ভোট বাড়লেও বিজেপিমুখী হয়ে ওঠেননি আমজনতা

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: এ রাজ্যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটের হার বেড়েছে বিজেপির৷ প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে প্রধান বিরোধী দল হিসাবেও বিজেপি উঠে এসেছে৷ অথচ, পশ্চিমবঙ্গের আমজনতা এখনও বিজেপিমুখী হয়ে ওঠেননি৷ এমনই বলছে খোদ গেরুয়া শিবিরেরই বিভিন্ন অংশ৷

বিজেপির লক্ষ্য এ বার পশ্চিমবঙ্গ, এমন দাবি আগেই জানানো হয়েছে৷ তবে, এ রাজ্যের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগামী বছর রয়েছে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন৷ এই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাতে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়া যায়, তার জন্য বিজেপির প্রচেষ্টা জারি রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে৷ এ দিকে, এ রাজ্যের সাম্প্রতিক ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধী দলগুলির মধ্যে বিজেপির প্রার্থী সংখ্যাই বেশি ছিল৷ এবং, এই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বিজেপির বিভিন্ন অংশে প্রত্যাশার পারদও চড়ছে৷

ধারা বজায় রেখে, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরে মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনেও বিজেপির ভোট বেড়েছে৷ যদিও, খোদ বিজেপিরই এক নেতার কথায়, ‘‘সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনে বিজেপির ভোট বেড়েছে ঠিকই৷ কিন্তু, এ রাজ্যের সাধারণ মানুষ এখনও বিজেপিমুখী হয়ে ওঠেননি৷ সাধারণ মানুষ বিজেপিমুখী হয়ে না উঠলে, এ রাজ্যে সরকার গঠন সম্ভব নয়৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ৪০ হাজার৷ এই কেন্দ্রে ২০১৬-য় বিজেপি পেয়েছিল ১৪ হাজার ভোট৷ আর, ২০১৬-য় তৃণমূল কংগ্রেস ৮০ হাজার ভোট পেলেও, উপনির্বাচনে পেয়েছে এক লক্ষ ২০ হাজার ভোট৷’’

- Advertisement -

শুধুমাত্র এমনও নয়৷ বিজেপির এই নেতা বলেন, ‘‘মহেশতলার উপনির্বাচনে বিজেপির ভোট বেড়ে ৪০ হাজার হয়েছে৷ আর, তৃণমূল কংগ্রেস ৪০ হাজার ভোট বেশি পেয়েছে ২০১৬-র তুলনায়৷’’ এমনই তথ্যের ভিত্তিতে বাস্তবে কোন দলের ভোট বাড়ছে, সেই বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি৷ কিন্তু, বিজেপির ভোটও তো বাড়ছে…৷ এই নেতা এমনই জানিয়েছেন, বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন দলের যাঁরা আর সংশ্লিষ্ট দলে সেভাবে সুবিধা করতে পারছেন না, তাঁরা আশায় ভর করে বিজেপিতে ভিড়ছেন৷ এই কারণে বিজেপির ভোট বাড়ছে৷ তবে, এ ভাবে ভোট বৃদ্ধির মাধ্যমে বিজেপির পক্ষে লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে সম্ভব নয় বলেও তিনি জানিয়েছেন৷

তবে, তিনি একাও নন৷ ভোট বাড়লেও এ রাজ্যের সাধারণ মানুষ যে এখনও বিজেপিমুখী হয়ে ওঠেননি, এমনই বলছে খোদ গেরুয়া শিবিরেরই বিভিন্ন অংশ৷ এর ব্যাখ্যা হিসাবে বিজেপির ওই সব অংশে এমন চর্চাও চলছে, রুটি-রুজির জন্য এ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষ স্থানীয় নেতৃত্বের উপর নির্ভরশীল৷ পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি দীর্ঘ বছর ধরেই চলছে৷ এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে শাসকদলের বিকল্প হিসাবে অন্য কোনও দলকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে, সেই দল এবং তার নেতৃত্বের আচরণ, কর্মকাণ্ডকে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেন সাধারণ মানুষ৷

কিন্তু, সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসাবে বিজেপি উঠে এলেও আমজনতার কাছে যে সেভাবে গ্রহণযোগ্যতা এখনও গড়ে ওঠেনি, এমন চর্চা শুধুমাত্র আবার গেরুয়া শিবিরেরই বিভিন্ন অংশ নয়৷ ওয়াকিবহাল মহলেরও বিভিন্ন অংশের তরফে এমনই জানানো হয়েছে৷ কিন্তু, খোদ দলেরই বিভিন্ন অংশে জারি থাকা এমনই চর্চার বিষয়ে কী বলছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ? এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তবে, তাঁর কোনও বক্তব্য মেলেনি৷

Advertisement
---