বাজেট অধিবেশনে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটাল শাসক-বিরোধী

স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: আশঙ্কাই সত্যি হল। সোমবার বিকেলে হাওড়া পুরসভায় বাজেট বিতর্ক চলাকালীন ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের কাউন্সিলদের মধ্যে ধুধুন্মার কাণ্ড ঘটে গেল৷ পরষ্পরের মধ্যে বচসায় জড়িয়ে পড়লেন তাঁরা। এই নিয়ে পুরসভার অধিবেশন কক্ষে তুমুল হৈ-হট্টগোল শুরু হয়ে যায়।

গত ২৩ মার্চ পুরসভায় মেয়র যে বাজেট ভাষণ পেশ করেছিলেন তা নিয়ে সোমবার বাজেট বিতর্ক হওয়ার কথা ছিল। সেইমতো অধিবেশন কক্ষে পুরসভার চেয়ারম্যান অরবিন্দ গুহের পৌরোহিত্যে সভা শুরু হয়৷

শুরুতেই বলার সুযোগ দেওয়া হয় বিজেপি কাউন্সিলর অনিতা সিংকে। তিনি প্রথমেই এই বাজেটের তীব্র বিরোধিতা করলে পাল্টা প্রতিবাদ জানান তৃণমূল কাউন্সিলররা। চিৎকার চেঁচামেচিতে সভাকক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদ জানিয়ে অনিতা সিং ও গীতা রাই দুই বিজেপি কাউন্সিলর বাজেট ভাষণের কপি সভাকক্ষের মধ্যেই ছিঁড়ে ফেলেন। তাঁরা কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।

- Advertisement -

এরপর একে একে বাণী সিংহরায়, দেবাংশু দাস, অরুণ রায়চৌধুরী, ভাস্কর ভট্টাচার্য, তফজিল আহমেদ, শ্যামল মিত্র, সৈকত চৌধুরী, বলরাম ভট্টাচার্য, গৌতম দত্ত, কৈলাশ মিশ্র, নাসরিন খাতুন, গৌতম চৌধুরী, দিব্যেন্দু মুখোপাধ্যায়, রিওয়াজ আহমেদ, বিভাস হাজরা প্রমুখ তৃণমূল কাউন্সিলররা বাজেটের পক্ষে মত পোষণ করে ভাষণ দেন।

মাঝে বাজেট বিতর্কে বলার সুযোগ দেওয়া হয় সিপিএম কাউন্সিলর আসরফ জাভেদকে। তিনি বলতে উঠলে ফের হই চই শুরু হয়। এরপর দুই বাম কাউন্সিলর সভা ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসে বাজেট ভাষণের কপি পুড়িয়ে দেন। পাশাপাশি, বাজেট বিতর্কে বিজেপি কাউন্সিলরদের বলতে দেওয়া হয়নি এই অভিযোগে হাওড়ায় পুরসভার গেটের সামনে বিজেপি বিক্ষোভ দেখায়। রাস্তা অবরোধ করে তারা।

বিজেপির দুই কাউন্সিলারকে বলতে না দেওয়ার অভিযোগে হাওড়া পুরসভার প্রধান ফটকের সামনে ধর্নায় বসেন বিজেপি কর্মীরা। বন্ধ গেটের সামনেই রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি কাউন্সিলর ও সমর্থকরা। অভিযোগ, ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার কৈলাস মিশ্র বালির কিছুটা অংশে বেশ কিছু বাকি থাকা কাজের কথা বলতে গেলে তাঁকেও বলতে বাধা দেন।

পরে জবাবী ভাষণে মেয়র জানান, আগামীদিনে ফের ক্ষমতায় এলে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে৷ বিরোধীদের সভাকক্ষ ত্যাগের তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন, ‘‘শুধুমাত্র ১৩নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তার উন্নয়নে খরচ হয়েছে সাড়ে পাচ কোটি টাকা। ১৭নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তার জন্যে খরচ হয়েছে ১কোটি ৮০লক্ষ টাকা, আলোর খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১কোটি টাকা, ৪৬নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা খাতে ৭কোটি ২২লক্ষ টাকা, আলোর খাতে ১কোটি টাকারও বেশি।’’ অধিবেশন শেষে ধ্বনিভোটে পাস হয় ২০১৮-২০১৯ আর্থিক বর্ষের ব্যয় বরাদ্দের এই বাজেট।

Advertisement ---
---
-----