স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সরকার থেকে ভর্তুকি দিয়েও স্টার্ট আপ-এ পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে উদ্যোগী করা যাচ্ছে না। বিপিও-র ক্ষেত্রে স্টার্ট আপের সুযোগ দিচ্ছে সরকার। দেশের অন্যন্য রাজ্য যেখানে এই সুযোগ নিচ্ছে, সেখানে অনেকটাই পিছিয়ে পশ্চিমবঙ্গ। দেশের তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রক সূত্রেই জানা গিয়েছে এই তথ্য।

গত দুই বছর বিপিও তৈরির ক্ষেত্রে এই ভর্তুকি দিচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রক৷ ইন্ডিয়া বিপিও প্রমোশন স্কিমের আওতায় এই সুযোগ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। মূলত শহরতলী থেকে গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থান এবং রোজগারের পথ তৈরির লক্ষ্যে এই সুযোগ দিচ্ছে কেন্দ্র। তথ্য অনুযায়ী নিজস্ব স্টার্ট আপ শুরুর ক্ষেত্রে এই সুযোগটাই নিতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ। তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রকের উত্তর-পশ্চিম ভারতে বিপিও স্কিমের একটি কর্মশালা হয়েছিল কলকাতায়। সেখানে উত্তর-পশ্চিম ভারতে বিপিও স্টার্ট আপের উন্নতি প্রসঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের স্টার্ট আপের ক্ষেত্রে উদ্যোগী না হওয়ার তথ্য।

তথ্য অনুযায়ী, বিপিও তৈরি ক্ষেত্রে মোট ১,৭০০ টি আসন রয়েছে। সেখানে মাত্র ২০০টি আসন নিয়েছে। বাকি ১,৫০০ টি আসন এখনও ফাঁকা রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ১৮টি জেলার ১০০টি আসন নিয়েছে শিলিগুড়ি। বাকি ১০০টি আসন নিয়েছে নদিয়া জেলার রাণাঘাট। তালিকায় শেষের দিক থেকে পন্ডিচেরী (১০০ আসন) ও চণ্ডীগড়ের উপরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

অনুষ্ঠানে ছিলেন রাজ্যের তথ্য-প্রযুক্তি দফতরের সচিব দেবাশিস সেন। রাজ্যের বিপিও স্টার্ট আপের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, “এই স্কিল গ্রামাঞ্চলের মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু এর প্রাথমিক কাজ বা অন্তর্বর্তী সমস্ত কাজ হয় কলকাতা থেকে। মেট্রো সিটি কলকাতা। এত বড় শহরে গ্রাম থেকে এসে মানুষ কী করবেন অনেক ক্ষেত্রে বুঝে উঠতে পারছেন না। কমিউনিকেশন একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “মানুষের একটা ধারণা রয়েছে বিপিও মানেই কল সেন্টার। আসলে তা একেবারেই নয়। বিপিও অ্যাকাউন্টস, ডেটা এন্ট্রি, ইন্স্যুরেন্স প্রসেসিং, ডেটা কনভারসেশন, ফর্ম তৈরি, আইটি হেল্প ডেস্ক সব কিছুই রয়েছে। একটা ডেটা এন্ট্রির কাজ নিয়েও বিপিওর স্টার্ট আপ শুরু করা যেতে পারে। একটা আসনের জন্য এক লক্ষ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছি।”

রাজ্যের তথ্য-প্রযুক্তি দফতরের সচিব বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১২টি আইটি পার্ক তৈরি হয়েছে। আরও আটটি তৈরি হচ্ছে। মানুষের কাছে এই বিষয়টা নিয়ে পৌঁছনোর জন্য প্রত্যেক মাসে একটি করে আলোচনা সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এই কাজ করছে ওয়েবেল। আশা করছি কাজ হবে।”

কাঁকিনাড়ার এক বৃদ্ধ এবং রাণাঘাটের এক যুবকের উদাহরণ টেনে এনে দেবাশিস সেন বলেন , “এরা বাড়িতেই নিজের উদ্যোগে বিপিও তৈরি করেছেন। যুবকের বিশেষ শিক্ষা নেই, বৃদ্ধের কাছেও কোনও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ছিল না। সেখানকার সাধারণ মানুষকে কাজে লাগিয়ে একজন ডেটা এন্ট্রির কাজ করছেন। বৃদ্ধ শিপ ট্র্যাকিংয়ের কাজ করছেন। এরা যদি পারেন বাকিরাও পারবেন। নিজেদের উন্নতির জন্য ফেসবুককেই ব্যবহার করা উচিৎ। কাজের সুযোগ রয়েছে এটাকে লুফে নিতে হবে।”

----
--