৭ বছরে ৬০ বছরের কাজ করেছি: মুখ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, মেদিনীপুর: ‘‘৭ বছরে ৫০-৬০ বছরের কাজ করেছি৷’’ বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ লাইনে প্রশাসনিক বৈঠকে এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ য

এদিনের বৈঠকে দাসপুরের দলীয় বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি সেতুর দাবি জানান৷ তখনই মুখ্যমন্ত্রী এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনেন৷

আরও পড়ুন: মেদিনীপুরে বাঘের খোঁজ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী

- Advertisement -

রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কথায়, ‘‘যে কাজগুলো হচ্ছে, সেগুলো চেপে যাচ্ছ৷ আর নতুন নতুন দাবি করছো৷ আমাদের সরকার ৭ বছরে ৫০-৬০ বছরের কাজ করে ফেলেছে৷ এত দাবি মেটানো সম্ভব নয়৷’’ এদিনের বৈঠকে কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহাকেও একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী৷ শিউলিদেবী নতুন একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দাবি জানালে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘জেলায় জেলায় অনেক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়েছি৷ প্রতি ব্লকে তো এভাবে দাবি করলে দেওয়া সম্ভব নয়৷’’ এরপরই কেশপুরের বিধায়কের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ‘‘এলাকায় যাও৷ মানুষের সঙ্গে আরও বেশি করে জনসংযোগ গড়ে তোলো৷ ভাল করে কাজ করো৷’’

আরও পড়ুন: ‘ইতিহাসের পাতায় বরণীয় হয়ে থাকবেন মমতা’

বোলপুরের প্রশাসনিক সভা সেরে বুধবার সন্ধেতেই মেদিনীপুর সার্কিট হাউসে পৌঁছেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ রাতেই জেলা নেতাদের সঙ্গে একদফা বৈঠক সের নেন তিনি৷ এদিন বেলা ১২ টা থেকে সদর শহর মেদিনীপুর পুলিশ লাইনে শুরু হয় প্রশাসনিক বৈঠক৷ সেখানে নাম ধরে ধরে প্রতিটি এলাকার আমলা থেকে জন প্রতিনিধিদের দাঁড় করিয়ে উন্নয়নের হাল হকিকতের খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী৷

বৈঠকে মেদিনীপুরের বিধায়ক তথা মেদিনীপুর-খড়গপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান মৃগেন মাইতি মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, ‘‘কংসাবতী নদী ভাঙনের জেরে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে৷ এবিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভাল হয়৷’’ মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা অভিযোগ করেন, ‘‘কেন্দ্র সাহায্য করছে না৷ ফলে নদী ভাঙন সর্বত্র রোধ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷’’ যদিও মৃগেনবাবুর দাবি মতো সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷

আরও পড়ুন: লড়াই না করে এক সঙ্গে চলুন, জন প্রতিনিধিদের কড়া বার্তা মমতার

কেশিয়াড়ির জগদীশ দাস মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, ‘‘কেশিয়াড়ি-নয়াগ্রামের মাঝে ভসরাঘাট নদীর ওপর জঙ্গলকন্যা সেতু গড়ে উঠলেও সেটা অন্ধকারে ডুবে থাকে৷ আলোর ব্যবস্থা করলে ভাল হয়৷’’ মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ ওই সেতুতে দ্রুত আলোর ব্যবস্থা করার জন্য জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন৷ জেলার উন্নয়নে আরও তৎপর হওয়ার জন্য আমলা থেকে জনপ্রতিনিধি, প্রত্যেককে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, ‘‘পদে থাকলে কাজ করতে হবে৷ কোনও অজুহাত আমি শুনব না৷’’

Advertisement
---