাঁরা৷ বেশিরভাগ সময়ই তাঁদের একই পোজিশনে বসে থাকতে হত৷ তবে নগ্নতার জন্য কখনও তাঁদের অসম্মান করা হয়নি৷ ছাত্রছাত্রীদের ন্যুড মডেলদের সম্মান করতে শেখানো হত৷

আজও তা একচুলও নড়েনি৷ এখনও শিল্পীদের চোখে তাঁদের কদর রয়েছে৷ শুধু পার্থক্য এই যে, অনেকেই তাঁদের এই পেশার জন্য সম্মান দেয় না৷ কিন্তু ভবিষ্যৎ বদলাবে৷ আশাবাদী লক্ষ্মী৷ অন্তত এমন ছবি মুক্তি পাওয়ার পর দৃষ্টিভঙ্গি যে পালটাবে, তা নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনও দ্বিধা নেই৷

©Kolkata24x7 এই নিউজ পোর্টাল থেকে প্রতিবেদন নকল করা দন্ডনীয় অপরাধ৷ প্রতিবেদন ‘নকল’ করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ----
----