কাঁকিনাড়ার পরে আগরপাড়া, ফের অস্ত্র কারখানার হদিশ বারাকপুরে

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: কাঁকিনাড়ার পরে এবার আগরপাড়া। ফের বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় সন্ধান মিলল অস্ত্র কারখানার হদিশ।

বুধবার দুপুরের দিকে আগরপাড়ার উশুমপুর বটতলা এলাকায় অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারি দল বা এসটিএফ। ঘোলা থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে উশুমপুর বটতলা খেলার মাঠ সংলগ্ন দোতলা বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ।

ওই বাড়িতেই চলছিল অস্ত্র তৈরির কারবার। বাড়ির মালিকের নাম কালাচাঁদ মণ্ডল। তাঁর বাড়ির একতলা ভড়া নিয়েই চলছিল অস্ত্র তৈরির কারখানা। মালিক কালাচাঁদ মণ্ডলের দাবি, “লেদ কারখানা চালানোর জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অস্ত্র তোইরি হচ্ছে তা বুঝতে পারিনি।”

- Advertisement -

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই মূল অভিযুক্ত মহম্মদ পাপ্পু ওরফে পাপ্পু খান পলাতক। মাসিক ২৪ হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল কামারহাটির বাসিন্দা পাপ্পু। ওই কারখানায় কাজ করা আর সাত কর্মীরও কোনও খোঁজ নেই। ওই বাড়ি থেকে ৬২ টি অবৈধ বন্দুক, দুটি লেদ মেশিন, পালিশ মেশিন এবং অবৈধ বন্দুক তৈরির প্রচুর যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে।

সপ্তাহ খানেক আগেই কাঁকিনাড়ায় এমনই অস্ত্র কারখানার হদিশ পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে লাড্ডু কারখানার আড়ালে চলছিল অস্ত্র তৈরির কারবার। গত মাসের শেষের দিকেই ওই অস্ত্র কারখানায় অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। বিপুল অস্ত্র তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই অভিযানে ধৃতদের জেরা করেই আগরপাড়ার অস্ত্র কারখানা সম্পর্কে তথ্য জানতে পারেন তদন্তকারীরা। সেই অনুযায়ীই চালানো হয় অভিযান। আগরপাড়াতেও কাঁকিনাড়ার কারখানার মতোই লেদ মেশিন এবং অন্যান্য নানাবিধ অস্ত্র তৈরির উপকরণ পাওয়া গিয়েছে।

দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে এত দুই জায়গায় অস্ত্র তৈরির কারখানা উদ্ধার ঘিরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। প্রশ্ন উঠেছে বারাকপুর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও।

এসটিএফ মনে করছে যে পড়শি রাজ্য বিহারের মুঙ্গের, ছত্তিশগড় প্রভৃতি এলাকার অবৈধ অস্ত্র কারবারীদের সঙ্গে এখানকার অস্ত্র কারবারীদের যোগসূত্র রয়েছে এবং দেশ জুড়ে বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধ অস্ত্র তৈরীর রমরমা কারবার চালাচ্ছে দুষ্কৃতিরা। এই অস্ত্র কারবারীদের সঙ্গে কোন জঙ্গিযোগ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা গোটা ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘এই প্রথম আগরপাড়া এলাকায় এত বড় ঘটনা ঘটল। ঘনজনবসতিপূর্ণ এলাকায় বন্দুক তৈরি হচ্ছে তা অভাবনীয়। পুলিশের উচিত আরও সজাগ থাকা। স্থানীয় মহিলারা বলেন, ‘সম্প্রতি এই এলাকায় অপরিচিত মানুষ জনের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছিল। তবে এত দিনে আমরা বুঝলাম এখানে কেন অপরিচিত মানুষ জনের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছিল।’

এসটিএফ বাড়ির মালিক কালাচাঁদকে গ্রেপ্তার করেনি, তবে যেকোন সময় তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে তদন্তকারী এসটিএফ আধিকারিকরা ।

Advertisement ---
-----