বন্ধুর খোঁজে ভোর তিনটের সময় দুর্ঘটনাস্থলে

সোয়েতা ভট্টাচার্য, কলকাতা: বিকেল থেকেই টিভির পর্দায় চোখ ছিল বেহালার বাসিন্দা পার্থ ঘোষ ও তার পরিবারের ৷ মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ার ঘটনায় তাদের পরিচিত সৌমেন বাগের মৃত্যুর খবর পেয়ে উদ্বেগ আরও অনেকটাই বেড়ে যায় ৷ কারণ পার্থ-র বন্ধু সুমিত বসু মঙ্গলবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ৷

মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা সুমিত বসু পড়াশুনোর জন্য কয়েক বছর আগে তার বন্ধু পার্থর বাড়িতে থেকে পড়াশুনো শুরু করে ৷ দুর্ঘটনার দিনে বিকেল 8 টে নাগাদ সে বেহালা থেকে বের হয় ৷ তবে রাতে ফেরার সময় পেরিয়ে গেলেও ঘরে ফেরেনি সুমিত ৷ এই খবর ছড়িয়ে পরার পর থেকেই তাদের চিন্তা আরও অনেকটাই বেড়ে যায় ৷ পার্থ সেই সময় বাড়ির বাইরে ছিল ৷ তার মা তাকে সুমিতের বিষয় জানিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগও প্রকাশ করে ৷

বাড়ি ফিরেই সুমিতের খোঁজ শুরু করে পার্থ ৷ তবে সুমিত এর সঙ্গে ফোনে কোনও ভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না ৷ পার্থ জানায় , মায়ের কাছে বিষয়টা জানতে পারার পর থেকেই সুমিত কে ফোন করা শুরু করি ৷ তবে কোনওভাবেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি ৷ আমরা জানতাম যে ও যাতায়াতের জন্য বেশির ভাগই মাঝেরহাট ব্রিজের রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করত৷খবরটা জানার পর থেকেই সুমিতে জন্য আমাদের চিন্তা শুরু হয় ৷

পড়ুন: ‘‘মেট্রোর কাজ নয়, সংস্কারের অভাবই সেতু দুর্ঘটনার কারণ’’

অন্যদিকে কলকাতায় ঘটে যাওয়া এমন একটি ঘটনার খবর সুমিতের বাড়িতেও পৌঁছে যায় ৷ মুর্শিদাবাদ থেকে সুমিতের পরিবারের সদস্যরা তার খবর নিতে পার্থর সঙ্গে যোগাযোগ করে ৷ সব বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও খবর পাওয়া যায়নি সুমিতের ৷ শেষমেশ নিজের বন্ধুর খোঁজ পেতে সরাসরি ভোর তিনটে নাগাদ মাঝেহাটের ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পার্থ ৷

তিনি জানান ঘটনাস্থলে এসেও পুলিশকে তার বন্ধুর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে সে ৷ তবে পুলিশের কাছ থেকেও কোনও সদূত্তর সে পায়নি বলেই জানায় ৷ তার পরই আশাহত হয়ে পড়ে পার্থ ৷ তার বন্ধুর পরিবারের সদস্যদের কি জবাব দেবে তাও ভেবে পাচ্ছেনা সে ৷ আশাহত হয়ে শহরের হাসপাতালগুলিতে বন্ধুর খোঁজ পেতে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই যুবক ৷

Advertisement
---
-----