সংসদে প্রবেশ ও প্রস্থানে ‘নির্দল’ ছিলেন সোমনাথ

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর তাঁকে দল মত নির্বিশেষে প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে ৷ যেন মৃত্যুর পর তিনি হয়ে উঠলেন কোনও বিশেষ দলের নন৷ আবার ঘটনাচক্রে এই নেতার সংসদে প্রবেশ ও প্রস্থানে ‘নির্দল’ হয়েই৷

তাঁকে বহিষ্কার নিয়ে একদশক আগে উত্তাল হয়ে উঠেছিল দেশের রাজনীতি৷ পার্টি লাইনের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি যেভাবে স্পিকার পদের নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছিলেন, তা প্রশংসিত হয়েছিল সর্বত্র৷ তাই তখন সিপিএমের সেই সিদ্ধান্তকে হঠকারী বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন অনেকেই৷

আরও পড়ুন: বিরাট মোহভঙ্গে নেতা ধোনিতে আস্থা অনুরাগীদের

- Advertisement -

যদিও প্রকাশ কারাটদের সেই সিদ্ধান্ত সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে তৈরি করে দিয়েছে এক অদ্ভুত সমাপতন৷ ভারতীয় গণতন্ত্রের মন্দিরে প্রথম যেদিন তিনি প্রবেশ করেছিলেন সেদিনও তিনি ছিলেন নির্দল সাংসদ৷ আর যেদিন শেষবার সাংসদ হিসেবে সংসদ থেকে বেরিয়েছেন, সেদিনও তিনি ছিলেন নির্দল সদস্য৷

১৯৭১ সালে প্রথমবার সাংসদ হয়েছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়৷ তাঁর বাবা নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণের পর বর্ধমান লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়েছিলেন তিনি৷ কোনও দলের হয়ে নয়৷ লড়াই করেছিলেন নির্দল প্রার্থী হিসেবে৷ জিতে প্রথমবার সাংসদ হয়েছিলেন৷

আরও পড়ুন: থুতু উপরে ছুঁড়লে নিজের গায়েই পড়ে, বুঝল সিপিএম

তবে সেবার তিনি ভোটের লড়াইয়ে সমর্থন পেয়েছিলেন বামেদের৷ কারণ, তার অনেক আগে থেকেই তিনি সিপিএমের সদস্য৷ এর পর ন’বার তিনি জিতেছেন৷ মাঝে একবারই তাঁকে হারতে হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে৷ প্রতিবারই তিনি জিতেছেন সিপিএমের হয়ে৷ তাঁকে জেতাতে কাস্তে-হাতুড়ি-তারাতেই ছাপ দিয়েছেন জনগণ৷

শেষবার ২০০৪ সালেও সেভাবেই জিতেছেন৷ প্রথমে প্রোটেম স্পিকার৷ তার পর স্পিকার হিসেবে পদে ছিলেন পাঁচবছর৷ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব সামলেছেন৷ সিপিএম যখন ইউপিএ সরকার থেকে সমর্থন তুলে নিল, তখন তাঁকেও স্পিকার পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল৷ কিন্তু তিনি কান দেননি৷ বরং নিজের আদর্শে অবিচল থেকে রক্ষা করেছেন স্পিকার পদের গরিমা৷

আরও পড়ুন: দেবের টিশার্ট পরে ভাইরাল রুক্মিনী

আর সেই কারণেই তিনি শেষ দেড়বছর নির্দল হিসেবেই থেকে গিয়েছেন৷ সেই কারণেই শুরুর মতো শেষেও তিনি ছিলেন নির্দল সাংসদ৷

Advertisement ---
---
-----