দ্বিগুণ বেড়ে যাবে জ্বালানির দাম! ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরির শঙ্কা

ওয়াশিংটন-তেহরান:  ইরানের জ্বালানী তেল-রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হলে বিশ্ব-বাজারে তেলের দাম দুই গুণ বেড়ে যাবে। এবং তাতে ব্যারেল-প্রতি তেলের দাম হবে অন্তত ১৫০ মার্কিন ডলার। সম্প্রতি ইরানের তেল-রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এরপরেই সমীক্ষা এবং গবেষণা শুরু হয়। তেল রফতানি বন্ধ হয়ে গেলে কি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে তা নিয়েই মূলত সমীক্ষা হয়। আর তাতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। এবং আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই দেশটির তেলের উত্তোলন শূন্যের কোঠায় আনা হবে। তার এই হুমকির জবাবে ইরানি প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাউকে তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। প্রেসিডেন্ট রুহানির বক্তব্য বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরআইজিসি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার হুমকি বাস্তবায়নের জন্য সৌদি বাদশাহর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন যাতে এইসব অঞ্চলের কোনো দেশের কাছেই ইরান আর তেল বিক্রি করতে না পারে। কিন্তু প্রশ্ন হল মার্কিন সরকারের এক-তরফা এ নীতি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য? আর এই হঠকারী নীতির পরিণতি কতটা ভয়াবহ হবে? এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে উদ্ভূত ভয়াবহ বিশ্ব-পরিস্থিতি সামাল দেওয়াও সম্ভব হবে কি?

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি যে পাল্টা হুমকি দিয়েছেন তাতে তিনি এটাও ইঙ্গিতে বলেছিলেন যে, একতরফা নীতি বা একচেটিয়া মার্কিন আধিপত্যের দিন শেষ হয়ে গেছে। বর্তমান বিশ্ব বহু-মেরু-কেন্দ্রীক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা বলছেন তার অর্থ যে কি তা তিনি নিজেও জানেন না। ইরানের জ্বালানী তেল খুব বেশি ভারি বলে বিশ্ব-বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়াও ইরানের অসাধারণ ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও সামরিক শক্তির কারণে ইসলামী এই দেশটির তেল রফতানি বন্ধ করার চেষ্টা হবে বালির বাঁধের মতই অকার্যকর।

আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের দেশগুলোকে ইরানের মোকাবেলায় মার্কিন নীতির শতকরা শতভাগ সহযোগী হতে বাধ্য করার যে চেষ্টা চালাচ্ছেন তা মরুভূমির মরীচিকার মতই অলীক এক কল্পনা-বিলাস মাত্র। সৌদি সরকারের সঙ্গে মার্কিন আচরণেও ট্রাম্পের এই কল্পনা-বিলাস ফুটে উঠেছে। ট্রাম্প সৌদি সরকারকে বলেছেন, সৌদির তেল উৎপাদন বাড়াতে হবে, কারণ আমি যে সামান্য অর্থ তোমাদের থেকে নিচ্ছি তার বিনিময়ে তোমাদের রক্ষা করছি ও তোমাদের নিরাপত্তা দিচ্ছি। ট্রাম্পের এ জাতীয় বক্তব্যে সৌদিকে গাভীর মত দোহনের ও অবজ্ঞা করার চিত্রই স্পষ্ট হয়। গোটা আরব বিশ্বের ব্যাপারেও এটাই হল মার্কিন নীতি।

গবেষণা সংস্থাগুলো জানিয়েছে বিশ্ব-বাজারে ইরানের তেল রফতানি বন্ধ হলে যোগানের যে ঘাটতি দেখা দেবে তা পূরণের ক্ষমতা নেই সৌদির। কারণ, চলতি বছর দৈনিক এক কোটি দশ লাখ ব্যারেলের বেশি জ্বালানী তেল উৎপাদনের ক্ষমতা সৌদি আরবের নেই। বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর মাসে ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন শুরু হলে বাজারে দৈনিক ২৭ লাখ ব্যারেলের ঘাটতি দেখা দেবে। তেল রফতানিকারক দেশগুলো এই ঘাটতি মেটানোর ক্ষমতা রাখে না। তেলের বিশ্ব-বাজারকে অস্থিতিশীল করার যে হঠকারী পদক্ষেপ ট্রাম্প নিতে চান তার পরিণতি খুবই ভয়ানক হতে পারে।

ভারত, চিন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া অতীতেও ইরানের বিরুদ্ধে আরোপ-করা তেল-অবরোধে অংশ নেয়নি। চিনের বেসরকারি তেল কোম্পানি ডংমিং জানিয়েছে, তারা আমেরিকা থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনা বন্ধ করেছে এবং ইরান থেকে তেল কিনতে যাচ্ছেন। চিনা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির জবাবে চিন সরকারও মার্কিন তেলসহ নানা ধরনের মার্কিন পণ্য আমদানির ওপর বাড়তি কর আরোপ করায় এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে চিনা এই কোম্পানি

Advertisement
----
-----