তৃণমূল বনধ রুখতে এলে আগুন জ্বলবে: শতরূপ ঘোষ

স্টাফ রিপোর্টার কলকাতা: এককালে বনধ ডাকায় রেকর্ড ছিল তৃণমূলের৷ পরে পরিস্থিতি বদলের সঙ্গেই পালটে যায় অবস্থান৷ বনধের ঘোরতর বিরোধী হয়ে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সে ধারায় আজও বিশ্বাসী রাজ্যের শাসক দল৷ তাই বিরোধী যেকোনও দলের বনধ ঠেকাতেই মরিয়া তৃণমূল সরকার৷ সম্প্রতি বামেদের ডাকা বনধ আটকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে সিপিএম-ও৷ ‘উচিৎ জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দালের ছাত্র নেতা শতরূপ ঘোষের৷ ফলে ৮ ও ৯ জানুয়ারি বনধকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতির সরগরমের অপেক্ষায়৷

কেন্দ্র সরকারের কৃষক ও শ্রমিক বিরোধীনীতি এবং রাফায়েলের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধে মঙ্গল ও বুধবার সারা ভারত ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাম ট্রেড ইউনিয়ন৷ কংগ্রেসের ট্রেড ইউনিয়নও এই বন্ধকে সমর্থন করেছে৷ সিঙ্গুরে-নন্দীগ্রাম থেকে নবান্ন কৃষকদের লং মার্চ করিয়ে বঙ্গে নিজেদের শক্তি জাহির করেছে বামেরা৷ এবার বনধ আটকানো নিয়ে তৃণমূলকে রীতিমত হুমকি দিলেন বাম যুব নেতা শতরূপ ঘোষ৷ তিনি বলেন, ‘‘বনধ আটকাতে এলে বাংলায় আগুন জ্বলবে৷ আর তার জন্য দায়ী থাকবে তৃণমূল৷’’

আরও পড়ুন: জোটে যাচ্ছে না তৃণমূল, সাফ জানালেন কেষ্টা

শতরূপের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘আমরা কোন মানুষকে জোর করে বনধ করাতে যাব না৷ কিন্তু যদি কেউ স্বেচ্ছায় বনধ করে আর তৃণমূলের লোকেরা এসে জোর করে দোকান খোলাতে চায় তাহলে পালটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আমরা৷’’

মমতার বনধ বিরোধীতার তত্ত্ব প্রচার করে ‘মোদী ভাই-দিদি ভাই’কে এক বন্ধনীতে এনে রাজনৈতিক ফায়দা লাভেরও চেষ্টা করছে সিপিএম৷ বাম ছাত্র নেতা শতরূপ বলেন, ‘‘এই বন্ধ মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির দালালি করছেন৷ বিজেপি শাসিত রাজ্যেও বনধ, ধর্মঘট হয়৷ কিন্তু আমাদের রাজ্যে বিজেপির সরকার নেই তাও বনধে বাধা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে এই সরকার৷ একেই বোধহয় বলে রাজা যত বলে পারিষদ বলে তার শতগুণ৷’’

তবে এখানেই থামেননি শতরূপ৷ জোড়া-ফুলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘ উনি সরকারি কর্মচারীদের মাইনে কাটার কথা বলছেন৷ ধর্মঘট না করেও প্রতিমাসে ৫০ শতাংশর বেশি টাকা কাটা যায় সরকারি কর্মচারীদের৷ কারণ ওই পরিমাণ ডিএ এখনও বকেয়া৷ বনধের দিন কটা গুন্ডা নামিয়ে দোকান পাট খোলাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লজ্জা করবে না? পারলে বনধ চা বাগানগুলো খুলে দেখাক৷ চাকরি ক্ষেত্রে শিক্ষিত যুবসমাজ অঘোষিত ধর্মঘট পালন করতে বাধ্য হচ্ছে তৃণমূলের নীতির জন্য পারলে সেই ধর্মঘট তুল দেখান৷’’

মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বাম ট্রেড ইউনিয়নগুলির আন্দোলন৷ কিন্তু এরাজ্যে কার্যত যা হয়ে উঠবে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ৷ মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

---- -----