‘অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে থাকলে আরও ১০টা কাশ্মীর তৈরি হবে’

নয়াদিল্লি : এনআরসির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে কাশ্মীরকে টেনে আনলেন যোগগুরু রামদেব৷ তাঁর মতে ৪০ লক্ষ মানুষ অবৈধ ভাবে এদেশে বসবাস করলে আরও ১০টা কাশ্মীর তৈরি হয়ে যাবে৷ তাতে দেশের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়বে৷

তাঁর বিরোধিতার মুখে পড়েছে রোহিঙ্গারাও৷ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে রোহিঙ্গাদেরও রেখেছেন রামদেব৷ অনুপ্রবেশকারীদের, বিশেষত রোহিঙ্গাদের ভুল পথে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে৷ যদি তারা এখানেই পাকাপাকি ভাবে থেকে যায়, তবে দ্রুত এই ভারতে আরও ১০টা কাশ্মীর তৈরি হয়ে যাবে৷

রামদেবের মতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা পাকিস্তানি হোক, বাংলাদেশী হোক বা আমেরিকান, এদেশে যে তাদের জায়গা নেই, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন রামদেব৷ তাদের ভারত থেকে যেতেই হবে বলে জানিয়েছেন যোগগুরু৷

এনআরসি নিয়ে দেশ জুড়ে চলা হইচইয়ের মাঝে যোগগুরুর এই বার্তা শাসক শিবিরের পালে হাওয়া দিল বলেই মনে করা হচ্ছে৷ অসমের পূর্ত মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এর আগে বলেন এনআরসির গোটা প্রক্রিয়ায় কোথাও জাত পাত বা ধর্মের কোনও প্রভাব নেই৷ সবটাই হচ্ছে নথির ওপরে ভিত্তি করে৷ তাই আতঙ্কিত হওয়ার বা আতঙ্ক ছড়ানোর প্রয়োজন নেই৷ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সুর টেনেই তিনি বলেন এনআরসি আসলে অসম অ্যাকর্ডেরই আরেক রূপ৷

দিন কয়েক আগেই রাজ্যসভায় অমিত শাহ বলেন, ‘‌এনআরসি তৈরি করা হয়েছে শরণার্থীদের চিহ্নিতকরণের জন্য। ১৯৮৫ সালে এই উদ্দেশ্যেই রাজীব গান্ধী অসম অ্যাকর্ড তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সেটা কার্যকর করার সাহস দেখাতে পারেননি। মোদি সরকার সেই সাহস দেখাতে পেরেছে।’‌ অমিত শাহের এই মন্তব্যের পরেই উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যসভা। বিরোধীরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। হইহট্টোগোলের জেরে দিনের মত মুলতুবি হয়ে যায় রাজ্যসভার অধিবেশন।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই যে এনআরসির দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হয়৷ তাতে অসমের ৪০ লাখ বাসিন্দার নাম বাদ পড়ে। তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব এখন প্রশ্নের মুখে। অসমে এদের এখন সরাসরি ‘অবৈধ বিদেশি’ বলেই চিহ্নিত করা হচ্ছে।