সুমন বটব্যাল, কলকাতা: বীরভূমের ডাকবাংলো মাঠ৷সোমবার দুপুর তিনটে নাগাদ অনুষ্ঠান শেষ হতেই ভিড় থেকে ভেসে আসছিল ফিসফিসানিটা- ‘কি রে মুকুল রায়ের শ্রাদ্ধ করবে বলেছিল যে, যজ্ঞ হল কই? যজ্ঞ ছাড়া কি শ্রাদ্ধ হয়?’’ পাশ থেকে চাপা গলায় অন্য জন জবাব দিলো- ‘‘হ্যাঁ শ্রাদ্ধ করল তো! দেখলি না!’’

প্রথমজন বিস্ময়ে হতবাক দেখে দ্বিতীয় জনের সহাস্য সরস মন্তব্য, ‘‘আরে বাবা রাজনীতির শ্রাদ্ধে যজ্ঞ লাগবে কেন রে পাগলা! দেখলি না মাইক্রোফোন হাতে কেষ্টদা মুকুল রায়ের কতক্ষণ ধরে মুণ্ডুপাত করল৷ ওটাই হল রাজনীতির শ্রাদ্ধ!’’

জনতার ভিড় থেকে উঠে আশা সেই প্রশ্নই kolkata24x7 এর তরফে রাখা হয়েছিল তৃণমূলের বীরভূমের দাপুটে জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের কাছে৷মোবাইলের অপরপ্রান্ত থেকে প্রশ্নটা শোনার পর দু’বার গলা খাঁকরে, খানিক থেমে গুরুগম্ভীর কন্ঠে অনুব্রত ওরফে কেষ্টর জোরালো দাবি, ‘‘‘শ্রাদ্ধ করেছি তো!’’ কি রকম? ব্যাখ্যা এলো, ‘‘এ তো যে সে কারও শ্রাদ্ধ নয়, একটা বড় চোরের (মুকুল রায়) শ্রাদ্ধ৷তাই সেটা অত্যন্ত গোপনে যেখানে করার সেখানেই করেছি! সময় এলেই এর রেজাল্ট দেখতে পাবেন!’’‘‘

১৫ হাজার পুরোহিতকে দিয়ে মুকুল রায়ের শ্রাদ্ধ করবেন অনুব্রত মণ্ডল৷সংবাদ মাধ্যমের দৌলতে শনিবারই সারা রাজ্যের সঙ্গে বীরভূমের ঘরে ঘরেও পৌঁছে গিয়েছিল সে-খবর৷ব্রাহ্মণ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণদের ভিড় হবে সেটা অজানা ছিল না কারও৷

কিন্তু সকাল থেকেই বীরভূমের ডাকবাংলো ময়দানে একটু একটু করে ভিড়টা ঘন হচ্ছিল সাধারণ জনতার৷বেলা বাড়তে ভিড়টা আরও ঘন হল৷ পুরোহিত বরণ থেকে নামাবলী, নগদ দক্ষিণা প্রদান, পেটপুরে ব্রাহ্মণ ভোজন৷ সবই হল৷ নিয়ম মেনে মঞ্চ থেকে মাইক্রোফোন হাতে মুকুল রায়ের মুন্ডুপাতও করলেন তিনি৷ কিন্তু প্রচলিত হিন্দুরীতি মেনে যেভাবে শ্রাদ্ধ শান্তি হয়, তা না হওয়ায় তৃণমূলের নিচুতলার একাংশ কর্মী হতাশ৷

একজন তো বলেই ফেললেন, ‘‘দাদাও আজকাল ফাঁকা আওয়াজ দিচ্ছে৷’’ যদিও অনুব্রত এদিনও নিজস্ব ঢঙে kolkata24x7কে বলেছেন, ‘‘আমি মুকুল রায় নই যে ফাঁকা আওয়াজ দেব৷ আমি যা বলি, তা করে দেখায়৷ বলেছিলাম, মুকুলের শ্রাদ্ধ করব, করে দেখালামও!’’ ক’দিন আগেও দলের অন্দরে যিনি ‘সেকেণ্ড ইন কম্যাণ্ড ছিলেন’ সেই মুকুল রায়কে এদিনও ‘বড় চোর’, ‘মিরজাফর’ সহ একাধিক বাছা বাছা বিশেষণে আক্রমণ করেছেন তিনি৷

জমি থেকে রাইস মিল, ক’দিন আগেই বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে অনুব্রতর সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুকুল রায়৷ এদিন তারই পাল্টা হিসেবে অনুব্রত বলেছেন, ‘’৩৫ বছর আগে মুকুল রায়ের কি ছিল? একটা ভাঙা গাড়িও ছিল না৷ ওর এত সম্পত্তি হল কি করে? ও তো একটা বড়চোর৷ সব চুরি করেই করেছে৷’’
যদিও এবিষয়ে একটি শব্দ খরচ করতেও রাজি হননি মুকুল রায়৷ তবে মুকুল ঘনিষ্ঠরা জানাচ্ছেন, আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে বীরভূমের মাটিতে কেষ্টর রাজনৈতিক শ্রাদ্ধ করতে যা যা প্রয়োজন, তাঁরা তাই করবেন৷ চলছে তারই প্রস্তুতি৷

---