একদিনে ১৩টি বালি খাদান বণ্টনের অনুমোদন অখিলেশের, দাবি সিবিআইয়ের

ফাইল ছবি৷

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের বেআইনি বালি খনন তদন্তে নেমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই৷ সোমবার সিবিআই জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় অখিলেশ যাদব একদিনে ১৩টি প্রজেক্টে সই করেছেন৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, এই ১৩টি বালি খনির বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে মানা হয়নি ই-টেন্ডার পদ্ধতি৷ এক্ষেত্রে অখিলেশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ কেননা মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় তাঁর হাতেই ছিল খনি দফতর৷

সিবিআই এদিন জানিয়েছে, ২০১২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৪টি খনির মধ্যে ১৩টি খনির লিজে ছাড়পত্র দেওয়া হয়৷ মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে সবুজ সঙ্কেত পেয়ে হামিরপুরের জেলাশাসক বি চন্দ্রকলা খনির লিজে ছাড়পত্র দেন৷ যথারীতি অখিলেশ যাদবের বিরুদ্ধে জেনেশুনে বেআইনিভাবে খনি বণ্টন করার অভিযোগ করছে বিজেপি৷ অন্যদিকে বিএসপি, কংগ্রেস ও আপ অখিলেশের পাশে এসে দাড়িয়েছে৷ বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে জানিয়েছে, লোকসভা ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশে মহাজোট আটকাতে সিবিআইকে ব্যবহার করছে কেন্দ্র৷

সূত্রের খবর, বসপা নেত্রী মায়াবতী অখিলেশকে ফোন করে তাঁকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন৷ পরে সাংবাদিকদের মায়াবতী বলেন, ‘‘এগুলি সবই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র৷ প্রথমে সিবিআই তল্লাশি ও পরে বেআইনি বালি খনন তদন্ত এই সবকিছু উত্তরপ্রদেশে মহাজোট আটকানোর প্রয়াস৷ এই ধরনের ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি বিজেপির কাছে নতুন কিছু নয়৷ দেশের মানুষ বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দেবে৷’’ বসপার মতো কংগ্রেসও বিজেপিকে তোপ দেগে অখিলেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে৷ প্রবীণ কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ জানান, এটা বিজেপির প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি৷ একই কথা বলেছে আম আদমি পার্টি৷

শনিবার বহুজন সমাজ পার্টি ও সমাজবাদী পার্টির হাত মেলানোর খবর প্রকাশ্যে আসতেই উত্তরপ্রদেশে বেআইনি বালি খনন নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিবিআই৷ সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতায় ছিলেন সমাজবাদী পার্টির দ্বিতীয় সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব৷ ফলে এই তদন্তে উঠে এসেছে তাঁর নামও৷ অখিলেশ অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত৷ যখনই সিবিআই ডাকবে তিনি তখনই যাবেন৷