স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি : জেলা সফরে এসে ভূমি দফতরের কাজে রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কড়া হাতে বেআইনী ইঁটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি৷ তবে সেই পরিস্থিতির যে বদল হয়নি, তা স্পষ্ট৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ নজরদারির অভাবে বীরভূমে অবাধে চলছে বেআইনি ইঁটভাটা৷

প্রতিটি ব্লকে পরিদর্শকের নজরদারির অভাবে রমরমিয়ে চলছে বাংলা ভাটার ইট তৈরীর কাজ৷ প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রশাসনের কাছে ভাড়া চালানোর অনুমতি অর্থাৎ পরিবেশ আদালতের ছাড়পত্র পেলে তবেই জেলা জুড়ে ইটভাটা চালানো যাবে। সেক্ষেত্রে মাটির জন্য ২০০২ সালের মাইনর মিনারেল আইন মোতাবেক আগাম রাজস্ব জমা দিতে হয়৷ কিন্তু জেলায় ১৮৫ টি নথিভুক্ত চিমনি ভাটার বাইরে অসংখ্য বাংলা ভাটা ইঁটের কারবার চলছে রমরমিয়ে৷ যা রাজ্যজুড়ে নিষিদ্ধ৷

বাংলা ভাটা কোথায় কোথায় চলছে তা দেখার জন্য প্রতিটি ব্লকে বিডিও, ভূমি আধিকারিক ও থানার ওসিকে নিয়ে কমিটি আছে, কিন্তু অভিযোগ তাদের চোখের সামনে জেলা জুড়ে চলছে মাটি মজুত করার কাজ৷ রাজস্ব ছাড়া বাংলা ভাটা ইটের কারবার চলছে সেই সঙ্গেই৷ মহম্মদ বাজার, লাভপুর, সাঁইথিয়া এবং সিউড়ি দু’নম্বর ব্লকে ইঁট ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে থানায় ডায়েরি করেছিলেন বিডিওরা। অভিযোগ তারপরে আর কোনো পদক্ষেপ করেননি পুলিশ প্রশাসন৷

এছাড়াও অভিযোগ কোথাও কোথাও তৃণমূলের একাংশ অভিযুক্ত ইটভাটা মালিকদের সাথে যুক্ত৷ যার জেরেই রমরমিয়ে চলছে বেআইনি বাংলা ইটের ভাটা৷ যদি এ প্রসঙ্গে জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসুর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷ ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ বীরভূম ব্রিকস ওনার অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সম্পাদক দিলীপ পাল বলেন, “প্রশাসন অবৈধ ইটের ব্যবসা বন্ধ না করলে আমরা বৈধ ইট ব্যবসায়ীরা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হব”৷