“আমাকে ইন্টারকোর্স করতেই হবে”

“লাস্যময়ী শব্দটা বেশ ভালো লেগেছে। তবে ‘চোখের আবেদন’ কথাটা না লিখলেই পারতেন।” নবমীর সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্রই উক্ত দু’টি বাক্য ছুঁড়ে দিয়েছিলেন মধ্য কলকাতার টাকি বয়েজ হাই স্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের একমাত্র মহিলা সদস্য প্রীতি সেন গুপ্ত। নবমীর সন্ধ্যায় স্কুলের দাদাদের আহ্বানে রামমোহন সম্মিলনীর পুজো মণ্ডপে হাজির হয়েছিলেন রুপান্তরকামী প্রীতি। সেখানেই নিজের সম্পর্কে খোলাখুলি কথা বললেন Kolkata24x7-এর প্রতিনিধি সৌমেন শীলের সঙ্গে।

টাকি বয়েজ স্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হচ্ছেন এই লাস্যময়ী

প্রশ্ন: কলকাতায় পুজো কেমন কাটালেন?
প্রীতি: আমি পুজোটা কলকাতাতেই কাটাই। প্রতি বছর পুজোর সময় একমাসের জন্য ছুটি নিয়ে এখানে চলে আসি। সারা বছর কোনও ছুটি নিই না পুজোয় কলকাতায় আসবো বলে। কলকাতার পুজো বরাবরই আমার ভালো লাগে।

- Advertisement -

প্রশ্ন: রূপান্তরিত হওয়ার ইচ্ছে কবে হল?
প্রীতি: ছোট থেকেই মনে হতো যে আমি মেয়ে হলে ভালো হতো। মাধ্যমিকের পরের বছর মানে ১৯৯৮ সালে ঠিক করে ফেলেছিলাম যে সেক্স চেঞ্জ করব।

প্রশ্ন: এই রূপান্তরিত হওয়ার যাত্রাপথটা কেমন ছিল?
প্রীতি: স্কুলের পর আমার কলেজ জীবন কেটেছে এই শহরেই। সিটি কলেজে পড়তাম। তখন থেকেই অনেক খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু তখনই এটা করা সম্ভব ছিল না। যার একটা বড় কারণ হচ্ছে আমি ঠিক প্রস্তুত ছিলাম না। চাকরি নিয়ে দিল্লিতে সেটল হওয়ার পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে, দুম করে পুরো ব্যাপারটা হয়নি। অনেক ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছি। অনেক মেডিসিন নিতে হয়েছে। ফাইনালি এই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি অপারেশন করালাম।

প্রশ্ন: আগের জীবনটা মিস করেন?
প্রীতি: দিল্লিতে যাওয়ার পর কলকাতা শহরটা খুব মিস করি।

প্রশ্ন: সেটা বলছি না। রূপান্তরিত হওয়ার আগের জীবনটা মিস করেন?
প্রীতি: দেখুন আমি কিন্তু ছোটবেলা থেকে মানসিকভাবে মেয়েই ছিলাম। পারিপার্শ্বিক দিক বিচার করে চরম সিদ্ধান্তটা নেওয়ার সাহস পাচ্ছিলাম না। মেয়ে হওয়াটা আমার কাছে একটা বড় সাফল্য। সেখানে আগের জীবনটা মিস করার কোনও মানেই হয় না।

প্রশ্ন: আপনার পরিবারে কে কে আছেন?
প্রীতি: আমাদের বাগবাজারের বনেদি পরিবার। বাবা-মা আছে। সবাই কলকাতাতেই থাকে। আমি দিল্লিতে একা থাকি।

প্রশ্ন: আপনার এই চরম সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাবা-মা কি বললেন?
প্রীতি: বিষয়টা তাঁরা খুব ভালোভাবে মেনে নিয়েছেন এমন নয়। কিন্তু, আমাকে কখনও কিছু বলেননি। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে এটা মেনে নিয়েছেন। একপ্রকার বাধ্য হয়েই বলতে পারেন।

প্রশ্ন: একটু অন্য প্রশ্ন করছি। হোয়াট অ্যাবাউট ইয়োর সেক্স লাইফ?
প্রীতি: অপারেশনের পর সাত মাস হয়েছে। এখনও আমি সেসব নিয়ে কিছু ভাবছি না। আসলে অপারেশনের সেই যন্ত্রণাটা এখন আর তেমন না থাকলেও সেই মুহূর্তটা মনে আছে। সেই স্মৃতিটা মনে পড়লেও কষ্ট হয়। তবে খুব তাড়াতাড়ি আমাকে ইন্টারকোর্স করতেই হবে। আমার ফিডব্যাকটা ডাক্তাররা বারবার জানতে চাইছেন। কোনও প্রবলেম থাকলে সেটা রিকভার করতে হবে।

প্রশ্ন: ডাক্তারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন?
প্রীতি: এখন তো রাখতেই হবে। আসলে আমার অনেক বন্ধু থাকলেও কোনও বয়ফ্রেন্ড নেই। সেই কারণে ইন্টারকোর্সটা হচ্ছে না। ডাক্তারদের ফিডব্যাকটাও দিতে পারছি না। এটা একটা বড় প্রবলেম।

প্রশ্ন: বয়ফ্রেন্ড হচ্ছে না!
প্রীতি: তেমন মনের মতো কাউকে পাচ্ছি না।

প্রশ্ন: কেমন বয়ফ্রেন্ড পছন্দ?
প্রীতি: এটা তো পুজোর প্রপোজ হয়ে গেল। তাও আবার মণ্ডপের সামনে। (হাসি)

প্রশ্ন: আমি শুধু আপনার পছন্দটা জানতে চাইছি।
প্রীতি: এমন কাউকে চাই যে আমায় খুব ভালো বুঝবে। আমার সবটা জেনে আমায় গ্রহণ করবে। আমায় নিয়ে কোনও লুকোচুরি করবে না।

প্রশ্ন: বয়ফ্রেন্ড জুটছে না কেন? খামতি কোথায়?
প্রীতি: ওই যে বললাম লুকোচুরি। অনেকেই আমাকে আড়ালে রাখতে চাই। সেটা আমার পছন্দ নয়।

প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন, প্রীতি সেন গুপ্ত হওয়ার আগের নাম কি ছিল?
প্রীতি: সেটা ভুলে গেছি। আর মনে নেই। মনেও করতে চাই না।

Advertisement
---