কোপেনহেগেন: তালিবানরা আমায় রুখতে পারেনি৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও তেমন ক্ষমতা নেই৷ এমই বিস্ফোরক বয়ান আফগান অভিবাসী মহিলা ফুটবলার খালিদা পোপালের৷ তিনি এখন ডেনমার্কে থাকছেন৷ ছ’বছর হয়ে গিয়েছে আফগানিস্তান ছেড়েছেন খালিদা৷

মার্কিন বিদেশ নীতিতে সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হয়েছে৷ এর জেরে তীব্র প্রতিবাদ হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে৷ খোদ মার্কিন মুলুকে মুসলিমরা হেনস্থা হচ্ছেন৷ আমেরিকার অভিবাসী আইনের ঝাপটা লাগছে ইউরোপেও৷ মনে করা হচ্ছে, সন্ত্রাসবাদে রক্তাক্ত ইউরোপের বিভিন্ন দেশ আমেরিকার মতো কড়া ভিসা নীতি গ্রহণ করতে পারে৷ এরকমই পরিস্থিতিতে দেশত্যাগী আফগান মহিলা ফুটবলার খালিদা পোপালের বয়ান সাড়া ফেলে দিল৷ তিনি জানিয়েছেন, কোনও অবস্থায় আর দেশ ফেরা সম্ভব নয়৷ তালিবানরা আমায় আটকাতে পারেনি৷ ট্রাম্পও পারবেন না৷

তিনি জানান, আফগানিস্তানে আমি ফুটবল খেলতাম৷ অনেকের কাছে হাসির খোরাক হয়েছি৷ কয়েকজনকে দেখে মনে হত প্রকাশ্যে তারা আমায় ধর্ষণ করতে পারে৷ রাত কাটত ভয়ে ভয়ে৷ তালিবান নাশকতায় আফগানিস্তান ত্যাগ করেছেন অনেকে৷ সেরকমই এক পরিবারের সদস্যা খালিদা পোপল৷ তিনি ফুটবল খেলেন৷ সবুজ মাঠে বল নিয়ে ড্রিবলিং করতেই তাঁর ভাল লাগে৷ দেশ ছেড়ে প্রথমে ভারতে চলে এসেছিলেন থালিদা৷ সেখানেই কিছুদিন ছিলেন৷ তারপর পাড়ি দেন ইউরোপে৷ ডেনিশ রাজধানী শহরের মাঠে তাঁকে ফুটবল নিয়ে মত্ত থাকতে দেখা যায়৷

ডেনমার্কের সুস্থ পরিবেশে ধীরে ধীরে ফুটবলের রকমারি কলাকৌশল শিখছেন খালিদা৷ তাঁর জন্য বিশেষ হিজাব ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ পরিচিতি বাড়ছে৷ খালিদার খেলা দেখে মুগ্ধ আমেরিকার ফুটবল রিক্রুটাররা৷ তাঁর কাছে মার্কিন মুলুকের ক্লাব ফুটবলে খেলার প্রস্তাব এসেছিল৷ তারমধ্যেই সরকার পরিবর্তন হয়৷ ক্ষমতায় এসে নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর অভিবাসন আইন জারি করেন৷ এর জেরেই ভিসা আটকে গিয়েছে খালিদার৷ এতেই ক্ষুব্ধ দেশ ছাড়া, পরিবারহীন এই আফগানি মহিলা ফুটবলার খালিদা পোপাল৷ জানিয়েছেন, একটা কেন একশো জন ট্রাম্প এলেও আমায় ধরে রাখতে পারবে না৷

----
--