বরকতিকে তামাচা মেরে ‘উপদেশ’ দিল রানা

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বহিরাগতদের হাতে আক্রান্ত হয়েছে টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম বরকতি। মসজিদ চত্বরে থাকা লোকজন বা বরকতির অনুগামীরা কেউ চিহ্নিত করতে পারেননি আক্রমণকারীদের। কিন্তু, Kolkata24x7-এর হাতে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বৃহস্পতিবার ইমাম বরকতির উপর হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা উপদেশ রানা

এর আগে চলতি বছরের শুরু দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মাথা ন্যাড়া করে দিতে পারলে ২৫ লক্ষ টাকা টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করেছিলেন টিপু সুলতান মসজিদের শাহি ইমাম মৌলানা রহমান বরকতি। সেই সময় বরকতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শহরে এসেছিলেন এই উপদেশ রানা। সেই সময় যুবক উপদেশের সঙ্গে এসেছিল প্রায় দেড়শো অনুগামী। সকলেরই দাবি ছিল নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে বরকতিকে। অন্যথায় ফল ভালো হবে না বলেও হুমকি দিয়েছিল উপদেশ রানা এবং তাঁর অনুগামীরা। কলকাতা প্রেস ক্লাবে ইমাম বরকতি সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেন। এরপরেই ইমামকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইউটিউবে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন উপদেশ।

এবার দেড়শো নয়, প্রায় ২০০ অনুগামী সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় এসেছেন বলে জানিয়েছেন উপদেশ রানা। উত্তর প্রদেশের মীরাটের বাসিন্দা উপদেশ কর্মসূত্রে থাকেন বাণিজ্য নগরী মুম্বইতে। চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত উপদেশ কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নয় বলেই দাবি করেন। তাঁর কথায়, “আমি বিজেপি বা আরএসএস কোনও প্রকার রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নেই। আমি ভারতের একজন নাগরিক। দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে যে বা যারা ফতোয়া জারি করে। দেশের সংবিধান না মানার কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কলকাতায় এসেছিলাম। আজ নিজের উদ্দেশ্য সফল হওয়ায় শান্তি পেলাম।” এদিন বরকতিকে আক্রমণের সময়ের ভিডিও ক্যামেরাবন্দী করে উপদেশের এক অনুগামী।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, এদিন বিকেলের দিকে মসজিদে আগত ভক্তদের নামাজ পড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইমাম বরকতি। এমন সময় আচমকাই তিন চার জন যুবক এসে তাঁর উপরে আক্রমণ চালায়। আক্রমণকারীরা সকলেই অপরিচিত বলে জানিয়েছেন মসজিদে থাকা লোকেরা। বরকতি অনুগামীরা ধাওয়া করেও আক্রমণকারীদের ধরতে পারেনি।

এই ঘটনার জন্য আরএসএসকে দায়ী করেছেন ইমাম সাহেব। একইসঙ্গে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ নাদিমুল হককেও কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। নাম উল্লেখ না করে বরকতি বলেছেন, “একটি উর্দু পত্রিকার মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মানুষকে উত্তেজিত করা হচ্ছে।” আখবর-ই-মাসরিক নামের ওই পত্রিকার কার্যনির্বাহী সম্পাদক হলেন সাংসদ নাদিমুল হক। কিছুদিন আগে ওই সাংসদ এবং পত্রিকার দফতরে বরকতি অনুগামীরা হামলা চালিয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল।

দেখুন ভিডিও:

Advertisement ---
---
-----