স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষাকে নিয়ে যে বিতর্ক ও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে গতকাল রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছিলেন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস ও সহ উপাচার্য প্রদীপ ঘোষ৷ রাজ্যপাল উপাচার্যের কাছে গোটা ঘটনাটির রিপোর্ট চান৷

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সেই রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যপালের কাছে৷ রিপোর্ট দেখে রাজ্যপাল যে নির্দেশ দেবে তা মেনেই পদক্ষেপ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷

আরও পড়ুন: রোজরাতে শহরের অভিজাত এলাকায় বসত মধুচক্রের আসর

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বছরে ভরতি প্রক্রিয়া শুরু হতেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়৷ হবে কী হবে না, এই ধন্ধের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নেয় এই বছর প্রবেশিকা পরীক্ষা হবে না৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন পড়ুয়া থেকে অধ্যাপক সকলেই৷

এমনকী, ভরতি প্রক্রিয়া বয়কট করেন কলা বিভাগের বাংলা, ইংরেজি, তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপকরা৷ কলা বিভাগের সঙ্গে পা মেলায় বিজ্ঞান বিভাগও৷ তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে যাদবপুরের অধ্যাপক সংগঠন জুটার পক্ষ থেকেও৷

পড়ুয়ারা অবস্থান বিক্ষোভের পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন শুক্রবার রাত ১১টা থেকে৷ এই পরিস্থিতিতে এখন রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ জানা গিয়েছে, গোটা বিষয়টি রাজ্যপাল দেখছেন৷

আরও পড়ুন: বাজেট নিয়ে বিবাদে কর্ণাটকের দুই জোট শরিক

ছাত্রদের দাবি দাওয়া নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে৷ এই মর্মে শনিবার অনশন তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের কাছে একটি চিঠি দেন উপাচার্য৷ তাঁদের কাছ থেকে সোমবার পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়৷ কিন্তু, আন্দোলনকারীরা সেই সময় দেয়নি বলে জানা গিয়েছে৷

উপাচার্যের চিঠির প্রত্যুত্তরে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের তরফ থেকে একটি পাল্টা চিঠি দেওয়া হয় উপাচার্যকে৷ চিঠিতে তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁরা অনশন প্রত্যাহার করবেন না৷ পড়ুয়াদের দাবি, আগামীকাল দুপুর ১২টার মধ্যে জরুরী কর্মসমিতির বৈঠক ডাকতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে৷

আরও পড়ুন: কেষ্টর জেলায় পরপর দু’দিনে দুই তৃণমূল নেতার উপর হামলা

অন্যদিকে, উপাচার্যের পর রাজ্যপালের দারস্থ হতে চায় জুটা ও আন্দোলনকারী পড়ুয়ারাও৷ জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই আচার্যের সঙ্গে দেখার করার ইচ্ছা প্রকাশ করে রাজ্যপালের অফিসে একটি ই-মেইল করা হয়েছে৷ আন্দোলনকারী পড়ুয়ারাও রাজ্যপালের কাছে নিজেদের দাবি দাওয়া জানাতে যেতে পারেন৷

তবে, আপাতত রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের দিকেই চেয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, তাঁরা রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই পদক্ষেপ নেবেন৷ রাজ্যপাল যদি চান, তাহলে কর্মসমিতির বৈঠক ডাকা হবে৷

আরও পড়ুন: জয়াকে অপসারণের সিদ্ধান্ত কি তবে প্রত্যাহার করবে দল?

অন্যদিকে, শনিবার যে ২০ জন পড়ুয়ারা অনশনে বসেছে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে চিকিৎসকদের ডেকে পাঠিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়৷ সেই চিকিৎসকরা এসে অনশনকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যান৷

এ ছাড়া, প্রবেশিকা পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনকারী পড়ুয়া, অধ্যাপকদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতি হতে ইচ্ছুক কিছু পড়ুয়া৷ জানা গিয়েছে, ১২ জন ভরতি হতে ইচ্ছুক, এমন পড়ুয়া প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে ভরতিকে সমর্থন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন৷

তাঁদের দাবি, ভরতি প্রক্রিয়ায় প্রবেশিকা পরীক্ষা চালু থাকুক। নম্বরের ভিত্তিতে নয়, প্রবেশিকা পরীক্ষার ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ভরতি করুক। যদিও, ভরতি প্রার্থীদের এই কাজকে ভালো চোখে দেখছে না শিক্ষকদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল কলেজ এন্ড ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস অ্যাসোসিয়েশন (ওয়েবকুপা)৷

আরও পড়ুন: তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনে কোনও গোষ্ঠী চলবে না: দোলা

----
--