‘পাকিস্তানে গেলে ভালো প্রশাসনিক পদ পাবে বরকতি’

বর্ধমান: বরকতির বিরুদ্ধে রীতিমত আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার দফতরের মন্ত্রী তথা জমিয়তে উলেমা-এ হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। সোমবার বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতে থাকতে হলে ভারতের আইনই মানতে হবে। আর যদি পাকিস্তানের আইন মানতে হয় তাহলে তাকে পাকিস্তানেই চলে যেতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি৷ আর সেখানে গেলে বরকতি সাহেব যে পাক প্রশাসনে একটি ভালো পদ দখল করতে পারবেন সেই বিষয়ে সিদ্দিকুল্লা আশাবাদী৷

তিনি আরও জানিয়েছেন, এই বিষয়ে রাজ্য জমিয়তে উলেমা-এ হিন্দ রাস্তায় নেমেছে। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এদিন জানিয়েছেন, বর্তমানে গোটা ভারতবর্ষ জুড়েই অসহিষ্ণুতা দেখা দিয়েছে৷ কিন্তু বাংলা সহিষ্ণুতার পীঠস্থান৷ বাংলা ভারতবর্ষের কাছেও একটা মডেল রাজ্য। সেখানে চিড় ধরানোর চেষ্টা চলছে। এটা অত্যন্ত দুঃখের এবং লজ্জারও। এই কালো মেঘ দেখে আবহাওয়া দফতরের মত তাঁরাও বাংলাবাসীকে সতর্ক করছেন। এরপরেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী রীতিমত একহাত নিয়েছেন কলকাতার টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম বরকতি সাহেবের বিষয়ে। তিনি বলেন, বরকতি সাহেব যে আসনে রয়েছেন সেই ইমামের আসন অত্যন্ত সম্মানের চেয়ার। ১০ লক্ষ মানুষ পিছু একজন ইমাম থাকেন। ইমামের চেয়ারে বসে কুরুচিকর মন্তব্য একেবারেই উচিত নয় বলে তিনি জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে সিদ্দিকুল্লা বলেন, হঠাৎ করেই বরকতি সাহেব কেন এরকম বলছেন? তাঁর পিছনে কি আরএসএস বা অন্য কোনো শক্তি রয়েছে?এমনটাই প্রশ্ন তুলেছেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

বস্তুত, এদিনই বর্ধমানে বসে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বরকতির সঙ্গে বিজেপির গোপন সম্পর্কের প্রতিই ইঙ্গিত করে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রীকে চাপে রাখার জন্য এই সমস্ত করা হচ্ছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নামে গালাগাল মেনে নেওয়া হবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বরকতি নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা করুন। না হলে মানুষ আছে। ইমাম সাহেবকে সংযত হওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সিদ্দিকুল্লা আরও বলেন, নেতা থেকে বিচারপতিদেরও জেল হচ্ছে। সেখানে বরকতি কি ভাবছেন যে তিনি এসবের বাইরে রয়েছেন? আইন আইনের পথেই চলবে। রীতিমত বরকতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, এদেশে যদি তাঁর পছন্দ না হয় তাহলে পাকিস্তান চলে যেতে পারেন তিনি।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, টিপু সুলতান মসজিদের ইমামের লালবাতি বিতর্কের পরই যখন তার লালবাতি খুলে দেওয়া হয়েছে সেখানে সোমবার বর্ধমানে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী লালবাতি লাগানো গাড়িতেই দেদার ঘুরলেন। এমনকি, তার সঙ্গে থাকা অন্য একটি গাড়িতেও এদিন লালবাতি লাগানো অবস্থায় ঘুরে বেড়ালো বর্ধমানে। সাংবাদিক বৈঠকে এদিন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী জানিয়েছেন, তাঁর বিধানসভা মঙ্গলকোটে এদিনই ৪০ জন পুরোহিত, ৪০ জন ইমাম এবং ৪০ জন শিক্ষককে নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেল বন্ধন ঘটাতে বৈঠক করা হয়েছে। এদিন এই ১২০ জনের মধ্যে হিন্দু পুরোহিতদের ধুতি, ইমামদের লুঙ্গি এবং শিক্ষকদের একটি করে পাঞ্জাবিও উপহার দেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

তিনি জানিয়েছেন, এদিনের এই বৈঠকে মঙ্গলকোটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয় নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে তেমনি আলোচনা হয়েছে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে। ছাত্রছাত্রীদের হাতে আরও বই, স্কুলছুট আটকাতে কি কি করণীয় সে বিষয় নিয়েও এদিন বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উল্লেখ্য, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এদিন মঙ্গলকোটের সাম্প্রদায়িক বাতাবরণ নিয়ে বৈঠক করলেও প্রায়শই মঙ্গলকোট রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বারবারই শাসকদলের নেতাদের আক্রান্ত হওয়ারও ঘটনা ঘটছে। এই ব্যাপারে তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলকোটে কোনোরকম সংঘর্ষকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি জানিয়েছন, খুব শীঘ্রই মঙ্গলকোট শান্ত থাক এই শ্লোগানে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে মঙ্গলকোটে মহামিছিলেরও ডাক দেওয়া হয়েছে।

Advertisement ---
-----