ইসলামাবাদ এক্সপ্রেসের ওয়েটিং লিস্টে ইমরান

বিশেষ প্রতিবেদন: জয়টা মসৃণ হয়নি৷ বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন৷ নয়া পাকিস্তানের দাবিদার ইমরান খান এখন খুঁজছেন জোট অংকের সহজ সমীকরণ৷ তেহরিক ই ইনসাফকে ক্ষমতায় আসতে গেলে নির্দল ও অন্যান্যদের সাহায্য নিতেই হবে এটা পরিষ্কার৷ আর এখানেই বাড়ছে জোট জটিলতা৷

পাক জাতীয় আইনসভার সদ্য শেষ হয়েছে ২৭২টি আসনের ভোট লড়াই৷ এতে যার দখলে ১৩৭টি আসন থাকবে সেই ক্ষমতার কেন্দ্রে৷ নির্বাচনী হিসেবে ইমরানের দখলে শতাধিক(১১৬+) আসন এলেও ম্যাজিক ফিগার আসেনি৷ আপর প্রতিদ্বন্দ্বী তথা ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়া পিএমএল(এন) ৬৩ এবং অপর প্রতিদ্বন্দ্বী দল পিপিপি পেয়েছে ৪৩টি আসন৷ বাকি ৪৫টি আসনের ফলাফল গিয়েছে অন্যান্যদের দখলে৷

নির্বাচনে তেহরিক ই ইনসাফ (পিটিআই) বাদে তিন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ শরিফের পিএমএল(এন), বিলাবল ভুট্টোর পিপিপি এবং এমকিউএম সরাসরি নির্বাচনী ফল গণনা প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছে৷ তাদের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছে আরও কয়েকটি দল৷ এতে বাড়ছে জোটের জটিলতা৷ পাক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকর ধারণা, এই জটিলতা কাটিয়ে আনতে সময় লাগবে৷ তবে পিটিআইয়ের তরফে বিভিন্ন উপায়ে জোটের পথ পরিষ্কারের চেষ্টা হলেও এখনও স্পষ্ট সমর্থন দেয়নি কোনও পক্ষ৷

- Advertisement -

লাহোরে জন্ম ইমরান খানের৷ পাঞ্জাব প্রদেশের এই শহর পাক চিন্তন মননের কেন্দ্র হিসেবেই সুপরিচিত৷ সেই অর্থে ইমরান খান লাহোরি৷ ক্রিকেটে ছেড়ে রাজনীতিতে নামা ইমরান পরে ক্ষমতা দেখিয়েছেন পাক আফগান সীমান্তের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে৷ আর পাঞ্জাব প্রদেশে বরাবরের মতো শক্তিশালী শরিফ পরিবার৷ সদ্য শেষ হওয়া ভোটে এই প্রদেশে ইমরানের প্রভাব বাড়লেও শরিফরা এগিয়ে৷ সিন্ধ প্রদেশের পিপিপি বেগ দিয়েছে৷ আর অন্যান্য দলগুলির জয়ী প্রার্থীরাতো আছেই৷

লাহোর ছাড়াও রাজধানী ইসলামাবাদের নিবাসী ইমরান খান৷ সরকার বিরোধী একাধিক ইস্যুতে বারবার রাজধানীর রাস্তায় তিনি নেমেছিলেন৷ প্রবল বিক্ষোভ দেখিয়ে জনসমর্থন আদায় করেছেন৷ কিন্তু চূড়ান্ত পর্বে এসে ম্যাজিক ফিগারটাই হাত ফসকে গেল৷ জোট করতেই হবে তাঁকে৷ পাক রাজনীতির ভবিতব্যের মতো সেনার রক্তচোখ থাকবে তাঁর দিকেই৷ সেই সঙ্গে থাকবে জোটের খোঁচা৷ কঠিন থেকে কঠিনতর হতে চলেছে কিং খানের পরবর্তী সময়গুলো৷ আপাতত ইসলামবাদ যাওয়া এক্সপ্রেসের ওয়েটিং লিস্টে আছেন কিং খান৷

Advertisement ---
-----