যাঁরা বাধা দিচ্ছে, তাঁদের চিহ্নিত করুন: মুখ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, হুগলি: উন্নয়নের প্রশ্নে কাউকে রেয়াত করা হবে না৷ বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেললাইনের কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে৷ সিপিএমের কয়েকটা লোক চাইবে না বলে রেল লাইন হবে না, মানুষ কষ্টে থাকবে, এই জিনিস আমি মেনে নেব না৷ যাঁরা করতে দেবে না, তাঁদের চিহ্নিত করুন৷- হুগলির গুড়াপের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এমনই নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

দুপুর ১টা থেকে হুগলির গুড়াপে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক বৈঠক৷ বৈঠকে জেলাশাসক, পুলিশ সুপারের পাশাপাশি প্রতিটি ব্লকের ওসি, আইসি, বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি থেকে শুরু করে সমস্ত বিধায়ক, এমনকি পুরপ্রধানরাও উপস্থিত রয়েছেন৷

একেবারে স্কুলের দিদিমণির কায়দায় নাম ধরে ধরে প্রত্যেককে দাঁড় করিয়ে উন্নয়নের হাল হকিকৎ-এর খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী৷ একের পর এক আধিকারিক, জন প্রতিনিধিকে দাঁড় করিয়ে জানতে চান- ভাঙন প্রবণ খানাকুলের কি কাজ হয়েছে? এগ্রিকালচার প্রজেক্ট ঠিক মতো হচ্ছে? পর্যটক আকর্ষক হিসেবে সবুজ দ্বীপ কতটা তৈরি?

- Advertisement -

কন্যাশ্রী কেমন চলছে? জেলাশাসক জানান, ‘‘ম্যাডাম, কন্যাশ্রীর লক্ষ্যমাত্রা আমরা পূরণ করে ফেলেছি৷’’ পালটা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘শুধু একটা ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করলে চলবে না৷ প্রতিটি ক্ষেত্রেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে৷ মনে রাখবেন- আমি কিন্তু নজর রাখছি, আর যেন সময় নষ্ট না হয়৷’’

এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে জয়রামবাটি-কামারপুকুর রাস্তার জন্য ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বেচারাম মান্নাকে দাঁড় করিয়ে জানতে চান- ‘‘বেচা উন্নয়ন কেমন হচ্ছে?’’ জবাবে বেচারাম বলেন, ‘‘দিদি কাজ ভাল হচ্ছে৷ কিন্তু আমার এলাকার ২৮ শতাংশ মানুষ সংখ্যালঘু৷ তাই এই ব্লককে যদি একটু বাড়তি বরাদ্দ করা হয়৷’’ ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান৷

এরপরই তারকেশ্বর মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে জানতে চান, ‘‘তোমাদের ঝগড়া ঝাঁটি বন্ধ হয়েছে?’’ পরক্ষণেই হুঁশিয়ারি দেন, ‘‘ঝগড়াঝাঁটি যেন আর না দেখি৷ উন্নয়নে মন দাও৷’’ পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন- ‘‘আরামবাগ থানার নতুন ভবনের কাজ তাড়াতাড়ি শুরু করুন৷’’ এরপরই বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেল লাইন প্রসঙ্গে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী৷ জন প্রতিনিধি থেকে জেলা আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘ওই রুটে রেল লাইনটা খুব জরুরি৷ রেল লাইনের জন্য যাদের সরতে হবে, তাঁদের তো আমরা যোগ্য ক্ষতিপূরণও দেব৷ এমন মানবিক সরকার, আর কোথায় রয়েছে?’’

সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলতে থাকেন, ‘‘সিপিএমের কয়েকটা লোক চাইবে না বলে রেল লাইন হবে না- এটা আমি বরদাস্ত করব না৷ ওরা (সিপিএম) নিজেরা কোনও উন্নয়ন করেনি, আবার আমাদেরও উন্নয়ন করতে দেবে না- এই জিনিস আমি মানব না৷ কারা বাধা দিচ্ছে, তাঁদের চিহ্নিত করুন৷’’

রাজনৈতিক মহলের মতে, সামনেই পঞ্চায়েত ভোট৷ এদিকে মুকুল রায় দলত্যাগী হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড়ের দাপট ক্রমেই বাড়ছে৷ এই অবস্থায় জেলায় জেলায় প্রশাসনিক বৈঠকের মাধ্যমে উন্নয়নে গতি আনতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ উন্নয়নের অস্ত্রেই তিনি পঞ্চায়েতে বিরোধীদের কুপোকাত করতে চান বলে ওই মহলের অভিমত৷ হুগলির পর বিকেলে কপ্টারে করে বর্ধমানের আউশগ্রামে পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেখানে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী রওনা দেবেন বোলপুরের উদ্দেশ্যে৷ বুধবার সেখানে বীরভূম জেলার প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী৷