মমতাদির কথা ফেলতে পারিনি, জেঠুর শেষকৃত্যে বললেন দেব

স্টাফ রিপোর্টার, মেদিনীপুর: রাজনীতির আঙিনায় তাঁরা দু’জনেই বিপরীত মেরুতে ছিলেন৷ তবে অন্তরের টানের দিক থেকে জেঠু-ভাইপোর মধ্যে কোনও ফারাক ছিল না৷ অভিনেতা তথা ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেব ওরফে দীপক অধিকারীর কথায় বলা হচ্ছে৷

বয়সজনিত কারণে মঙ্গলবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন দেবের জেঠু ওরফে সিপিএমের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির সদস্য শক্তিপদ অধিকারী৷ জেঠুর শেষকৃত্যে যোগ দিতে বুধবার দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ কেশপুরের মহিষদা গ্রামে পৌঁছন অভিনেতা দেব৷ পরণে জিন্স, টিশার্ট ও টুপি৷ থমথমে চোখমুখ৷ দুপুরে বাড়ির পাশেই একটি শ্মশানে প্রয়াত সিপিএম নেতা শক্তিপদ অধিকারীর শেষকৃত্য করা হয়৷

জেঠুর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে এদিন শোকবিহ্বল হয়ে পড়েন দেব৷ বলেন, ‘‘সেটা ২০১৪ সাল৷ চন্দ্রকোণায় ‘যোদ্ধা’র শুট্যিং চলছে৷ সামনে লোকসভা নির্বাচন৷ একই দিনে দুটো ফোন এলো৷ প্রথমটা মমতাদির৷ তিনি ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিলেন৷ দ্বিতীয় ফোনটা এলো আমার জেঠতুতো দাদার৷ ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে জেঠু বললেন- ভোটে দাঁড়াচ্ছো?’’ খানিক থেমে দেব বলেন, ‘‘জেঠু বরাবরই বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন৷ আমি মমতাদির কথা ফেলতে পারিনি৷ কিন্তু তৃণমূলের দৌলতে রাজনীতিতে আসার পর প্রতি মুহুর্তে আমাকে রাজনৈতিক দিক থেকে সাহস জুগিয়েছেন আমার জেঠু৷’’

- Advertisement -

প্রয়াত শক্তিপদবাবু সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্যর পাশাপাশি ছিলেন কেশপুর জোনাল সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য৷ তিনি জেলা পরিষদেরও সদস্য ছিলেন একসময়৷ বার্ধক্যজনিত কারণে বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে মেদিনীপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৷’’ পরিবার সূত্রের খবর, মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০৷ ঘটনার জেরে এলাকার রাজনৈতিক মহলে ও গ্রামবাসীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া৷

Advertisement ---
-----