প্রতীকী ছবি৷

কলকাতা: প্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে ভারত৷ ওই প্রগতি যেমন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে৷ তেমনই তা আবার দেখা দিয়েছে সামাজিক ক্ষেত্রেও৷ একই সঙ্গে, নারী প্রগতির জন্যেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও জোরদার হচ্ছে আন্দোলন৷ অথচ, এখনও পর্যন্ত এ দেশের ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহার হয় না স্যানিটারি ন্যাপকিন৷

সার্বিক প্রগতির পথে ভারত কীভাবে, কতটা এগিয়ে চলেছে, সে বিষয়ে অবশ্য বিভিন্ন মহলে যুক্তি-তর্কের খামতি নেই৷ তবে, খামতি রয়ে গিয়েছে এ দেশের মহিলাদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়ে৷ তাও আবার রজঃস্রাবের সময়ে স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে৷ যে কারণে, মহিলারা থেকে যাচ্ছেন অসুরক্ষিত৷ রজঃস্রাবের সময় কীভাবে সুস্থ রাখতে হবে নিজেদের, সেই বিষয়েও খোদ মহিলাদের মধ্যেই এখনও রয়ে গিয়েছে যথাযথ সচেতনতার অভাব৷ কারণ, নানা রকমের ধ্যান-ধারণার জেরে, রজঃস্রাবের বিষয়ে এখনও সাধারণত বজায় রাখা হয় গোপনীয়তা৷ কাজেই, রজঃস্রাবের বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত সেভাবে শিক্ষিত হয়ে উঠতেও পারেননি খোদ বহু মহিলাই৷

এমনই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়৷ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রে ভারত প্রগতির পথে এগিয়ে চললেও, এখনও পর্যন্ত এ দেশের ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবহার হয় না৷ যে কারণে, রজঃস্রাবের সময় অসুরক্ষিত থেকে যায় ওই মহিলাদের স্বাস্থ্য৷ স্যানিটারি ন্যাপকিনের অন্যতম একটি ব্ল্যান্ড স্টেফ্রি-র তরফে ওই সমীক্ষা করা হয়েছে৷ বুধবার, ২৭ মে মুম্বইতে ওই ব্র্যান্ডের তরফে রজঃস্রাব বিষয়ক এক আলোচনারও আয়োজন করা হয়৷ ওই আলোচনায় অংশ নেন বিশেষজ্ঞ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ব্যক্তিত্বরাও৷ ওই আলোচনায় এমনই জানানো হয়েছে যে, রজঃস্রাবের বিষয়টি এখনও এ দেশে স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হয়৷ যে কারণে এই বিষয়ে খোলামেলা আলোচনারও তেমন অবকাশ দেখা যায় না৷

রজঃস্রাবের বিষয়ে খোদ মহিলাদের মধ্যেই নানা রকমের ধ্যান-ধারণা থাকায়, পরিবারের মহিলাদের মধ্যেও এই বিষয়ে সেভাবে আলোচনা হয় না৷ এমনই নানা কারণে, রজঃস্রাবের বিষয়ে বহু মায়ের মধ্যেও রয়েছে যথাযথ জ্ঞানের অভাব৷ কাজেই, সেক্ষেত্রে ওই মায়েরা রজঃস্রাবের বিষয়ে তাঁদের সন্তানদেরও সঠিকভাবে গাইড করতে পারেন না৷ এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য বহু ক্ষেত্রে আবার শিক্ষার বিষয়টিও জড়িত রয়েছে৷ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, নিজেদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়ে খোদ মহিলাদের মধ্যেই সচেতনতা অত্যন্ত কম রয়ে গিয়েছে৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ রজঃস্রাবের বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান এবং ওই সময় কীভাবে নিজেদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা করতে হবে, এমন নানা বিষয়ে এখনও পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ৭৫ শতাংশ মহিলার মধ্যেও যথাযথ সচেতনতার খামতি রয়ে গিয়েছে৷

বর্তমানে প্রায় প্রতিটি পরিবারের একজনের রজঃস্রাব নিয়মিত হয় না৷ তা সত্ত্বেও সেভাবে গুরুত্ব দিতেও দেখা যায় না৷ এমনকী, স্যানিটারি ন্যাপকিনের মতো সাধারণ উপায়েও যে স্বাস্থ্যসুরক্ষিত রাখা সম্ভব, তাও দেখা যায় না সেভাবে৷ রজঃস্রাবের বিষয়টি যে মহিলাদের সার্বিক স্বাস্থ্যের উপরেও প্রভাব ফেলে, সেই বিষয়টিও উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে যথাযথ সচেতনতার অভাবে৷ রজঃস্রাবের সময় কীভাবে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সম্ভব, তার জন্য কোন ধরনের প্রতিরোধকমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, সেই সব বিষয়ে ২০১৮-র মধ্যে ভারতের ১০০ মিলিয়ন অর্থাৎ ১০ কোটি তরুণীকে শিক্ষিত করে তুলতে ওই ব্র্যান্ডের তরফে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে৷ এখানেও আবার থেমে থাকতে রাজি নয় ওই ব্র্যান্ড৷ যে কারণে, রজঃস্রাবের বিষয়ে মহিলাদের যথাযথ শিক্ষিত করে তুলতে, ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড-ও (YouTube channel) করা হয়েছে৷

----
--